Home » পাথরঘাটা » বরগুনা » পাথরঘাটায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কবরস্থানের জায়গা দখলের অভিযোগ, লাশ দাফন নিয়ে সংকট
১৬ September ২০২৬ Wednesday ৫:৩৮:০৯ PM
পাথরঘাটায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে কবরস্থানের জায়গা দখলের অভিযোগ, লাশ দাফন নিয়ে সংকট
পাথরঘাটা(বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভার কাজী বাড়ি ৫২ ঘর আবাসনের বাসিন্দাদের জন্য বরাদ্দ করা কবরস্থানের জায়গা দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিন মোল্লার বিরুদ্ধে। গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই প্রভাবশালীরা কবরস্থানের ওই জায়গা দখলের চেষ্টা শুরু করেন বলে অভিযোগ আবাসনের বাসিন্দাদের।
উপজেলা প্রশাসনের তথ্য বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে পাথরঘাটা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে পাথরঘাটা-মঠবাড়িয়া আঞ্চলিক সড়কের পৌরসভার শেষ সীমানায় সরকারি জমির ওপর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে কাজী বাড়ি ৫২ ঘর আবাসন গড়ে তোলা হয়। আবাসনের ৫২টি ঘরে প্রায় ৩০০ মানুষ বসবাস করছেন।
আবাসনের বাসিন্দারা জানান, তাঁদের নিজস্ব জমি-জমা না থাকায় সরকারিভাবে গড়ে তোলা আবাসন প্রকল্পের ঘরে তাঁরা বসবাস করে আসছেন। তাঁদের জন্য কবরস্থানের জায়গাও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে জায়গাটি দখলের চেষ্টা করতে শুরু করে প্রভাবশালী মহল। এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে ভবিষ্যতে মরদেহ দাফন নিয়ে চরম সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানান আবাসনের বাসিন্দারা।
আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে কাজী বাড়ি ৫২ ঘর আবাসনে দেখা যায়, আবাসনের প্রবেশদ্বারের পাশে কবরস্থানের জন্য নির্ধারিত জায়গায় ঘর নির্মাণকাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সাংবাদিকদের জায়গাটি দেখিয়ে দাবি করেন, এটিই তাঁদের জন্য বরাদ্দ করা কবরস্থানের জায়গা। সেখানে ঘর নির্মাণের জন্য বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে। মাটির নিচ থেকে পাকা পিলার নির্মাণ করে স্থাপনা তৈরির কাজও দৃশ্যমান।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, আবাসনের ভেতর চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত রাস্তা নেই। পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। ঘনবসতিপূর্ণ আবাসনের ঘরগুলোর মাঝেও পর্যাপ্ত খালি জায়গা নেই। ফলে কোনো বাসিন্দার মৃত্যু হলে দাফনের জন্য বিকল্প জায়গা খুঁজে পাওয়া কঠিন।
আবাসনের বাসিন্দা খোরশেদ মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার নাতি প্রায় এক বছর আগে মারা যায়। নির্ধারিত কবরস্থানে দাফন করতে চাইলে প্রভাবশালীরা বাধা দেয়। সেখানে দাফন দিতে না পেরে আবাসনের দুটি ঘরের মাঝখানে প্রায় তিন হাত ফাঁকা জায়গায়, বাথরুমের পাশে কোনোমতে তাকে দাফন করতে হয়েছে।’
মো. আলম, আসমা আক্তার ও কুলসুমসহ কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সরকার আমাদের থাকার জন্য ঘর দিয়েছে। কিন্তু এখানে কোনো নিয়মশৃঙ্খলা নেই। আবাসনে কোনো রাস্তা নেই, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও নেই। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরে পানি ঢুকে যায়। এত সমস্যার মধ্যেও এখন মৃত্যুর পর দাফনের জায়গাটুকুও দখল হয়ে যাচ্ছে।’
তাঁরা আরও বলেন, আমাদের নিজস্ব জমি নেই। সরকার যে জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করেছে, সেখানেই জীবনের শেষ সময় কাটাতে চাই। অন্তত মৃত্যুর পর দাফনের জন্য বরাদ্দ জায়গাটুকু যেন দখল হয়ে না যায়—প্রশাসনের কাছে সেটাই আমাদের দাবি।
তবে কবরস্থানের জায়গা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিন মোল্লা বলেন, ‘১৯৯০ সালে সরকার থেকে আমি ৩০ শতাংশ জমি সেটেলমেন্ট নিয়েছি। কিন্তু আমার সেটেলমেন্ট বাতিল না করেই সেখানে আবাসন করা হয়েছে। বিষয়টি আমি তৎকালীন ইউএনওকে জানালে তিনি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু আমাকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। পরে এ নিয়ে হাইকোর্টে রিটও করেছিলাম।’
শাহিন মোল্লা আরও বলেন, ‘এখানে আমার ঘর নির্মাণের ব্যাপারে সার্ভেয়ার ও এসিল্যান্ড অবগত আছেন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল বলেন, ‘সরকারি জমি দখল করার অধিকার কারও নেই। বিষয়টি জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আগের চেয়ে ভালোভাবে দায়িত্ব পালন করছে:বরিশালে সোহেল মঞ্জুর
যেসব কারণে বরিশালের নদ-নদীতে মিলছে না ইলিশ
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর
অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন জরাজীর্ণ: বরিশালে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে ক্লাসে লাখো শিশু