Home » পটুয়াখালী » বাউফল » জেলেপ্রতি ৫ কেজি কম, বাউফলে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ,সরকারি বরাদ্দ ৮০ কেজি, হাতে মিলছে ৭৫
২৫ April ২০২৬ Saturday ৮:০৪:০৮ PM
জেলেপ্রতি ৫ কেজি কম, বাউফলে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ,সরকারি বরাদ্দ ৮০ কেজি, হাতে মিলছে ৭৫
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় কর্মহীন জেলেদের জন্য সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির চাল বিতরণে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী দুই মাসে জেলেপ্রতি ৮০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নে ৭৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ছাড়া পরিবহন খরচের নামে টাকা আদায়, প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করা, বরাদ্দ পাওয়ার দুই মাস পর চাল বিতরণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারের অনুপস্থিতিতে চাল বিতরণের অভিযোগও উঠেছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ও শনিবার (২৫ এপ্রিল) চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চাল বিতরণের সময় এসব অভিযোগ সামনে আসে। স্থানীয় জেলে, মৎস্য বিভাগ ও ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ইলিশ অভয়াশ্রম তেঁতুলিয়া নদীতে মার্চ ও এপ্রিল মাসজুড়ে মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। এ সময়ে নিবন্ধিত জেলেদের সহায়তায় সরকার মাসে ৪০ কেজি হিসেবে দুই মাসে ৮০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়। বাউফল উপজেলায় ৬ হাজার নিবন্ধিত জেলের জন্য মোট ৪৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়। এর মধ্যে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৫৫ জন জেলের অনুকূলে ১১৬ দশমিক ৪০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতেই ওই চাল বিতরণ হওয়ার কথা থাকলেও তা বিলম্বিত হয়ে দুই মাস পর গত শুক্রবার ও শনিবার ৪, ৫, ৬, ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ১ হাজার ২০০ জেলের মধ্যে বিতরণ করা হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, দুজন জেলেকে ৫০ কেজির তিন বস্তা, অর্থাৎ মোট ১৫০ কেজি চাল দেওয়া হচ্ছে। অথচ সরকারি হিসাব অনুযায়ী দুজনের প্রাপ্য ছিল ১৬০ কেজি। সে হিসাবে প্রতিজন জেলে ৫ কেজি করে কম পেয়েছেন। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে নান্নু মিয়া বলেন, “আমাগো দুই মাসে ৮০ কেজি চাউল পাওনের কথা। কিন্তু দিছে ৭৫ কেজি। বাকি চাউল নাকি অন্যদের দিবে।” ৪ নম্বর ওয়ার্ডে পরিবহন খরচের কথা বলে জেলেদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউপি সদস্য মো. জসিম হোসেনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে তার আত্মীয়স্বজনদের চাল দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ভুক্তভোগী জেলে হেলাল হাওলাদার বলেন, “জসিম মেম্বার প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়া নিজের ভাই-স্বজনদের চাল দিছে। তারা কেউ জেলে না।” তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য জসিম হোসেন বলেন, “যে চাল কম দেওয়া হয়েছে, তা অন্য জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। টাকা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।” অন্যদিকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য অনুপস্থিত থাকায় সংরক্ষিত নারী সদস্যের স্বামী রিপন খান চাল বিতরণ করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় কয়েকজন জেলে দাবি করেন, সেখানে প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে ব্যবসায়ী, কৃষক ও মোটরসাইকেল চালকদের চাল দেওয়া হয়েছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে রিপন খান বলেন, “যাদের নাম তালিকায় ছিল, তাদেরই চাল দেওয়া হয়েছে।” ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যান অনুপস্থিত থাকায় প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইউপি সদস্য আবুল বশার মৃধা। অভিযোগ রয়েছে, তার সিদ্ধান্তেই জেলেপ্রতি ৫ কেজি করে চাল কম দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আবুল বশার মৃধা বলেন, “বরাদ্দের তুলনায় জেলের সংখ্যা বেশি। তাই ৫ কেজি করে কম দিয়ে বাকি চাল অন্য জেলেদের মধ্যে দেওয়া হচ্ছে।” দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা বিআরডিবি কর্মকর্তা বাসুদেব সরকার বলেন, “সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় আমি উপস্থিত থাকতে পারিনি। অন্যদিন চাল বিতরণের প্রস্তাব দিয়েছিলাম।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, “যেটুকু বরাদ্দ, সেটুকুই বিতরণ করতে হবে। ৫ কেজি করে কম দেওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
সাপ্লাই চেইন ভেঙে দেওয়ায় সংকট: গ্রাম পর্যায়ে মিলছে না অকটেন-ডিজেল
শাহবাগে ফের মুখোমুখি শিক্ষক-পুলিশ
বরিশালে ছাত্রদলের কমিটি : পদের আশায় ব্যাচেলর ডজনখানেক নেতা
বরিশালের দুই বাস টার্মিনাল: ইজারার নামে সড়ক থেকে কোটি টাকার চাঁদাবাজি
সংরক্ষিত নারী আসন: বরিশাল বিভাগ থেকে মনোনয়ন পেলেন ৩ নেত্রী