সরকার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ক্রমে অস্থিরতা বাড়ছে বরিশাল বিএনপিতে। বিভাগীয় শহরে দলটির বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী ও অনুসারীদের বিরুদ্ধে সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা দখল এবং দাপটে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। নগরে বাজার, টার্মিনাল ও পুকুর দখল এবং সরকারি দপ্তরে হুমকি-ধমকির অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক নেতার অভিযোগ, নগর বিএনপির তিন সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি দলের শৃঙ্খলা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। যদিও কেন্দ্র থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে ৩১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটির তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বহু আগে।
জানা গেছে, ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই নগরের ব্রাউন কম্পাউন্ডে পুকুর দখল করার অভিযোগে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিনের দলীয় পদ স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া গত এক সপ্তাহে বরিশাল কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল দখলে নিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় শীর্ষ এক নেতার ভাই। তিনি এর আগেও এই বাস টার্মিনালের দখলদারি করেছেন বলে একাধিক শ্রমিকনেতা জানিয়েছেন। রূপাতলী বাস টার্মিনাল নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন নগর বিএনপির এক নেতা। সেখানে আওয়ামী লীগের কয়েকজনকে নিয়ে কমিটিও করা হয়। এ ছাড়া নগরের লঞ্চঘাট কাঁচাবাজারও কয়েক দিন আগে দখল করেছেন স্থানীয় ওয়ার্ড নেতারা। এমনকি চলতি সপ্তাহে ফরিয়াপট্টিতে আড়তঘর দখলে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নগর বিএনপির এক শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে।
মহানগর বিএনপির সাবেক বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘সাংগঠনিক দিক থেকে নগর বিএনপি শিশু পর্যায়ে আছে। সবশেষ যে আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে, তা খুবই দুর্বল। তাদের ওপর কর্মীদের আস্থা নেই।’
হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, দুর্ভাগ্য হলো, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নগর বিএনপির নেতৃত্বে যাঁরা আছেন, তাঁদের লোকজন নগরীতে হাটবাজার, বাস টার্মিনাল, পুকুর, আড়ত দখল করে নিয়েছেন। ৮-১০ দিন আগে নীরবে নথুল্লাবাদ এবং রূপাতলী বাস টার্মিনালও দখল করা হয়। এর আগেও বিএনপির যাঁরা এ বাস টার্মিনাল দখলে নিয়েছিলেন, তাঁরাই এখন এটি দখল করেছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মামলায় ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে বিএনপি-সমর্থিতদেরও আসামি করা হয়েছে।
বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মীরে জাহিদুল কবির জাহিদ বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার ৪৬ বছরেও নগর বিএনপিতে জ্যেষ্ঠদের রাজনীতি করার জায়গা নেই। তিনজনকে দিয়ে দল চালানো যায় না। কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় দলে ক্ষোভ বাড়ছে।’
জানতে চাইলে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, ‘রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আমাদের কানে দখলবাজির কিছু কিছু খবর এসেছে। তবে সব অভিযোগ সত্য নয়। দখলবাজির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। যাঁরা এসব করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন, ‘ভুল করে দু-একজন (বিএনপির সমর্থক) আসামি হতেই পারেন। তাতে বিএনপি কিংবা সাধারণ মানুষের নামও থাকতে পারে। আমরা দেখব, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে জড়ানো হয়েছে কি না।’
মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়া উদ্দিন সিকদার বলেন, বিএনপি আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। শিগগির আহ্বায়ক কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হবে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশালে কিশোর গ্যাংয়ের সশস্ত্র শোডাউন
বরিশালে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন
ভাঙ্গা-কুয়াকাটা রেললাইন প্রকল্প:লাল কালির নম্বরেই বছরের পর বছর পার