মেয়রপ্রার্থী কামালের ১৩০ সমর্থকের বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা
 পুলিশের গুলিতে আহত মেয়রপ্রার্থী কামাল সমর্থক হারুন। তার বুকে সাতটি গুলি লেগেছে (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)
বরিশাল :: বরিশালে নগরীর বৈদ্যপাড়া এলাকায় মেয়রপ্রার্থী কামালের ছয় নারী সমর্থককে আটক করাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনায় পুলিশ মামলা করেছে। ১২ জুন বুধবার রাতে কোতয়ালী মডেল থানায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমান মুকুল বাদী হয়ে আসামীকে ছিনতাইয়ের চেষ্ঠার অভিয়োগে এ মামলা দায়ের করেন। মামলায় জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদকসহ দশজন নামধারী ও অজ্ঞাতনামা আরো ১২০ সমর্থককে আসামী করা হয়েছে। বিএনপির অভিযোগ, তাঁদের কর্মী-সমর্থকদের ভোটের আগে ভয়ভীতি দেখাতে ও হয়রানি করতেই দলীয় ১৩০ নেতাকর্মীকে আসামী করা হয়েছে।
এদিকে আটককৃত ছয় নারীসমর্থককে এ মামলায় গ্রেপ্তার দিখেয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন- বুলবুলী বেগম, মিলি বেগম, জান্নতুল ফেরদৌস, আম্বিয়া বেগম, পারভিন বেগম ও কলি আক্তার।
কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারীকাজে বাধাদানের অভিযোগে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আহসান হাবিব কালের শতাধিক কর্মীর বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলার নামধারী অপর চার আসামী পালাতক রয়েছে। তাদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এ ব্যাপারে এ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, পুলিশ মেয়রপ্রার্থীকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে উল্টো আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। শুনেছি পুলিশের এ মামলায় আমাকেও আসামী করা হয়েছে। ক্ষমতাশীন দলের প্রার্থীর নিদের্শ অনুযায়ী বিএনপির নেতা কর্মীদের ভোটের আগে ভয়ভীতি দেখাতে ও হয়রানি করতেই এ মামলাটি করা হয়েছে। যাতে করে বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রচারণা থেকে ও জনগণকে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ভোটদান থেকে বিরত রাখা যায়। তবে জনগন এ অন্যায় ও পুলিশ-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ১৫ জুন ব্যালটের মাধ্যমে তাদের রায় প্রকাশ করবেন বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ১২ জুন বুধবার রাত ৮টায় নগরীর বৈদ্যপাড়া এলাকায় প্রচারপত্র বিতরণ করছিলেন মেয়রপ্রার্থী কামালের ছয় নারী কর্মী। এসময় নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করে প্রচারপত্র বিতরণের অভিযোগে তুলে আ’লীগ সমর্থিত মেয়রপ্রার্থী হিরনের কর্মীরা ঐ ছয় নারীকে আটক করে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে তাদের আটক করে ভ্যানে তোলার সময় কামালের কর্মী-সমর্থকরা সেখানে জটলা করে আটককৃতদের ছেড়ে দেয়ার দাবি জানান। এসময় বৈদ্যপাড়া এলাকায় অপরপ্রান্তে মেয়রপ্রার্থী কামাল তার ‘আনারস’ মার্কার সমর্থনে প্রচার চালাচ্ছিলেন। নারী কর্মীদের আটকের কথা শুনে তিনিও সেখানে উপস্থিত হন এবং পুলিশকে তাদের ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে কামালের কর্মী-সমর্থকরা আটক ছয় নারী কর্মীকে পুলিশ ভ্যান থেকে টেনে নামানোর চেষ্টা করলে পুলিশ গুলিবর্ষণ করলে হারুন আহত হন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে বরিশাল শেরে-বাংলা-মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়।
বরিশাল জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, আহসান হাবিব কামালকে লক্ষ্য করেই গুলি চালিয়েছে পুলিশ। সরকার তাদের সমর্থিত প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত জেনে বিরোধীদের উপর পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছে। তবে পুলিশ গুলি করার সময় কর্মী-সমর্থকরা মেয়রপ্রার্থীকে ঘিরে ধরায় তার গায়ে কোন গুলি লাগেনি বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনার ব্যাপারে মহানগর বিএনপি’র সভাপতি সংসদ সদস্য মজিবর রহমান বলেন, আমাদের প্রচার-প্রচারণায় বাধা দেয়া হচ্ছে। নেতাকর্মীদের বাসায় অভিযান চালিয়ে হয়রানি করছে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। এ জন্য আমরা রিটার্নিং অফিসারকে বারবার অবহিত করেছি। কিন্তু তিনি তাতে কর্ণপাত করেছেন না। আমরা সব অন্যায় অবিচারের ভার নগরবাসীর উপর দিলাম। আগামী ১৫ জুন তারা ভোটের মাধ্যমে এর জবাব দেবে।
এদিকে মেয়রপ্রার্থীকে লক্ষ্য করে গুলি করার অভিযোগ অস্বীকার করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) এটিএম মুজাহিদুল ইসলাম জানান, মেয়রপ্রার্থীকে লক্ষ্য করে পুলিশ কোন গুলি ছুড়েনি। আটককৃত আসামীদের ছিনতাই ঠেকাতে বাধ্য হয়ে গুলি চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ সম্পর্কিত পূর্বের সংবাদঃ
কামালকে লক্ষ্য করে গুলির অভিযোগ
পুলিশের গুলিতে মেয়রপ্রার্থী কামালের এক সমর্থক আহত
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |