১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কারকৃত সড়কে নেই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা মিজানুর রহমান টিপু, বামনা
বরগুনা জেলার বামনা উপজেলা শহরের বেহাল সড়কে দীর্ঘ কয়েক বছর ভোগান্তির পর সড়ক সংস্কার কাজ চলছে। তবে শহরে কোন ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না করে এ সড়ক সংস্কার কাজ করায় বর্ষা মৌসুমে সড়কে জলাবদ্ধ হয়ে জনদুর্ভোগের সৃস্টির হওয়ার আশংকা রয়েছে। সেই সাথে সড়কও দ্রুত বেহাল হয়ে পড়বে।
বামনা উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রানলয়ের অর্থায়নে ২০১৬/১৭ অর্থ বছরে বামনা শহরের ৩১৮ মিটার রাস্তা সংস্কার করার জন্য ১৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা ব্যয়ে মেসার্স মামুন কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বেহাল সড়ক সংস্কারের কাজ করছে।
শহরের জামে মসজিদ হতে গোলচত্বর পর্যন্ত সড়ক সংস্কার কাজ চলছে। উল্লেখিত সড়কটি শহরের অতিগুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়ক। তবে এ সড়কের দুই পাশে কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা না রাখায় শহরের পানি ও ময়লা নিষ্কাশনে সমস্যার সৃষ্টি হবে।
এর আগে সংকুচিত ড্রেন থাকলেও নতুন করে সড়ক সংস্কার করতে গিয়ে ওই ড্রেনের ওপর দিয়ে পুরো রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে শহর জলাবদ্ধ হওয়ার আশংকা দেখে দিয়েছে।
গত ২০১৩/১৪ অর্থ বছরে এলজিডির অর্থায়নে প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে অপরিকল্পিত ভাবে বামনা শহরের সড়কের সংস্কার কাজ করা হয়েছিল। সড়কে ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় একবছর যেতে না যেতেই রাস্তাঘাট পুরোনো অবস্থায় ফিরে আসে। বর্তমানে অপরিকল্পিত ভাবে পুনরায় শহরে সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে।
বামনা উপজেলার মূল শহর বিষখালী নদী গর্ভে বিলীণ হওয়ায় নদী হতে এক কিলোমিটার দুরবর্তী স্থানে প্রায় একশ বছর আগে বামনা শহর গড়ে ওঠে। একেবারে অপরিকল্পিত ভাবে এ শহর গড়ে উঠায় শহরের রাস্তাঘাট যেমন সংর্কীণ তেমন উচু নিচু।
শহরের সড়কে দুই পাশে আজ অবদি কোন ড্রেন নির্মান না করায় শহরের অবাঞ্ছিত পানি ও বর্জ্য অপসারণের কোন সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সড়ক গুলো কাদা জলে ডুবে থাকায় শহরবাসী দুর্ভোগ পোহায় । এ সময় জন সাধারণের চলাচল ও বাজারঘাট করা দুঃসাধ্য হয়ে পরে।
শহরের হাসপাতাল সড়কের মেসার্স বুলবুল ফার্মেসীর মালিক মো. মোস্তফা কামাল খান বলেন, এ উপজেলা সদরে রাস্তার দুই পাশে ড্রেনতো দূরে থাক নাগরিক কোন সুবিধা নেই। বর্ষা এলেই শহরের সড়কের জলাবদ্ধতায় শহর বাসী দূর্যোগের মধ্যে থাকে। বামনা উপজেলা সদরের কোথাও কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। ড্রেন নির্মানে প্রশাসনিক কোন উদ্যোগও নেই ।
বামনা বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জসিম উদ্দিন পিন্টু বলেন, বাজারের দুই পার্শ্বের ড্রেন এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার জন্য প্রশাসনে বরাবরে আবেদন জানানোর পরে শুধু মাত্র সদর রোডের দুই পার্শ্বে ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছে কিন্ত সড়কের পানি নিস্কাশনের জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ।
বামনা উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডির) মো. মোশারফ হোসেন জানান, বামনা উপজেলা শহরের সড়কে ড্রেনেজ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় আরসিসি Rcc(rein forcement cement concrete) সড়ক করার জন্য বামনা এলজিইডি থেকে চাহিদা দিলেও কর্তৃপক্ষ কার্পেটিং করার জন্য অনুমোদন দেন। তাই স্লোপিং সিস্টেমে সড়কের কাজ করা হচ্ছে।
সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ |