Current Bangladesh Time
Tuesday May ২৬, ২০২৬ ৮:৪৭ AM
Barisal News
Latest News
Home » বিশেষ প্রতিবেদন » ভোলা » ভোলায় বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত, তবু লোডশেডিং
২৯ April ২০২৪ Monday ৫:৩১:৩৭ PM
Print this E-mail this

ভোলায় বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত, তবু লোডশেডিং


ভোলা জেলা প্রতিনিধিঃ

ভোলা জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৩০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে বোরহানউদ্দিনে দুটি কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট থেকে বর্তমানে ৩৫০ মেগাওয়াট ও জেলা সদরের রেন্টাল প্লান্ট ভেনচার এনার্জি রিসোর্স থেকে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। চাহিদার চেয়ে উৎপাদন ক্ষমতা বেশি থাকলেও লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। চলমান তাপদাহে তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের যাওয়া-আসা।

দুটি রেন্টাল প্ল্যান্ট বন্ধ, ট্রান্সফরমার বিকল, গ্রিড সাবস্টেশন ও টেকসই সঞ্চালন লাইনের অভাবে এ অবস্থা বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। এর পরও গ্রিড সাবস্টেশন নির্মাণের জন্য জেলা সদরের চরসমাইয়া ও চরফ্যাসনে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি জমি অধিগ্রহণ করে বালু ফেলে রেখেছে।

ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ বলছেন, রেন্টাল প্লান্ট বন্ধ হওয়ার পর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের সোর্স লাইন দিয়ে বোরহানউদ্দিন থেকে বিদ্যুৎ আনা হচ্ছে। সঞ্চালন লাইনের দূরত্ব বেশি হওয়ায় চাহিদা মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। ঝড়বৃষ্টিতেও অনেক সময় লাইন বিচ্যুতি হচ্ছে। এ ছাড়া বোরহানউদ্দিন প্লান্টের একটি নষ্ট। এসব কারণে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত গ্রিড সাবস্টেশন নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেন এ কর্মকর্তা।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মো. ইছাহাক আলী জানান, বিদ্যুতের ঘাটতি কমাতে দ্রুত রেন্টাল প্লান্ট সংস্কার করা প্রয়োজন।
জেলার ৪ লাখ ৮০ হাজার গ্রাহকের জন্য চাহিদা রয়েছে ১৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের। প্রয়োজনীয় সরবরাহ না পাওয়ায় প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ মেগাওয়াট ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। এ ঘাটতি পূরণ করতে গিয়ে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত চলছে ঘন ঘন লোডশেডিং। ফলে চলমান তাপদাহের মধ্যে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য।
ভোলার শাহবাজপুর কূপের গ্যাস দিয়ে বোরহানউদ্দিনে ২২৫ মেগাওয়াটের দুটি কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট থেকে বর্তমানে ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। জেলা সদরের ভেনচার এনার্জি রিসোর্স লিমিটেড সাড়ে ৩৪ মেগাওয়াট রেন্টাল প্লান্টে উৎপাদন হতো ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। রেন্টাল থেকে পাওয়া বিদ্যুৎ দিয়ে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জেলা শহর ও সদর উপজেলার একাংশের অর্ধলক্ষাধিক গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। অন্য উপজেলায় সরবরাহ হতো বোরহানউদ্দিনের প্লান্ট থেকে। বোরহানউদ্দিনের অবশিষ্ট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে হয়ে চলে যায় দক্ষিণাঞ্চলের অন্যান্য জেলায়। কিন্তু গত ২৫ জানুয়ারি সদরের রেন্টাল বিদ্যুৎ প্লান্টের দুটি ইউনিট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়ায় বোরহানউদ্দিনের বিদ্যুৎ প্লান্ট। কিন্তু বোরহানউদ্দিনের দুটি ট্রান্সফরমারের একটি ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে নষ্ট। বর্তমানে ৯০ মেগাওয়াটের ধারণ ক্ষমতার একটি ট্রান্সফরমার দিয়ে জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু চাহিদার চেয়ে ৩০ মেগাওয়াট সরবরাহ কম পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া গ্রিড সাবস্টেশন না থাকায় ৪০ কিলোমিটার দুরের সোর্স থেকে আনা বিদ্যুৎ বিতরণ করতে গিয়েও নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বিতরণকারী সংস্থাগুলোকে। তাই বিতরণ কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিচ্ছে।

ওজোপাডিকো সূত্র জানায়, জেলা সদরে ২০ মেগাওয়াট, বোরহানউদ্দিন ও চরফ্যাসনে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে ২০ থেকে ২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এ ছাড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৯১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে তারা বোরহানউদ্দিন প্লান্ট থেকে ৬৮ থেকে ৭০ মেগাওয়াট ও রেন্টালের একটি ইউনিট থেকে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছে। এতেও ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
ভোলার চর সামাইয়া ইউনিয়নের শান্তিরহাট ব্রিজ বাজারের ব্যবসায়ী মো. ফরিদ জানান, গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লোডশেডিংও বেড়ে গেছে। আধাঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে দুই ঘণ্টা অন্ধকারে থাকতে হয়। সামান্য বাতাসেই বিদ্যুৎ উধাও হয়ে যায়। ঝড়বৃষ্টি হলে ২-৩ দিন পর বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। বিদ্যুৎভিত্তিক যেসব ব্যবসা আছে সেগুলো প্রায় বন্ধের পথে।
চর সামাইয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাহক মিজানুর রহমান, মিরাজ ও আবদুল মতিন জানান, দিনে ৭-৮ বার লোডশেডিং করছে পল্লী বিদ্যুৎ। সারারাতে ২ ঘণ্টার মতো বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
ভোলা বিসিক শিল্পনগরীর উদ্যোক্তা জামাল খান জানান, তার কারখানার উৎপাদন ১০ ভাগ কমে গেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে লোকসান গুনতে হবে মিল-কারখানার মালিকদের।
কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. সুলাইমান বলেন, ভোলা থেকে জাতীয় গ্রিডের মাধ্যমে অন্যান্য জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে। অথচ স্থানীয় গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। তিনি দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানান।
জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান জানান, সমস্যা সমাধানের জন্য সাড়ে ৩৪ মেগাওয়াট রেন্টাল প্লান্টটি সচল করতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। গ্রিড সাবস্টেশন দ্রুত নির্মাণের জন্যও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
ছাত্রদল নেতাদের বাধা: ফের আটকে গেল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক নির্মাণকাজ
বরিশালে রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে হাতাহাতি, কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা
বিপজ্জনক ৩৮ বাঁকে নিত্য দুর্ঘটনা: মৃত্যুফাঁদের মহাসড়কে দক্ষিণের ঈদযাত্রা
সাবেক এমপি ও আ,লীগ নেতা ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন
বরিশালে প্রাথমিকের সাড়ে ৬ হাজার পদ শূন্য
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com