সাগরের নীল জলরাশি, দিগন্তজোড়া আকাশ, সূর্যোদয়-সূর্যাস্ত আর সবুজে ঘেরা উপকূল-প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্যে দেশি পর্যটকদের পাশাপাশি আকৃষ্ট হচ্ছেন বিদেশিরাও। দিন দিন বাড়ছে তাদের আনাগোনা। বিদেশি পর্যটকদের পদচারণায় নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার পর্যটনে, বাড়ছে উপকূলীয় এ পর্যটনকেন্দ্রের ব্যস্ততাও।
আন্তর্জাতিক পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় এই জনপদে সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে গঙ্গামতি, মিনি সুইজারল্যান্ড, লেম্বুর বন, ফাতরার বন, জেলে পল্লী, রাখাইন পল্লী ও বৌদ্ধ মন্দিরসহ নানা দর্শনীয় স্থান। প্রকৃতি ও স্থানীয় জীবনযাত্রার বৈচিত্র্য উপভোগ করতে অনেক বিদেশি পর্যটক এখন কুয়াকাটার প্রত্যন্ত এলাকাতেও ছুটে যাচ্ছেন।
‘বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তারা যে হোটেলে অবস্থান করেন, সেখান থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে আমাদের জানানো হয়। এরপর আমাদের পুলিশ সদস্যরা তাদের নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সেবা দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার ক্ষেত্রে আমরা তাদের প্রশিক্ষিত ও শিক্ষিত গাইডের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিই। দেশি-বিদেশি সব পর্যটকের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে।’
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ও শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কুয়াকাটা সৈকত, মিনি সুইজারল্যান্ড, রাখাইন পল্লী ও লেম্বুর বন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন দেশের বিদেশি পর্যটকরা স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। কেউ মুগ্ধ হয়ে দেখছেন সমুদ্রের ঢেউ, কেউ উপভোগ করছেন নৌপথের সৌন্দর্য। আবার কেউ ঘুরে দেখছেন ম্যানগ্রোভ বন, চরাঞ্চল ও উপকূলীয় জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা।
স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাশিয়া, সুইজারল্যান্ড, নাইজেরিয়া, ভারত, নেপাল, আর্জেন্টিনাসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটক কুয়াকাটায় আসছেন। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তারা শুধু সমুদ্রসৈকতে সীমাবদ্ধ থাকছেন না; ঘুরে দেখছেন উপকূলের নানা দর্শনীয় স্থান ও স্থানীয় জনপদ।
‘কুয়াকাটায় বিদেশি পর্যটকদের আগমন আমাদের পর্যটনশিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি বন, চর, নদী ও স্থানীয় জীবনযাত্রা বিদেশিদের আকৃষ্ট করছে। বিদেশি পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো গেলে এখানে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে।’
বিদেশি পর্যটকদের অনেকেই কুয়াকাটার প্রকৃতি, মানুষের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তায় মুগ্ধ হচ্ছেন। স্থানীয়দের বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ তাদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দময় করে তুলছে। পর্যটনসংশ্লিষ্টদের দাবি, কুয়াকাটার প্রাকৃতিক পরিবেশে মুগ্ধ হয়ে অনেক বিদেশি পর্যটক আবারও এখানে ফিরে আসছেন।
কুয়াকাটা ট্যুর গাইড ও বাইক রাইডার আবু সালেহ বলেন, আমি প্রায় পাঁচ বছর ধরে কুয়াকাটায় আসা বিদেশি পর্যটকদের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে নিয়ে যাচ্ছি। তারা মিনি সুইজারল্যান্ড, লেম্বুর বনসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে খুব আগ্রহী। তারা অনেক বন্ধুসুলভ ও ভালো স্বভাবের মানুষ। কুয়াকাটার প্রাকৃতিক পরিবেশ তাদের এতটাই মুগ্ধ করে যে, অনেকেই কয়েক মাস পরপর আবারও এখানে আসেন।
কুয়াকাটার মিনি সুইজারল্যান্ড এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তারিকুল ইসলাম বলেন, কুয়াকাটায় আসা বিদেশি পর্যটকরা মিনি সুইজারল্যান্ডের প্রাকৃতিক পরিবেশে বেশ মুগ্ধ হন। অনেকে এখানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন এবং খাল ও আশপাশের সৌন্দর্য ঘুরে দেখেন। আমাদের কাছ থেকে ডাব, কলাসহ বিভিন্ন খাবার কিনে খান। তারা খুবই ভালো ব্যবহার করেন। আমরাও তাদের সুন্দরভাবে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি।
হোটেল খান প্যালেসের অপারেশন ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান সাকুর বলেন, আমাদের প্রায় নিয়মিতই দেশি অতিথিদের পাশাপাশি বিদেশি পর্যটকরাও আসেন। বিশেষ করে ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর রাশিয়ান পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল। আমাদের হোটেলে প্রায়ই রাশিয়ান অতিথিরা অবস্থান করেন। বিশেষ করে পূজা, ঈদুল আজহা, ঈদুল ফিতর ও ইংরেজি নববর্ষের সময় বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি থাকে।
তিনি বলেন, আমাদের সুইমিং পুলটি বিদেশি অতিথিদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। পাশাপাশি হোটেলের খাবারের মানও তারা পছন্দ করেন। সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো, আমাদের সেবায় তারা সবসময় সন্তুষ্ট থাকেন। কুয়াকাটার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং আমাদের আন্তরিক আতিথেয়তা তাদের মুগ্ধ করে। বিশ্বমানের সেবা ও ঘরোয়া স্বাচ্ছন্দ্যের সমন্বয়ে অতিথিদের ভালো অভিজ্ঞতা দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।
বিজ্ঞাপন
‘আমি প্রায় পাঁচ বছর ধরে কুয়াকাটায় আসা বিদেশি পর্যটকদের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে নিয়ে যাচ্ছি। তারা মিনি সুইজারল্যান্ড, লেম্বুর বনসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে খুব আগ্রহী। তারা অনেক বন্ধুসুলভ ও ভালো স্বভাবের মানুষ। কুয়াকাটার প্রাকৃতিক পরিবেশ তাদের এতটাই মুগ্ধ করে যে, অনেকেই কয়েক মাস পরপর আবারও এখানে আসেন।’
পর্যটনসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কুয়াকাটার বিশেষত্ব শুধু সমুদ্রসৈকতে সীমাবদ্ধ নয়। সাগর, নদী, বন, চর, জেলে পল্লী, স্থানীয় সংস্কৃতি ও গ্রামীণ জীবনযাত্রার বৈচিত্র্য কুয়াকাটাকে দিয়েছে আলাদা পরিচয়।
বিদেশি পর্যটকদের এই আগমনকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা গেলে পটুয়াখালীর এই উপকূল হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য। যোগাযোগব্যবস্থা, তথ্যসেবা, নিরাপত্তা, আবাসন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আরও উন্নত করা গেলে কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা ছড়িয়ে পড়তে পারে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও।
কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কেএম বাচ্চু বলেন, কুয়াকাটায় বিদেশি পর্যটকদের আগমন আমাদের পর্যটনশিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি বন, চর, নদী ও স্থানীয় জীবনযাত্রা বিদেশিদের আকৃষ্ট করছে। বিদেশি পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো গেলে এখানে আন্তর্জাতিক পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়বে।
টুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের ইনচার্জ মো. নাজমুল হাসান বলেন, বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। তারা যে হোটেলে অবস্থান করেন, সেখান থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে আমাদের জানানো হয়। এরপর আমাদের পুলিশ সদস্যরা তাদের নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সেবা দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখার ক্ষেত্রে আমরা তাদের প্রশিক্ষিত ও শিক্ষিত গাইডের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিই। দেশি-বিদেশি সব পর্যটকের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে টুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশালে সবজির দর অপরিবর্তিত, চড়া মাছের বাজার
বরিশালের নদ-নদীতে ইলিশের দেখা, মা মাছ নিয়ে শঙ্কা