আমতলীতে প্রধান শিক্ষিকাকে বরখাস্তের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের ক্লাশ বর্জন, বিক্ষোভ মিছিল
বরগুনা, ১৯ ফেব্রুয়ারী (মনির হোসেন কামাল/আমাদের বরিশাল ডটকম): বরগুনার আমতলী উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহাফুজা বেগমকে বরখাস্তের প্রতিবাদে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রোববার ক্লাশ বর্জন করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে ঐ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাফর বিশ্বাস বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে শনিবার বরখাস্ত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
কারন দর্শানো নোটিশের জবাব না দেয়া, বিদ্যালয়ের অর্থ আত্নসাৎসহ বেশ কিছু অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ১৫ ফেব্রুয়ারী তারিখে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক গত ১৬ ফেব্রুয়ারী প্রধান শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাফর বিশ্বাস জানিয়েছেন। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে ১৯ ফেব্রুয়ারী রবিবার ঐ বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী ক্লাশ বর্জন করে আমতলী-তালতলী সড়কের আরপাঙ্গাশিয়া বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করে।
আরপাঙ্গাশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, ঐ এলাকার বিশ্বাস পরিবার ও হাওলাদার পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হাওলাদার পরিবারের পুত্রবধু হওয়ায় বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাফর বিশ্বাস তাকে সহ্য করতে পারছেন না। বিদ্যালয়ে ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মসহ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত ল্যাপটপ কম্পিউটার বাসায় নিয়ে জাফর বিশ্বাস দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারে করায় প্রধান শিক্ষকের সাথে তার মতবিরোধ চলছে বলে প্রধান শিক্ষিকা মাহফুজা বেগম জানিয়েছেন।
অপরদিকে চলতি মাসের ৯ তারিখ জাফর বিশ্বাস বাদী হয়ে প্রধান শিক্ষিকা মাহফুজা আক্তার ও সাবেক সভাপতি আবদুল হাকিম হাওলাদারের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের টাকা আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগে আমতলীর বিচারিক আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
বিদ্যালয়ের টাকা আত্মসাৎ মামলার বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকা বলেন, ‘বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির তৎকালীন সভাপতির লিখিত রেজুলেশনের ভিত্তিতে টাকা উত্তোলন করে মাষ্টাররোলের মাধ্যমে সকল শিক্ষকদের বন্টন করে দেয়া হয়েছে।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাফর বিশ্বাস বাড়িতে নিয়ে বিদ্যালয়ের ল্যাপটপ কম্পিউটার ব্যবহারের কথা স্বীকার করে জানান, ‘লিখিতভাবে আমি ল্যাপটপটি নিয়েছি।’
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির অভিবাভক সদস্য বশির হাওলাদার জানান, ‘কোন সভায় প্রধান শিক্ষিকার বরখাস্তের কোন সিদ্ধান্ত্ত হয়েছে কিনা তা তিনি জানেন না।
কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি অহেতুক জটিলতা তৈরী করে রেখেছেন। তিনি ১৯৯৫ সনে বিদ্যালয়ের কাগজপত্র ছিনতাই করে ১২ দিন হাজতবাস করেছেন। বর্তমানে সভাপতি হয়ে প্রধান শিক্ষিকার ওপর প্রতিশোধ নিচ্ছেন। এসব কারনে বিদ্যালয়ের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে বলে জানা তারা।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/বরগুনা/মহো/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |