Current Bangladesh Time
Thursday June ২৫, ২০২৬ ১০:২৯ PM
Barisal News
Latest News
Home » বরিশাল » বাকেরগঞ্জ » বাকেরগঞ্জে মিড-ডে মিলের খাবারসহ প্রধান শিক্ষিকা ধরা, ব্যাগে মিলল ২৪ ডিম ও ২২পিস রুটি
২৫ June ২০২৬ Thursday ৯:০০:২৯ PM
Print this E-mail this

বাকেরগঞ্জে মিড-ডে মিলের খাবারসহ প্রধান শিক্ষিকা ধরা, ব্যাগে মিলল ২৪ ডিম ও ২২পিস রুটি


নিজস্ব প্রতিনিধি:

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ২নং চরাদি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ১০নং রানিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেশমা আক্তার মিষ্টির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি ‘মিড-ডে মিল’ (স্কুল ফিডিং) কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত খাবার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল প্রায় ৩টা ৪০ মিনিটে বিদ্যালয় ছুটির পর স্থানীয় এলাকাবাসী তার বহন করা ব্যাগ তল্লাশির দাবি জানায়। একপর্যায়ে ব্যাগ খুলে দেখা হলে সেখানে ২৪টি ডিম ও ২২ পিস রুটি পাওয়া যায়, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রধান শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত ডিমসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী নিয়মিত নিজের বাসায় নিয়ে যেতেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়রা নজরদারি চালিয়ে বিদ্যালয় ছুটির পর তার ব্যাগ খুলে দেখানোর অনুরোধ করেন। প্রথমে তিনি ব্যাগ দেখাতে অনীহা প্রকাশ করলেও স্থানীয়দের চাপে ব্যাগ খুলে দিলে ডিম ও রুটি উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত এলাকাবাসী। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, “সরকার শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে যে খাবার বরাদ্দ দিয়েছে, তা আত্মসাতের অভিযোগ অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত খাবার আত্মসাতের মতো ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

তারা বলেন, “যদি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে এমন অনিয়ম করার সাহস না পায়।”

বিভিন্ন সূত্র দাবী করেছে, ১০নং রানিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেশমা আক্তার মিষ্টির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ বহু পুরানো। বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সহকারী শিক্ষকদের অভিযোগ, মাত্র তিন বছরের দায়িত্বকালেই তিনি বিদ্যালয়টিকে অনিয়মের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছেন। সরকারের ‘মিড ডে মিল’ বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের একটি অংশ নিয়মিত নিজের বাড়িতে নিয়ে যান প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২০১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থীর খাবার আত্মসাত করে প্রধান শিক্ষিকা নিজের ব্যাগে ভরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। এছাড়া প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি কোনো শ্রেণিতে নিয়মিত পাঠদান করেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের ক্লাস নেন শুধুমাত্র সহকারী শিক্ষকরা। কোনো শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেও প্রধান শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে গিয়ে পাঠদান করেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহকারী শিক্ষক বলেন, “হেড ম্যাডাম কোনো ক্লাস নেন না। তিনি অধিকাংশ সময় অফিসকক্ষে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন কিংবা ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন। অফিসের অনেক কাজও আমাদের দিয়ে করিয়ে নেন। শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করা তার নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।”

তিনি টিও স্যারের শালী দাবী করে আমাদের ভয় দেখান। অভিযোগ রয়েছে, গত তিন অর্থবছরে বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দ হওয়া ক্ষুদ্র মেরামত তহবিল, স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ), রুটিন মেরামত এবং প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পরীক্ষা গ্রহণের বিধান থাকলেও গত মে মাসে অনুষ্ঠিত প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীরা টাকা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে। ৫০ টাকা আদায় করা শিক্ষার্থীরা হলেন ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সারা, লাবিবা, আকসা,মরিয়ম, তাসনিম, মারুফা, জুয়েনা, আরিফা, রিয়ামনি, মুনতাসির, তাছিন, জামিল, তায়েবা, সানি, মিম, সায়মা, আফ্রিদি, নাজমিন, তামিম, মারিয়া, বুশরা, শাহারিয়া, তাহসিন, রিফাত, ফাতেমা, খাদিজা, মাহিয়া, সানজিদা, হামিম, লিমনের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে আদায় করেছেন প্রধান শিক্ষিকা রেশমা আক্তার মিষ্টি। একইভাবে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মাবিয়া, আরাফাত, তিসা, রমজান, নাইমা, তাহিম, ইয়াসিন, সুমাইয়া, তাসলিমা, আয়াত, মাহিয়া, জারা, মুসকান, আলিফ, তাকিয়া, তাহনা, সুজন, জাবের নয়ন, ঋদ্ধি। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষিকার নির্দেশে সহকারী শিক্ষকদের মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি বিদ্যালয়ে নানা সুযোগ-সুবিধা থাকলেও প্রধান শিক্ষিকার অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার কারণে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সহকারী শিক্ষিকা হাবিবা সুলতানা বলেন, “বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শ্রেণির পাঠদান সহকারী শিক্ষকদেরই পরিচালনা করতে হয়। প্রধান শিক্ষক সাধারণত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না। শিক্ষক সংকট দেখা দিলেও অনেক সময় তিনি ক্লাসে যান না।”

সহকারী শিক্ষিকা রোজিনা আক্তার বলেন, “অফিসের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজও প্রায়শই সহকারী শিক্ষকদের মাধ্যমে করানো হয়। ফলে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।”

সহকারী শিক্ষিকা হামিদা পারভীন বলেন, “বিদ্যালয়ের পরিবেশ অনেক সময় অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। শিক্ষকরা স্বাধীনভাবে মতামত দিতে পারেন না বলে অনেকেই মনে করেন।”

সহকারী শিক্ষিকা ফেরদৌসি আক্তার বলেন, “প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় আরও ভালো হওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে অনেক দায়িত্ব সহকারী শিক্ষকদের ওপর এসে পড়ে।”

সহকারী শিক্ষিকা রেজোয়ানা কুইন বলেন, “বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সবাই উপকৃত হবে।”

সহকারী শিক্ষিকা সোনিয়া আক্তার বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করা প্রয়োজন। যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া উচিত।”

পিওন মো. বাশার বলেন, “বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজের সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত থাকি। তবে আর্থিক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্তব্য করার অবস্থানে আমি নেই।”

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষিকাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরসহ সরকারি বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত খাবার আত্মসাতের মতো কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতিকে আমরা প্রশ্রয় দিই না।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অনিয়মের অভিযোগে ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কোথাও কোথাও প্রকল্পও বাতিল করা হয়েছে। তাই এ ধরনের অভিযোগকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করব।”

তবে এ সময় তিনি প্রতিবেদকের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আপনি যদি এখনই সংবাদটি প্রকাশ করেন, তাহলে আমার উপজেলার জন্যও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। প্রকল্পটি বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ করছি।”

এ বিষয়ে ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (এটিও) রাবেয়া খানম চৌধুরীর ব্যবহৃত নাম্বারে কল দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেন নি।

বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের নাম্বারে একাধিকবার কল দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেন নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক ::: বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার ২নং চরাদি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ১০নং রানিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রেশমা আক্তার মিষ্টির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি ‘মিড-ডে মিল’ (স্কুল ফিডিং) কর্মসূচির আওতায় বরাদ্দকৃত খাবার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে গিয়ে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল প্রায় ৩টা ৪০ মিনিটে বিদ্যালয় ছুটির পর স্থানীয় এলাকাবাসী তার বহন করা ব্যাগ তল্লাশির দাবি জানায়। একপর্যায়ে ব্যাগ খুলে দেখা হলে সেখানে ২৪টি ডিম ও ২২ পিস রুটি পাওয়া যায়, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রধান শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত ডিমসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী নিয়মিত নিজের বাসায় নিয়ে যেতেন। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়রা নজরদারি চালিয়ে বিদ্যালয় ছুটির পর তার ব্যাগ খুলে দেখানোর অনুরোধ করেন। প্রথমে তিনি ব্যাগ দেখাতে অনীহা প্রকাশ করলেও স্থানীয়দের চাপে ব্যাগ খুলে দিলে ডিম ও রুটি উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগ করেন উপস্থিত এলাকাবাসী। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও আশপাশে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বলেন, “সরকার শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে যে খাবার বরাদ্দ দিয়েছে, তা আত্মসাতের অভিযোগ অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত খাবার আত্মসাতের মতো ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

তারা বলেন, “যদি তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে এমন অনিয়ম করার সাহস না পায়।”

বিভিন্ন সূত্র দাবী করেছে, ১০নং রানিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেশমা আক্তার মিষ্টির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ বহু পুরানো। বিদ্যালয়ের একাধিক অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সহকারী শিক্ষকদের অভিযোগ, মাত্র তিন বছরের দায়িত্বকালেই তিনি বিদ্যালয়টিকে অনিয়মের অভয়ারণ্যে পরিণত করেছেন। সরকারের ‘মিড ডে মিল’ বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের একটি অংশ নিয়মিত নিজের বাড়িতে নিয়ে যান প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২০১ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রতিদিন অসংখ্য শিক্ষার্থীর খাবার আত্মসাত করে প্রধান শিক্ষিকা নিজের ব্যাগে ভরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। এছাড়া প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি কোনো শ্রেণিতে নিয়মিত পাঠদান করেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, তাদের ক্লাস নেন শুধুমাত্র সহকারী শিক্ষকরা। কোনো শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলেও প্রধান শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে গিয়ে পাঠদান করেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সহকারী শিক্ষক বলেন, “হেড ম্যাডাম কোনো ক্লাস নেন না। তিনি অধিকাংশ সময় অফিসকক্ষে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন কিংবা ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন। অফিসের অনেক কাজও আমাদের দিয়ে করিয়ে নেন। শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করা তার নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।”

