ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কবলে বরিশাল নগরীসহ জেলার ১০ উপজেলা। চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে এক ঘন্টা পর পর এক ঘন্টা করে লোডশেডিং দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়া হচ্ছে। গত দুই দিন ধরে ২৪ ঘন্টা জুড়ে এ অবস্থার কারনে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরী ও জেলার প্রায় সাড়ে আট লাখ গ্রাহক। টানা লোডশেডিংয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছে শিল্পখাত। কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে গিয়ে উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাচ্ছে।
নগরীর সদর রোডের ডায়াগনষ্টিক ল্যাব পরিচালক জাকির হোসেন বলেন, এক ঘন্টা পর পর লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে। জেনারেটর চালিয়ে ব্যবসা চালু রাখাও অসম্ভব হয়ে পড়ছে। জেনারেটর চালু রাখতে ব্যয়ের চেয়ে আয় কম হয়। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া ছাড়াও কোন উপায় নেই।
নগরীর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গৃহবধূ তানিশা ইসলাম বলেন, প্রচন্ড গরমের মধ্যে লোডশেডিংয়ের কারনে স্বাভাবিক জীবন বিপযস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে কোন রকম চললেও সন্ধ্যার পর অসহনীয় হয়ে পড়েছে। সন্তানদের ঠিকমতো পড়াশুনা হচ্ছে। রাতভর লোডশেডিংয়ের কারনে ঘুমানোও যায় না। এভাবে চলতে থাকলে তো সবাই অসুস্থ হয়ে পড়বো।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানী সংকটের কারনে বিদ্যু উৎপাদন কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিড থেকে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে নগর ও গ্রামীণ এলাকায় চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না।
বরিশাল নগরীতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ওজোপাডিকোর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, তাদের ৭০ হাজার গ্রাহকের চাহিদা ৪০ মেগাওয়াট। বর্তমানে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত পাচ্ছেন। যার কারনে এক ঘন্টা করে বিদ্যুত সরবরাহ করে এক ঘন্টা লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে। তার আওতায় প্রায় মধ্যে একই অব্স্থা নগরীর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর ৭২ হাজার গ্রাহক। তারাও এক ঘন্টা পর এক ঘন্টা করে বিদ্যুত পাচ্ছেন।
বরিশাল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর অধীনে পাঁচ উপজেলায় প্রায় সাড়ে তিন লাখ গ্রাহকের বিদ্যুতের চাহিদা ৭৪ মেগাওয়াট। সমিতির জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, চাহিদা অনুযায়ী ৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুত পাচ্ছেন। যার কারনে কম গুরুত্বপূর্ন এলাকায় লোডশেডিং দিয়ে সমন্বয় করা হচ্ছে।
একইভাবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর অধীনে রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার গ্রাহক ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)