ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন বামনায় প্রধান শিক্ষিকা লাঞ্ছিত: নির্বাচন স্থগিত মিজানুর রহমান টিপু, বামনা
বরগুনার বামনা উপজেলায় হোগলপাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে (৪ আগস্ট) বৃহস্পতিবার ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা স্থানীয় সংসদ সদস্যের সমর্থকদের হাতে লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি নির্বাচনর স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকালেই লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় প্রধান শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমীন বামনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
অপর দিকে আজ শুক্রবার (৫ আগস্ট) সকালে অভিযুক্ত সভাপতি প্রার্থী মো. আক্তারুজ্জামান সুমন জমাদ্দার প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দ্বায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ এনে আর একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৩৫ নং হোগলপাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠণের লক্ষ্যে ৫ জুন চুড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়। গত ২৭ জুলাই অভিভাবক সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। গত ৩ আগস্ট ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও সহ-সভাপতি পদে নির্বাচনের তারিখ ধার্য্য করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্বাক্ষরিত প্যাডে সবিতা রানীকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য পদে নাম দিয়ে বিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু নির্বাচন চলাকালীন সময়ে সভাপতি প্রার্থী আক্তারুজ্জামান সুমন স্থানীয় সংসদ সদস্যের স্বাক্ষরিত প্যাডে সংশোধিত বিদ্যাৎসাহী সদস্য পদে মুন্নী কবীরের নাম লেখানো কাগজ নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে দাখিল করেন।
এতে বিপাকে পরে যায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ভোটার তালিকা থেকে বিদ্যাৎসাহী সদস্য হিসেবে সবিতা রানীর নাম কর্তন করে মুন্নী কবিরের নাম অন্তর্ভূক্তির জন্য চাপ প্রয়োগ করেন সভাপতি প্রার্থী আক্তারুজ্জামান সুমন। সভাপতি ও সহ-সভাপতি নির্বাচনের দিন নির্বাচনের পূর্ব মূহুর্তে বিদ্যোৎসাহী সদস্যের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি আইনানুগ ভাবে বৈধ না হওয়ায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সাথে বিষয়টি আলোচনা করেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আক্তারুজ্জামান সুমন ও তার কয়েকজন সহযোগি মিলে নির্বাচনে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করেন। তারা নির্বাচনে কর্তব্যরত কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের সাথে অশোভন ও অশালীন আচরণ শুরু করে। এ সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসিমীন তাদের নিবৃত করার চেষ্টা করলে আক্তারুজ্জামান সুমন অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ এবং তাকে লাঞ্ছিত করেন। এমন অবস্থায় ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন প্রিজাইডিং অফিসার স্থগিত ঘোষণা করেন।
লাঞ্ছিত প্রধান শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমীন অভিযোগ করেন, স্কুলে সকলের সামনে অন্যায়ভাবে তিনি লাঞ্চনার শিকার হয়েছেন। এতে তিনি চরম মানসিক ও সামাজিক ক্ষতির সম্মূখীন হন। অভিযুক্তরা নানাভাবে তাকে ভয়ভীতি সহ প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছেন।
তিনি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। প্রতিকার চেয়ে তিনি বামনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। এছাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবরেও তিনি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. আক্তারুজ্জামান সুমন তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাক্ষরিত সংশোধিত বিদ্যোৎসাহী সদস্যের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত না করায় নির্বাচনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সাথে কথার কাটাকাটি হয়েছে।
এ ব্যাপারে নির্বাচনের দ্বায়িত্বে থাকা চালিতাবুনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মো. নূরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি প্রার্থী আক্তারুজ্জামান সুমন জমাদ্দার নির্বাচন চলাকালে প্রধান শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমীনকে লাঞ্ছিত করেছেন। পরবর্তিতে এসব বিশৃংখলা ও ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির নির্বাচন স্থগিত করতে তিনি বাধ্য হন।
বামনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) মো.শাহাবুদ্দিন জনান, ওই শিক্ষিকা বৃহস্পতিবার বিকালে এবং আক্তারুজ্জামান সুমন জমাদ্দার শুক্রবার সকালে বামনা থানায় পৃথক দুটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ |