ভোলায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পরও ইজারাবিহীন বাজারে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ
বোরহানউদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার বোরহানউদ্দিনে সরকারি ইজারা না থাকা সত্ত্বেও বাজার থেকে ‘খাজনা’র নামে অবৈধভাবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে সম্প্রতি স্থানীয় এক বিএনপি নেতা পুনরায় অর্থ উত্তোলন শুরু করেছেন।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুজাহিদুর রহমান (২২)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার টবগী ইউনিয়নের নতুন হাকিমউদ্দিন বাজারটি সরকারি ইজারার আওতায় না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে ‘খাজনা’র নামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছিল। এর প্রতিবাদে গত বছরের ১৩ জুন বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে ধরেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুজাহিদুর রহমান। পরদিন, ১৪ জুন বাজারে গিয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের অবৈধ চাঁদা না দেওয়ার আহ্বান জানান।
মুজাহিদুর রহমানের অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের অবৈধ চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীরা তাকে মারধর করে। এসময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। তিনি দাবি করেন, টবগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুহিন ফরাজি মোবাইল কলের মাধ্যমে লোকজন জড়ো করে এ হামলায় নেতৃত্ব দেন।
ঘটনার পর বিষয়টি জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়।
পরবর্তীতে তৎকালীন ইউএনও রায়হানুজ্জামানের নির্দেশে ১৫ জুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান সরেজমিনে বাজার পরিদর্শন করেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের বক্তব্য গ্রহণ শেষে তিনি নিশ্চিত হন যে বাজারটি তখনও সরকারিভাবে ইজারাভুক্ত হয়নি। ফলে ‘খাজনা’র নামে অর্থ আদায় সম্পূর্ণ অবৈধ বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে চাঁদা আদায় বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে অভিযুক্তদের তলব করা হলেও তারা উপস্থিত হননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, হামলার ঘটনার পর বোরহানউদ্দিন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি দানেশ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক তানজিল হাওলাদার এক যৌথ বিবৃতিতে টবগী ইউনিয়ন ছাত্রদলের তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তুহিন ফরাজিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিন চাঁদা আদায় বন্ধ থাকলেও এ বছরের ১৪ এপ্রিল থেকে স্থানীয় আরেক বিএনপি নেতা বাবুল ফরাজির নেতৃত্বে পুনরায় ‘খাজনা’র নামে অর্থ আদায় শুরু হয়েছে। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মুজাহিদুর রহমান ৩০ জুন ইউএনও মনোরঞ্জন বর্মণের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ গ্রহণ করে ইউএনও বিষয়টি তদন্তের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) রঞ্জিত কুমার দাসকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, এই বাজার আওয়ামী লীগের আমল থেকেই দীর্ঘদিন ধরে খাজনা উত্তোলন হতো। কেউ বাধা দেয়নি তাহলে এখন কেন এত অভিযোগ। তাছাড়া এই বাজার টবগী রাস্তার মাথা বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত।
তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং ইজারাবিহীন বাজারে অবৈধ অর্থ আদায় স্থায়ীভাবে বন্ধ করবে।
সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক |