Home » বোরহানউদ্দিন » ভোলা » ভোলায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ট্যাক্স আদায়, প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২
২৭ October ২০২৬ Tuesday ৩:৫১:৪০ PM
ভোলায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে ট্যাক্স আদায়, প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার ২
ভোলা প্রতিনিধি:
ভোলার বোরহানউদ্দিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বসতভিটার ট্যাক্স আদায়ের নামে প্রতারণার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনকে আসামি করে প্রতারণার মামলা করা হয়েছে।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মন ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাব আলী আজকের পত্রিকাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোমবার সকালে উপজেলার হাসাননগর ইউনিয়নের বিভিন্ন বাড়িতে ছাপানো রসিদ নিয়ে ট্যাক্স আদায় করতে যান এক যুবক। স্থানীয় লোকজন তাঁর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজের নাম মো. রিয়াজ বলে জানান। এ সময় তিনি নিজেকে পিএসবি প্রজেক্টের নিয়োগ করা খণ্ডকালীন ট্যাক্স কালেক্টর হিসেবেও পরিচয় দেন।
তবে কীসের ভিত্তিতে এবং কার অনুমতিতে তিনি ট্যাক্স আদায় করছেন, সে বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁরা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। ওই যুবকের কথাবার্তায় অসংগতি দেখে স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটকে রাখেন।
তাঁকে আটকে রাখার খবর পেয়ে চক্রের আরেক সদস্য ঘটনাস্থলে এলে স্থানীয় বাসিন্দারা দুজনকেই অবরুদ্ধ করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি থানার বাসিন্দা মো. ইমান আলীর ছেলে মো. মজিদুল ইসলাম (৩৮) এবং নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থানার বাসিন্দা ছফদ্দি মাহমুদের ছেলে মাহবুব ইসলাম সাগর (২৪)।
পরে সোমবার রাতে স্থানীয় এক ব্যক্তি বাদী হয়ে গ্রেপ্তার দুজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চক্রটির সদস্যরা নিজেদের ট্যাক্স কালেক্টর পরিচয় দিয়ে উপজেলার সাচড়া, কাচিয়া, পক্ষিয়া ও হাসাননগর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে বসতভিটার ট্যাক্স আদায় করছিলেন। এ সময় টিনের ঘর থেকে ৩০০ টাকা এবং পাকা বাড়ি থেকে ৫০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা প্রশাসক এবং ইউপি সচিবদের সঙ্গে যোগসাজশে পরিষদের চৌকিদারদের সহযোগিতা নিয়ে তাঁরা এ কার্যক্রম চালাতেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোরঞ্জন বর্মন বলেন, এ ঘটনায় বোরহানউদ্দিন থানায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাব আলী বলেন, এ ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের দুজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬ থেকে ৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ভোলার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)