Home » পটুয়াখালী » বাউফল » ফতুল্লার গ্যাস বিস্ফোরণ: বাউফলে একই কবরস্থানে চিরনিদ্রায় কালাম-সায়মাসহ পাঁচজন
১৬ May ২০২৬ Saturday ২:৪৫:১৫ PM
ফতুল্লার গ্যাস বিস্ফোরণ: বাউফলে একই কবরস্থানে চিরনিদ্রায় কালাম-সায়মাসহ পাঁচজন
বাউফল (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা:
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া সবজি বিক্রেতা মীর কালামের পুরো পরিবার এখন চিরনিদ্রায় শায়িত। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফেরার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে শনিবার সকালে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার উত্তর কনকদিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে। কয়েকদিন আগেই সেখানে দাফন করা হয়েছিল কালামকেও। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উত্তর কনকদিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা মাঠে নিহত গৃহবধূ সায়মা বেগম (৩২), দুই মেয়ে মুন্নি (১০) ও কথা (৪) এবং একমাত্র ছেলে মুন্না’র (৭) জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় পটুয়াখালী-৪ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়-স্বজন ও সহস্রাধিক মুসল্লি অংশ নেন। পরে তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে শনিবার ভোর ৪টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা থেকে চারজনের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের মাতম নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। গ্রামের মানুষ শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় করেন কালামদের বাড়িতে। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ৩০ বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন মীর কালাম (৩৫)। জীবিকার তাগিদে সবজি বিক্রি করতেন তিনি। অল্প আয়ে কষ্টের সংসার হলেও স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে সুখেই দিন কাটছিল তার। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে কালাম ছিলেন দ্বিতীয়। গত রোববার (১০ মে) সকালে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার গিরিধারা এলাকায় ভাড়া বাসায় হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, তিতাস গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ঘরে জমে থাকা গ্যাসে আগুনের সূত্রপাত হয়। বিস্ফোরণে কালাম, তার স্ত্রী ও তিন সন্তান মারাত্মক দগ্ধ হন। দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাষ্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। তবে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে সোমবার প্রথমে মারা যান মীর কালাম। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে মারা যান স্ত্রী সায়মা। একে একে মৃত্যু হয় তাদের তিন শিশুসন্তানেরও। চিকিৎসকদের ভাষ্য, দগ্ধদের শরীরের অধিকাংশ অংশ পুড়ে যাওয়ায় তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। নিহত মীর কালামের ভাই রফিক মিয়া বলেন, “কালাম অনেক কষ্ট করে সংসার চালাইত। পরিবারটাই ছিল তার সব। আগুনে দগ্ধ হওয়ার পর মঙ্গলবার তাকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়। পরে একে একে তার স্ত্রী ও সন্তানরাও মারা গেল। এখন পুরো পরিবারটাই শেষ হয়ে গেল।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালেহ আহমেদ বলেন, একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগীতা করা হবে। কৃষ্ণ কান্ত কর্মকার বাউফল সংবাদদাতা পটুয়াখালী ০১৭১২৬১৮২৯৩ ১৬-০৫-২৬
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
ফ্যামিলি কার্ডের টাকায় নারীর ক্ষমতায়ন তৈরি হবে :গৌরনদীতে তথ্যমন্ত্রী
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: ১৫ বছরে ৭ উপাচার্য, চারজনকেই অপসারণ
বরিশালে বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘর্ষ
শিক্ষকদের আন্দোলনের মধ্যে নতুন উপাচার্য পেল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়