Home » নাগরিক মত » “যোগ্য জনপ্রতিনিধি ও সচেতন ভোটার—সময়ের দাবি”
১ March ২০২৬ Sunday ২:১৪:২৭ PM
“যোগ্য জনপ্রতিনিধি ও সচেতন ভোটার—সময়ের দাবি”
ইমন মোল্লা, সম্মানিত পাঠক।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার রাজনৈতিক উচ্চ মহল থেকে শুরু করে সর্বসাধারণের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে স্থানীয় নির্বাচন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে নিজ নিজ অঞ্চলের নাগরিকদের কাছে কী ধরনের গুণসম্পন্ন প্রার্থী প্রয়োজন—সে বিষয়ে মতামত আহ্বান করছেন। কেউ কেউ ব্যক্তিগত পছন্দের বা দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারণাও চালাচ্ছেন। আমি নলছিটি উপজেলার রানাপাশা ইউনিয়নের একজন তরুণ নাগরিক হিসেবে আমাদের জনপ্রতিনিধির মধ্যে যে গুণাবলি প্রত্যাশা করি, তার কয়েকটি বিষয় তুলে ধরছি। বোঝার বয়স থেকে এ পর্যন্ত তিন মেয়াদে দুইজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং আমার ওয়ার্ডের তিনজন ইউপি সদস্যকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, তাঁরা প্রায় সবাই আমাদের প্রত্যাশার পূর্ণ প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি। তাই এবার এমন একজন প্রতিনিধিকে চাই, যিনি সত্যিকার অর্থেই ইউনিয়নের সর্বাত্মক উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন। প্রথমত, তিনি সেবাকে কোনোভাবেই দলীয়করণ করবেন না—যা আমরা অতীতে প্রত্যক্ষ করেছি। তিনি যে দলেরই হোন না কেন, দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে অতিরিক্ত সুবিধা প্রদান করবেন না; বরং সবার জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবেন। দল-মত নির্বিশেষে নিজেকে সবার প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করে স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট থাকবেন। দ্বিতীয়ত, তথাকথিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে স্থানীয় বিচার-সালিশির নামে যে অনিয়ম ও লুণ্ঠনের অভিযোগ শোনা যায়, তা কঠোরভাবে প্রতিরোধে সক্ষম হতে হবে। ইউনিয়নের যোগাযোগব্যবস্থা—রাস্তাঘাট, ব্রিজ ও কালভার্ট—দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের কর্দমাক্ত রাস্তা পেরিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়, যা একটি সভ্য সমাজের জন্য লজ্জাজনক। এই অবকাঠামোগত দুরবস্থার দ্রুত ও কার্যকর সমাধানে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। তৃতীয়ত, ইউনিয়ন পরিষদে নাগরিকসেবা সহজ ও দ্রুততর করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় এনে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সরকার থেকে প্রাপ্ত সহায়তা—টিসিবি, ভিজিডি ও কৃষিপণ্যের বিতরণ—সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গতভাবে সম্পন্ন করতে হবে, যাতে কোনো অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বা অনিয়মের সুযোগ না থাকে। এছাড়া একটি সুস্থ, সচেতন ও শিক্ষিত যুবসমাজ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও জনপ্রতিনিধির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুবসমাজ যেন মাদক, জবরদখল ও ভিন্নমত দমনের মতো অপসংস্কৃতির শিকার না হয়—সে বিষয়ে তাঁকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে। সর্বোপরি, আমরা এমন একজন প্রতিনিধি চাই, যিনি কেবল প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচিত হয়ে জনগণের আস্থা ভঙ্গ করবেন না; বরং নির্বাচিত হওয়ার পরও সর্বদা জনগণের পাশে থেকে তাঁদের সুখ-দুঃখে অংশীদার হবেন। নেতৃত্ব মানে কর্তৃত্ব নয়—নেতৃত্ব মানে দায়িত্ব ও জবাবদিহি। সেই বোধসম্পন্ন একজন জনপ্রতিনিধিই আমাদের ইউনিয়নের ভবিষ্যৎকে আলোকিত করতে পারেন। সবশেষে ভোটারদের প্রতিও একটি বিনীত আহ্বান জানাতে চাই। সামান্য অর্থ, উপহার বা ব্যক্তিগত সুবিধার প্রলোভনে পড়ে যেন আমরা নিজের বিবেক ও ভবিষ্যৎকে বিকিয়ে না দিই। অযোগ্য প্রার্থীকে জেনে-বুঝে নির্বাচিত করার দায় কেবল তাঁর নয়, আমাদেরও। একটি ভুল সিদ্ধান্তের ভার পাঁচ বছর ধরে পুরো সমাজকে বহন করতে হয়। যে প্রার্থী ভোট চাইতে এসে অসাধু উপায় অবলম্বনের চেষ্টা করে, তাকে তখনই চিনে নিতে হবে—সততার পথে যার আস্থা নেই, ক্ষমতায় গিয়েও সে স্বচ্ছতার পথ অনুসরণ করবে—এমন প্রত্যাশা করা কঠিন। যে ব্যক্তি জয়ের জন্য অনৈতিকতার আশ্রয় নেয়, নির্বাচিত হওয়ার পরও সেই প্রবণতা থেকে সরে আসবে—এ বিশ্বাস করার মতো সরলতা আমাদের আর থাকা উচিত নয়।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)