তিনি টিও স্যারের শালী দাবী করে আমাদের ভয় দেখান। অভিযোগ রয়েছে, গত তিন অর্থবছরে বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দ হওয়া ক্ষুদ্র মেরামত তহবিল, স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ), রুটিন মেরামত এবং প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করেই ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পরীক্ষা গ্রহণের বিধান থাকলেও গত মে মাসে অনুষ্ঠিত প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীরা টাকা দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছে। ৫০ টাকা আদায় করা শিক্ষার্থীরা হলেন ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সারা, লাবিবা, আকসা,মরিয়ম, তাসনিম, মারুফা, জুয়েনা, আরিফা, রিয়ামনি, মুনতাসির, তাছিন, জামিল, তায়েবা, সানি, মিম, সায়মা, আফ্রিদি, নাজমিন, তামিম, মারিয়া, বুশরা, শাহারিয়া, তাহসিন, রিফাত, ফাতেমা, খাদিজা, মাহিয়া, সানজিদা, হামিম, লিমনের কাছ থেকে জনপ্রতি ৫০ টাকা করে আদায় করেছেন প্রধান শিক্ষিকা রেশমা আক্তার মিষ্টি। একইভাবে তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী মাবিয়া, আরাফাত, তিসা, রমজান, নাইমা, তাহিম, ইয়াসিন, সুমাইয়া, তাসলিমা, আয়াত, মাহিয়া, জারা, মুসকান, আলিফ, তাকিয়া, তাহনা, সুজন, জাবের নয়ন, ঋদ্ধি। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষিকার নির্দেশে সহকারী শিক্ষকদের মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করা হয়।

স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, সরকারি বিদ্যালয়ে নানা সুযোগ-সুবিধা থাকলেও প্রধান শিক্ষিকার অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার কারণে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

সহকারী শিক্ষিকা হাবিবা সুলতানা বলেন, “বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শ্রেণির পাঠদান সহকারী শিক্ষকদেরই পরিচালনা করতে হয়। প্রধান শিক্ষক সাধারণত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না। শিক্ষক সংকট দেখা দিলেও অনেক সময় তিনি ক্লাসে যান না।”

সহকারী শিক্ষিকা রোজিনা আক্তার বলেন, “অফিসের বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজও প্রায়শই সহকারী শিক্ষকদের মাধ্যমে করানো হয়। ফলে নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়।”

সহকারী শিক্ষিকা হামিদা পারভীন বলেন, “বিদ্যালয়ের পরিবেশ অনেক সময় অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। শিক্ষকরা স্বাধীনভাবে মতামত দিতে পারেন না বলে অনেকেই মনে করেন।”

সহকারী শিক্ষিকা ফেরদৌসি আক্তার বলেন, “প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় আরও ভালো হওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে অনেক দায়িত্ব সহকারী শিক্ষকদের ওপর এসে পড়ে।”

সহকারী শিক্ষিকা রেজোয়ানা কুইন বলেন, “বিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সবাই উপকৃত হবে।”

সহকারী শিক্ষিকা সোনিয়া আক্তার বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা করা প্রয়োজন। যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া উচিত।”

পিওন মো. বাশার বলেন, “বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজের সঙ্গে আমি সম্পৃক্ত থাকি। তবে আর্থিক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে মন্তব্য করার অবস্থানে আমি নেই।”

এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষিকাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরসহ সরকারি বিধি অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত খাবার আত্মসাতের মতো কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতিকে আমরা প্রশ্রয় দিই না।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়ন করছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অনিয়মের অভিযোগে ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কোথাও কোথাও প্রকল্পও বাতিল করা হয়েছে। তাই এ ধরনের অভিযোগকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করব।”

তবে এ সময় তিনি প্রতিবেদকের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আপনি যদি এখনই সংবাদটি প্রকাশ করেন, তাহলে আমার উপজেলার জন্যও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। প্রকল্পটি বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিষয়টি বিবেচনা করার অনুরোধ করছি।”

এ বিষয়ে ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (এটিও) রাবেয়া খানম চৌধুরীর ব্যবহৃত নাম্বারে কল দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেন নি।

বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল বলেন, ঘটনা সত্য হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হবে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
নকল আর হচ্ছে না, এখন লক্ষ্য শিক্ষার মানোন্নয়ন: বরিশালে শিক্ষামন্ত্রী
বরিশালের এমপিরা চার দাবিতে একাট্টা
বরিশালের উন্নয়নে বাজেট বরাদ্দ নেই, সংসদে এমপি’র ক্ষোভ
বরিশালের মহাফেজখানায় ঘুসের কারবার
আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বরিশালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মহড়া
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com