Home » পটুয়াখালী » বাউফল » বাউফলে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ইউপি উদ্যোক্তাকে মারধরের অভিযোগ
১৬ June ২০২৬ Tuesday ১১:৩০:১৮ PM
বাউফলে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ইউপি উদ্যোক্তাকে মারধরের অভিযোগ
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
পটুয়াখালীর বাউফলে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) উদ্যোক্তাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সোমবার কয়েকজন ইউপি সদস্যের কাছ থেকে দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এএনএম জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে জোর করে অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরী ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছেন। ইউপি চেয়ারম্যানের শ্যালক হওয়ায় মঙ্গলবার দুপুরে উদ্যোক্তা সাইফুল হাসানকে মারধর করা হয় বলে দাবি করা হয়। একপর্যায়ে তার ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং ইউপি কার্যালয়ের মূল ফটক ও তার অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
সাইফুল হাসান অভিযোগ করে জানান, প্রতিদিনের মতো তিনি মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে নাগরিক সেবা দিচ্ছিলেন। দুপুর ১টার দিকে আলী আজম চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল সেখানে গিয়ে তাকে কক্ষ ছাড়তে বলেন। ইউএনওর অনুমতি ছাড়া তিনি কক্ষ ছাড়বেন না জানালে তাকে মারধর করা হয়। পরে তাকে কিল-ঘুসি মেরে আহত করা হয় এবং তার ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়া হয়।
দাসপাড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম হাওলাদার বলেন, সোমবার বেলা ১০টার দিকে আলী আজম চৌধুরীর নেতৃত্বে ৪০-৪৫ জনের একটি দল কালাইয়া বাজারে তার বাসায় গিয়ে একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বলে। কাগজে কী লেখা আছে জানতে চাইলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের কথা বলা হয়। তিনি স্বাক্ষর দিতে অস্বীকৃতি জানালে জোরপূর্বক তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এ বিষয়ে তিনি ইউএনওর কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
একই ধরনের অভিযোগ করেছেন ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য কুলসুম বেগম। তিনি বলেন, ওই কাগজে স্বাক্ষর করতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। আগের দিন চোখের অস্ত্রোপচারের পর বিশ্রামে থাকায় ভীত হয়ে তিনি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরী বলেন, যা কিছু ঘটেছে, তা ইউপি সদস্যরা করেছেন। কোনো ঘটনার সঙ্গে আমার সংশ্লিষ্টতা নেই। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নাম জড়ানো হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, উদ্যোক্তাকে মারধরের খবর পাওয়া গেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কয়েকজন সদস্যের দেওয়া অনাস্থা আবেদন পাওয়া গেছে। পাশাপাশি দুই ইউপি সদস্যের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)