বরিশালে মামলার ফাঁদে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার যানবাহন
বিশেষ প্রতিনিধি:
বরিশালে মামলার ফাঁদে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার যানবাহন। বিভিন্ন সময়ে পুলিশের অভিযানে জব্দ হওয়া যানবাহন নগরীর থানা, পুলিশ ফাঁড়ি ও আদালতে বছরের পর বছর ধরে পরে থাকায় নষ্ট হচ্ছে। একাধিক ভুক্তভোগীর দাবি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে কোনো যানবাহন আটক হলে ভোগান্তির যেন শেষ নেই। এমনকি মামলার আসামি জামিন পেলেও মুক্তি মিলে না যানবাহনের। তাছাড়া গাড়ির মালিকানা যাচাই করতে আদালত নির্দেশনা দেওয়ার পর জিম্মি থাকতে হয় পুলিশ ও বিআরটিএ কর্মকর্তাদের কাছে। টাকা দিলে সেবা মিলে, না হলে বছর ধরে ঘুরাতে থাকে তারা। এসব কারণে অনেক যানবাহন খোলা আকাশের নিচে পরে থেকেই নষ্ট হয়ে যায়।
তবে আদালত সূত্রে জানা যায়, যে কোনো মামলার সঙ্গে যানবাহন জব্দ হওয়ার পর ওই মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যানবাহন তাদের জিম্মায় থাকে। যে কারণে বছরের পর বছর ধরে পরে থাকা এসব যানবাহন নষ্ট হচ্ছে।
সরেজমিন দেখা যায়, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের চারটি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে পরে আছে শতাধিক যানবাহন। সেগুলো হলো-হলুদ অটো, সিএনজি, মাহেন্দ্র, মিনি-পিকআপ, মোটরসাইকেল। এছাড়া বরিশাল আদালতের জিম্মায় বেশকিছু মোটরসাইকেল রয়েছে। বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (নাজির) কামরুল হাসান বলেন, মামলার আসামিদের সঙ্গে থাকা যানবাহনগুলো মামলা নিষ্পত্তি হলে মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়। তাছাড়া যেসব যানবাহনের মালিক পাওয়া যায় না সেগুলো আদালত নিলামে দেয়। বছরে দু-একবার নিলাম দেওয়া হয় বলেও জানান এই কর্মকর্তা। শুধু মেট্রোপলিটন নয়, এই চিত্র জেলা পুলিশেও।
বরিশাল জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাস, ট্রাক, মিনি-পিকআপ, থ্রিহুইলার ও মোটরসাইকেলসহ অর্ধশতাধিক যানবাহন তাদের জিম্মায় আছে। মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার পর মালিকানা বুঝে পাবে যানবাহন মালিক। আর যেসব গাড়ির মালিক খুঁজে পাওয়া যাবে না সেগুলো আদালত নিলামের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করবে। জেলার উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়নের বাসিন্দা মোবারক আলী জানান, ২০১৮ সালে একটি মামলায় তিনি জেলহাজতে যান। ওই মামলা নিষ্পত্তি হলেও তার মোটরসাইকেলটি আজ পর্যন্ত ছাড়াতে পারেনি। কারণ হিসাবে জানান, গাড়ির মালিকানা যাচাই-বাছাইয়ে আটকে আছে তার মোটরসাইকেলটি। এ নিয়ে বরিশাল বিআরটিএ অফিসে বহুবার গেলেও কাজ হয়নি। শেষমেশ গত বছর ওই অফিসের একজন ২০ হাজার টাকা দাবি করেন কাগজপত্র সঠিক দেখাতে। যে কারণে তিনি আর গাড়িটি ছাড়াননি। একই অভিযোগ করেন নগরীর ব্রাউন্ড কম্পাউন্ড এলাকার বাসিন্দা জুম্মান হোসেন। তিনি বলেন, পাঁচ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য বিমানবন্দর থানায় তার মোটরসাইকেল আটক হয়। ওই ঘটনায় আদালত গাড়ির মালিকানা যাচাই দেওয়ার পর তৎকালীন বিমানবন্দর থানার এএসআই আউয়ালকে চার হাজার টাকা দেওয়ার পর গাড়িটা ফেরত পান তিনি। একাধিক ভুক্তভোগী বলেন, এসব বিষয়ে পুলিশের থেকে বরিশাল বিআরটিএ কর্মকর্তারা জিম্মি দশায় ফেলে টাকা আদায় করে বেশি।
বরিশাল বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক আতিকুল ইসলাম অর্থ আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমরা কেবল আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করি। সে ক্ষেত্রে টাকা-পয়সা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশালে মামলার ফাঁদে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার যানবাহন
এবার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হোলো মঈন আব্দুল্লাহ কে
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক ধস, বড় দুর্ঘটনার শঙ্কা
বরিশালের প্রথম সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের যাত্রা
বরিশালের সাবেক ডিসি-এডিসির দুর্নীতি:ভুয়া বিল-ভাউচারে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