Current Bangladesh Time
Saturday June ১৩, ২০২৬ ৭:৩০ PM
Barisal News
Latest News
Home » ভোলা » লালমোহন » চাকুরীর নামে প্রতারণাঃ লালমোহনে ফেমাস বাংলা’র অফিস সিলগালা, আটক ১
৭ May ২০১২ Monday ৬:৫৪:৩৬ PM
Print this E-mail this

চাকুরীর নামে প্রতারণাঃ লালমোহনে ফেমাস বাংলা’র অফিস সিলগালা, আটক ১


ফেমাস বাংলা

লালমোহনে ‘ফেমাস বাংলা’ অফিস থেকে গ্রেপ্তারকৃত কামরুল হাসান (ছবিঃ আমাদের বরিশাল ডটকম)

লালমোহন, ৭ মে (জসিম জনি/আমাদের বরিশাল ডটকম): ভোলার লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলাসহ জেলার ৭ উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে প্রাক-প্রাথমিক স্কুলে ৩ হাজার শিক্ষক ও সুপারভাইজার নিয়োগ দেয়ার নামে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে ফেমাস বাংলা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি নামে একটি এনজিও’র বিরুদ্ধে। গত দুই মাসে লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলাসহ ভোলায় ৬শ’ স্কুল গঠন ও শিক্ষকদের কাছ থেকে জামানত হিসেবে এই টাকা ওই সংস্থার ঢাকা অফিসের একাউন্টে জমা করে নেয়া হয়েছে। ফেমাস বাংলা ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি নামের এই এনজিওর জেলা অফিস রয়েছে লালমোহনে।

৭ মে সোমবার দুপুরে লালমোহন থানা পুলিশ এ প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার অভিযোগ পেয়ে ওই অফিসে হানা দেয়। লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ শীলমনি চাকমার নেতৃত্বে পুলিশ অফিস থেকে ২টি কম্পিউটার, ৪টি চেয়ার, বিভিন্ন লেজার- খাতাপত্র ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাথে যুক্ত এমন কিছু কাগজপত্র এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের বিরুদ্ধে করা লিফলেট উদ্ধার করেছে। এসময় অফিসে থাকা কম্পিউটার অপারেটর কামরুল হাসানকে আটক করে পুলিশ। পরে অফিসটি সীলগালা করে দেয়া হয়।

জানা গেছে, ভোলায় ফেমাস বাংলা ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি নামের এ সেবা মুলক প্রতিষ্ঠানের ভেড়াজালে আটকে গেছে অসহায় বেকার যুবক যুবতীরা। প্রাক-প্রাথমিক স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং ওই স্কুলে অসহায় বেকার যুবক যুবতীদের চাকুরী দেওয়ার নামে লোপাট করা হচ্ছিল লক্ষ লক্ষ টাকা। শিক্ষক নিয়োগের নামে গত কয়েক মাসে চরফ্যাশন থেকে ৪৪ লাখ টাকা, লালমোহন থেকে ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। অন্যান্য উপজেলা থেকেও একই হারে টাকা তুলে নিয়েছে ওই সংস্থাটি। এসব টাকার বিপরীতে কোন জমা রসিদ দেয়া হয়নি। প্রশাসন ও স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে গ্রামে গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠার নামে হাতিয়ে নেওয়া এই অর্থ কি কাজে ব্যায় করা হচ্ছে তার কোন সঠিক তথ্য জানে না কেউ। এসব তথ্য স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া।

ঢাকার গ্রিন প্লাজা ১৩/১৭, শান্তিনগর বাজার রোডে সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা ব্যবহার করে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তাকে না জানিয়ে সংস্থাটি মার্চ মাস থেকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে।

সংস্থার ভোলা জেলার দায়িত্বরত ডেপুটি প্রজেক্ট ডিরেক্টর (ডিপিটি) আমান উল্লাহ মুঠোফোনে জানান, জানুয়ারি মাস থেকে জেলার ৭টি উপজেলায় কাজ শুরু হয়েছে। যার মধ্যে লালমোহন উপজেলায় ৩০০ এবং চরফ্যাশন উপজেলায় ২০০ শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে স্কুল চালু করা হয়েছে। অন্যান্য উপজেলায় আরো ১০০ স্কুল করা হয়েছে। ফেমাস বাংলা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির অফিস রয়েছে লালমোহন উত্তর বাজার মসজিদ মার্কেটের দোতলায়। লালমোহনের এ অফিসটি জেলা ও থানা কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।

এদিকে লালমোহনে ফেমাস বাংলা’র ১৮ জন সুপারভাইজার এর মধ্যে অধিকাংশই জামায়াত ইসলামীর সাথে কোন না কোন ভাবে জড়িত থাকার তথ্য মিলেছে। এরিয়া ম্যানেজার সাইফুদ্দিন মনির, মাওঃ ইউনুছ জামায়াতের সক্রিয় সদস্য।

তথ্য সূত্রে আরো জানা গেছে, লালমোহন উপজেলায় ফেমাসের ৩০০ টির মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার অধিকাংশই প্রায় সময় বন্ধ থাকে। ফেমাসের সদস্য হওয়ার জন্য পশ্চিম চর উমেদ থেকে আসা রিংকু বেগম জানান, অফিস থেকে তাকে ৫ হাজার টাকার বীমা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাহলে তাকে ১২ শত টাকা বেতনে চাকুরী দেওয়া হবে। তবে এ বীমার ব্যাপারে অফিস কর্তৃপক্ষ কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।

