![]() অনন্ত-বর্ষার বিবাহ বিচ্ছেদ!
২৬ March ২০১৩ Tuesday ৩:০৬:১৮ PM
এর আগে দুপুরে চিত্রনায়ক অনন্ত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে আমি সাংবাদিক ভাই ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি, এজন্য দুঃখিত। বর্ষা একা এই পরিস্থিতিতে গতকাল (সোমবার) কলকাতা গিয়েছে। একটা মেয়ের স্বামী ছাড়া দেশের বাইরে যাওয়া কতখানি স্বাভাবিক? আমার কথা ছিল সবকিছু সমঝোতার মাধ্যমে হোক।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে বিবাহ বিচ্ছেদের কাগজে সই করেছি।’ সংবাদ সম্মেলনে অনন্ত বলেন, ‘বর্ষা বাইরের ছবিতে অভিনয় করতে চায় বলে গত কয়েকদিন ধরে বেশ কিছু পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশ হয়েছে। অথচ এ ব্যাপারে সে আমার সঙ্গে আগে কোনো আলোচনা করেনি। আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ছিলাম যে, সব সময় আমরা একসঙ্গে কাজ করবো।’ তিনি আরো বলেন, ‘আগে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বর্ষার কাছে যদি জানতে চাওয়া হতো টম ক্রুজের সঙ্গে অভিনয়ের প্রস্তাব পেলে আপনি কী করবেন তখন সে বলতো- অনন্তই আমার টম ক্রুজ।’ বর্ষার কারণে তিনি নিজে কখনো বলিউডের অন্য নায়িকাদের সঙ্গে অভিনয়ের চিন্তা করতেন না বলেও জানান অনন্ত। বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ সম্পর্কে অনন্ত বলেন, ‘বর্ষা ফ্রিডম লাইফ লিড করতে চায়। সে যে কোনো সময় বাসা থেকে বের হয়ে যেতো। আমি বলতাম, তুমি এভাবে বাসা থেকে বের হয়ে যাও, এটা ঠিক না। উত্তরে সে বলতো, কাজ থাকলে বাইরে যাবোই। এভাবে এক কথা-দু’কথায় দুজনেই উত্তেজিত হই। বাসায় ওর মা, বাবা, ভাই, বোন, সবাই আসে। তারা আমাকে বোঝাতে থাকেন এবং এর মধ্যে বর্ষা বাসা থেকে বের হয়ে যায়। তখন আমি নিচে দারোয়ানকে বলি বর্ষা যেন বের না হয়ে যায়। কারণ এটা একটা মান-সম্মানের ব্যাপার। তারপরেও সে সকল বাধা উপেক্ষা করে বের হয়ে যায়।’ অনন্ত আরো বলেন, ‘বের হয়ে যাওয়ার পর আমি তার রুমের ড্রয়ার চেক করি এবং সেখানে একটি ফোন পাই, যেটির ব্যাপারে এর আগে আমার জানা ছিল না। ফোন খুঁজে দেখতে পাই ভারত, শ্রীলংকা ও আমাদের বাংলাদেশে মোট চার জনের সঙ্গে তার যোগাযোগ। পরে তার ল্যাপটপ সার্চ করে দেখি অনলাইনে সে বিভিন্ন নামে তাদের সঙ্গে সারারাত চ্যাট, ভয়েজ চ্যাট, ভিডিও চ্যাট করতো।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি অনুভব করি, তার বিভিন্নজনের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রায়ই বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়া, সবকিছু মিলিয়ে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা প্রয়োজন। এবং তখনই জিডি করি। এরপর রাতে থানা থেকে ফোন আসে যে বর্ষা থানায় গিয়ে জিডি করেছে। আমি তখন মীমাংসার জন্য বর্ষার মা, বাবা সবাইকে নিয়ে থানায় যাই। থানায় তাকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেও সবাই ব্যর্থ হয়। পরে একসঙ্গে আমরা থানা থেকে বের হতে আসি। সে তার বাসায় যায় এবং আমি আমার বাসায়। পরবর্তীতে আমরা দু’জন একসঙ্গে থানায় গিয়ে আমাদের করা জিডি দুটি প্রত্যাহার করি।’ তিনি বলেন, ‘হঠাৎ জানতে পারলাম, বর্ষা সোমবার বিকেল সোয়া ৪টায় জেট এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে কলকাতা গেছে। এয়ারপোর্টে কোনো এক ভক্ত তাকে দেখে সঙ্গে সঙ্গে ফেসবুকে স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘একটু আগে চিত্রনায়িকা বর্ষা জেট এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে কলকাতা গেলেন, কিন্তু সঙ্গে অনন্ত নেই। বর্ষা একা। ব্যাপারটা কেমন হলো?’’ রাহার সাথে জড়িয়ে অনন্তকে জড়িয়ে কয়েকটি গণমাধ্যম যে সংবাদ প্রচার করছে, তার সত্যতা নিয়ে জানতে চাইলে অনন্ত বলেন, ‘আমি রাহার ব্যাপারে বলি, আমার ঘৃণা ও লজ্জা লাগছে একজন মৃতের সঙ্গে আমাকে এভাবে জড়ানোর জন্য। বর্ষাও আমাদের মধ্যে এতো ঝামেলা সত্ত্বেও একটি জাতীয় দৈনিকে বলেছে যে রাহার সঙ্গে আমার কোনো রকম যোগাযোগ ছিল না বা নেই। রাহার পরিবার থেকেও একই স্বীকারোক্তি একটি দৈনিকে প্রচার হয়।’ রাহার সঙ্গে তাকে জড়ানোর ব্যাপারটি সম্পূর্ণ অপপ্রচার জানিয়ে তিনি বলেন, ‘রাহা আমার প্রথম ছবিতে, শুধু একটি গ্রুপ অ্যাকশন দৃশ্যে অভিনয় করেছিল। তার সঙ্গে আমার কোনো পরিচয় বা যোগাযোগ ছিল না।’ সবশেষে অনন্ত বলেন, ‘বর্ষা ও আমার মধ্যে কয়েকদিন যাবৎ বোঝাপড়া ভালো না হওয়ায় আমাদের মাঝে এখন আর কোনো সম্পর্ক নেই। আমি আরও খোলামেলাভাবে বলতে চাই, আমাদের মাঝে ডিভোর্স হয়ে গেছে।’ বিবাহ বিচ্ছেদের ব্যাপারে বর্ষার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ২০১০ সালে ‘খোঁজ – দ্য সার্চ’ চলচ্চিত্র দিয়ে রুপালি পর্দায় অভিষেক হয়েছিল অনন্ত-বর্ষা জুটির। এর পরের বছর তাঁরা বিয়ে করেন। এ দম্পতি ‘স্পিড’, ‘মোস্ট ওয়েলকাম’, ‘নিঃস্বার্থ ভালোবাসা’ ছবিতে জুটিবদ্ধ হয়ে অভিনয় করেন। সর্বশেষ তাঁরা দুজন জুটি হয়ে অভিনয় করছিলেন ‘মোস্ট ওয়েলকাম-২’ ছবিতে। এ সম্পর্কিত আরো সংবাদঃ সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক প্রকাশক: মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন তালুকদার সম্পাদক: মো: জিয়াউল হক
সাঁজের মায়া (২য় তলা), হযরত কালুশাহ সড়ক, বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, মুঠেফোন : ০১৮২৮১৫২০৮০ ই-মেইল : hello@amaderbarisal.com
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। |
||

বিনোদন ডেস্ক :: দেশের চলচ্চিত্রের হালের আলোচিত জুটি অনন্ত ও বর্ষার মান-অভিমান পর্ব, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগের একদিন পর সাধারণ ডায়েরি প্রত্যাহারেও শেষ রক্ষা হলো না। এম এ জলিল অনন্ত ও আফিয়া নুসরাত বর্ষা সমঝোতার ভিত্তিতে বিবাহ বিচ্ছেদের কাগজে সই করেছেন বলে জানিয়েছেন অনন্ত। ২৬ মার্চ মঙ্গলবার দুপুরে কাকরাইলের মনসুন রেইন ফিল্ম কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ বিচ্ছেদের খবর নিশ্চিত করেন। অনন্তের অভিযোগ, বর্ষার অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের কারণেই তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে।