Home » পটুয়াখালী » বাউফল » বাউফলে ছাত্রদল সভাপতির বিরুদ্ধে সাংবাদিককে হুমকি ও গালমন্দের অভিযোগ
১৯ June ২০২৬ Friday ৯:৩৭:৪৩ PM
বাউফলে ছাত্রদল সভাপতির বিরুদ্ধে সাংবাদিককে হুমকি ও গালমন্দের অভিযোগ
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
Screenshot
পটুয়াখালীর বাউফলে সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতির বিরুদ্ধে এক সাংবাদিককে গালমন্দ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদের দিকে। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) উপজেলার কালাইয়া বন্দরের সুন্দরী সিনেমা হল সড়ক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক এম এ হান্নান, যিনি এনটিভির বাউফল-দুমকি অনলাইন করেসপনডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, কয়েকদিন আগে ছাত্রদল সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত গাড়িচালককে মারধর এবং গাড়ি আটকে রাখার অভিযোগ বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তিনি সাংবাদিক হিসেবে সেই সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার করেছিলেন। হান্নানের দাবি, ওই সংবাদ প্রকাশের জের ধরে ছাত্রদল সভাপতি তাকে প্রকাশ্যে বকাঝকা করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন। একপর্যায়ে তাকে গাড়ির মালিকের ‘দালাল’ বলেও আখ্যায়িত করেন। পাশাপাশি তাকে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ করে সতর্ক থাকার কথাও বলেন। তিনি বলেন, “আমি প্রায় আট বছর ধরে সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত। পেশাগত দায়িত্ব পালনের বাইরে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কখনো জড়িত ছিলাম না। তবে পারিবারিক কারণে বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের চিন্তা করছি না।” ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদ্য সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার হোসেন রিয়াজ বলেন, কালাইয়া বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ও নোনা বালু ব্যবহারের অভিযোগে স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দেন। পরে বিষয়টি জানাতে তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক এম এ হান্নানকে খবর দেন। হান্নান ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। এ সময় ছাত্রদল সভাপতি সেখানে উপস্থিত হয়ে কাজ পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেন এবং সাংবাদিককে দেখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। পরে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ গণমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে ঘটনার পর নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, “ছাত্রলীগ করে এখন কেউ সাংবাদিক বা অন্য রাজনৈতিক দলের ব্যানারে চাঁদাবাজি, নাশকতা কিংবা সরকারবিরোধী চক্রান্ত করলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ।” এদিকে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও ছাত্রদল নেতার সঙ্গে পুলিশের কর্মকর্তারা কথা বলেছেন। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি ভুল বোঝাবুঝিজনিত বলে জানা গেছে। এছাড়া সাংবাদিক এম এ হান্নান এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ করেননি।” পটুয়াখালী সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জামিল আহমেদ লিমন বলেন, “সড়কের নির্মাণকাজে অনিয়ম হয়েছে কি না, তা সরেজমিনে তদন্ত করে দেখা হবে। সাংবাদিকের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি দুঃখজনক। ইতোমধ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলীকে তলব করা হয়েছে। কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি এক বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত গাড়িচালককে মারধর এবং গাড়ি আটকে রাখার অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল আব্দুল্লাহ আল ফাহাদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয়। এরপর থেকেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনামূলক মন্তব্য করে আসছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)