ফেমাস বাংলা সুত্র জানায়, তারা সরকারী নিয়ম অনুসারে অফিসটি পরিচালনা করছেন। তাদের একটি ব্যাংক একাউন্ড রয়েছে ইসলামী ব্যাংকের ঢাকার ভুলতা শাখায়। অনলাইনের মাধ্যমে ওই শাখায় ১১৪৭ নং একাউন্টে সব টাকা পাঠানো হয়। ওই ব্যাংকের মাধ্যমেই উত্তোলন হওয়া টাকা পাঠানো হয় মুল অফিসে। সেখান থেকে পুনরায় ওই ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন পাঠানো হয় জেলা অফিসে। প্রত্যেক শিক্ষক মাসিক ১৫০০ টাকা, সুপারভাইজার ৬০০০ টাকা এবং ম্যানেজার ৯০০০ টাকা করে বেতন পাবেন। তবে চাকরির নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য শুরুতে ম্যানেজার পদের জন্য প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা, সুপারভাইজারের জন্য ৭ হাজার ২শ’ টাকা এবং শিক্ষকের জন্য তিন হাজার ৬শ’ টাকা করে ডিপোজিট মানি জমা রাখা হয়। ওই টাকা ফেমাস বাংলা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির প্রধান কার্যালয়ে জমা দেন তারা। বেতনের টাকা হাতে হাতে পরিশোধ করা হয়। রেজিস্টারের কথা মৌখিক ভাবে বলা হলেও কোন রেজিস্টার দেখাতে পারেনি ফেমাস কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ রয়েছে এসব ক্ষেত্রে তারা সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন।

ফেমাসের অনেক সদস্য নাম প্রকাশ না করা শর্তে জানান, অফিস তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকার করে নিয়েছে। কিন্তু কোন রশিদ দেয় নাই। তাদেরকে বীমা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যারা বীমা করবে না তাদের জন্য ফিক্সড ডিপোজিটের ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানানো হয়। শিক্ষকদের কাছ থেকে ৩৬ শত টাকা নেওয়ার কথা জানালেও মুলত টাকা নেওয়া হয় ৫ হাজার করে। লালমোহন পৌর এলাকার ৪নং ওয়ার্ডের কলেজ ছাত্রী তাহমিনা জানান, তার কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তাহলে তাকে প্রতিমাসে ১৮ শত টাকা করে বেতন দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু তাকে ৬ হাজার টাকার রশিদ না দিয়ে একটি সাদা কাগজে কেবল মাত্র ৪৯০০ টাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে ফেমাসের ভোলা জেলা প্রজেক্ট ডাইরেক্টর আমান উল্যাহ জানান, শিক্ষকদের কাছ থেকে নেওয়া টাকার রশিদ দেওয়া হয় তবে শিক্ষকদের কোন নিয়োগ পত্র দেওয়া হয়না। সুপারভাইজারদের বা এড়িয়া ম্যানেজারদের নিয়োগ পত্র দেওয়া হয়। তাদের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এবং জয়েন্ট ষ্টক থেকে রেজিষ্ট্রেশন নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। যার নং ৯৮৩৮(৯৯)-৩৫৯৮। এই নিবন্ধন ব্যবহার করে ফেমাস বাংলা ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি ভোলা জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি আরো জানান, প্রথমে শিক্ষকদের বীমা করার জন্য বলা হয়েছিল। পরে প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে তা বাদ দেওয়া হয়েছে। কেবল মাত্র জামানতের টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। এই টাকা প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। জামায়াতের সাথে যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করে আমান উল্যাহ আরো বলেন, এ প্রতিষ্ঠানের কয়েক কর্মকর্তা ছাত্রলীগের সাথেও জড়িত রয়েছে।

লালমোহন থেকে সদ্য বিদায় নেওয়া ইউএনও এবং বর্তমান মাদারীপুর জেলার এডিসি মোঃ ছিদ্দিুকুর রহমান জানান, তিনি লালমোহন থাকা অবস্থায় ফেমাস বাংলা ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি কোন যোগাযোগ করেনি। তারা কিভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে তাও জানা নেই উপজেলা পরিষদের। একই কথা জানালেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার যোতীষ চন্দ্র শীল। তিনি জানান, এই নামে এনজিও কিভাবে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে তা শিক্ষা অফিসকে অবহিত করা হয়নি। তাদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নেওয়া হবে।

লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ শীল মনি চাকমা আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, ফেমাস বাংলা ওয়েল ফেয়ার সোসাইটি নামের এই এনজিও এলাকার যুবক-যুবতীদের সাথে প্রতারণা করে আসছে। এমন অভিযোগ পেয়ে অফিস সীলগালা করে দেয়া হয়েছে এবং কম্পিউটার ও কাগজপত্রসহ ১জনকে আটক করা হয়েছে। এ অফিসের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।


(আমাদের বরিশাল ডটকম/লালমোহন/জজ/তাপা)

সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বাজেটে বরিশালে বাণিজ্যিক উন্নয়নের দাবি
দখল আর অপরিকল্পিত নগরায়ণে হারিয়ে যাচ্ছে বরিশাল নগরীর ১৭ খাল
বন্ধ হয়ে গেল অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা, বিপাকে শ্রমিকেরা
বরিশাল সিটি নির্বাচন: জামায়াতের প্রার্থী হেলাল, থাকছেন না ফয়জুল
হামে বরিশাল বিভাগে মৃত বেড়ে ৫০
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com