Home » আমতলী » বরগুনা » ছাত্রীদের ওয়াশরুমে ভিডিও ধারণ ও উত্ত্যক্তের অভিযোগ, তদন্তের পরও বহাল তবিয়তে শিক্ষক
১০ September ২০২৬ Thursday ৩:৪৪:০০ PM
ছাত্রীদের ওয়াশরুমে ভিডিও ধারণ ও উত্ত্যক্তের অভিযোগ, তদন্তের পরও বহাল তবিয়তে শিক্ষক
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার আমতলীতে কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ওয়াশরুমে ভিডিও ধারণ, উত্ত্যক্ত ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ ওঠার পর তদন্তে সত্যতা পাওয়ার এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হলেও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে শিক্ষকতা করছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মো. ইকবাল হোসেন রুবেল ২০১০ সালে কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। যোগদানের পর থেকেই ছাত্রীদের সঙ্গে তার অনৈতিক আচরণ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
গত বছরের ২৫ মে ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত এবং ওয়াশরুমের ভিডিও ধারণের অভিযোগ ওঠে শিক্ষক রুবেলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ধারণ করা ভিডিও দেখিয়ে ছাত্রীদের ব্ল্যাকমেইল এবং তাদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন তিনি।
ঘটনাটি জানাজানি হলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। একাধিক ছাত্রী শিক্ষক রুবেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২৭ মে আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মো. মাহমুদ সেলিম বিদ্যালয়ে গিয়ে তদন্ত করেন। তদন্তকালে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও ছাত্রীদের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেন।
তদন্ত শেষে ৩১ জুলাই তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী মো. গোলাম ফারুককে অভিযুক্ত শিক্ষক রুবেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন রুবেলের কর্মকাণ্ড চাকরিবিধি, ১৯৭৯ অনুযায়ী নৈতিক স্খলন ও অসদাচরণের শামিল। তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়।
তবে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার পর এক বছরের বেশি সময় পার হলেও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; বরং তিনি আগের মতোই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। এতে প্রশ্ন উঠেছে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পরও কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক মো. ইকবাল হোসেন রুবেল বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। গত বছর আমার বিরুদ্ধে কী প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে, তা আমার জানা নেই। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী মো. গোলাম ফারুক বলেন, শিক্ষক রুবেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল, এটা সত্য। কিন্তু তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটি তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
কুকুয়া আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মো. কুতুব উদ্দিন তালুকদার বলেন, শিক্ষক ইকবাল হোসেন রুবেলের বিরুদ্ধে এক ছাত্রীর পরিবার অভিযোগ দিয়েছিল। ওই ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। শিক্ষক রুবেল ছাত্রীর অভিভাবকের কাছে ক্ষমা চাওয়ায় তাকে শেষবারের মতো ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। এরপর আবার কোনো অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
এইচ,এস,সি: বরিশালে ১১ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল
বরিশাল বোর্ডে এইচএসসিতে পাসের হার ৪৪.৮৪, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৫০ জন
সুন্দরবনের জলপথে যাঁকে ভরসা করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা, মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়েই বিতর্ক