Home » পটুয়াখালী » বাউফল » নিরাপত্তাহীনতায় সংখ্যালঘু পরিবারজমি রক্ষায় বাধা, মারধর ও দেশ ছাড়ার হুমকির অভিযোগকান্নাজড়িত ভিডিও ভাইরাল
২৫ June ২০২৬ Thursday ১:১০:৫৪ PM
নিরাপত্তাহীনতায় সংখ্যালঘু পরিবারজমি রক্ষায় বাধা, মারধর ও দেশ ছাড়ার হুমকির অভিযোগকান্নাজড়িত ভিডিও ভাইরাল
বাউফল (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষাকে কেন্দ্র করে এক সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং দেশত্যাগে বাধ্য করার হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর পরিবারের এক সদস্যের কান্নাজড়িত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অভিযোগের তীর উপজেলার বগা ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামের খোরশেদ মাতুব্বরের দিকে। তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সাবেক ইউপি সদস্য হিসেবেও পরিচিত। তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মুকুন্দ চন্দ্র ঢালী (৭০) ও তার ভাইয়েরা দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া প্রায় ৭ একর ৫৭ শতাংশ জমি ভোগদখল করে আসছেন। বর্তমানে এলাকায় ভূমি জরিপ কার্যক্রম চলমান থাকায় তাদের জমির একটি অংশ অন্যের নামে রেকর্ড করানোর চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তারা। গত ১৭ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বালিয়া বাজার এলাকায় জমি নিয়ে কথা বলতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মুকুন্দ ঢালী ও তার ভাইদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনার পর থেকেই তারা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনার কয়েকদিন পর মুকুন্দ ঢালীর সেজ ভাই উপেন চন্দ্র ঢালীর একটি কান্নাজড়িত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে তিনি অভিযোগ করেন, জমির বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তাদের মারধর করা হয়েছে এবং পরিবারকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে। কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমরা কোথায় যাব? এই ভিটেমাটিই আমাদের সব। আমাদের দেশ ছাড়তে বলা হচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।” উপেন ঢালীর দাবি, খোরশেদ মাতুব্বর, তার ভাই সাইদুল মাতুব্বর এবং ছেলে সোহেল মাতুব্বর মিলে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। একই সঙ্গে জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে জমি নিজেদের নামে নেওয়ার চেষ্টাও করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় উপেনের মেঝ ভাই পূর্ণ চন্দ্র ঢালী বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি নম্বর-১০৯৭, তারিখ ২১ জুন ২০২৬। জিডিতে খোরশেদ মাতুব্বর, সাইদুল মাতুব্বর ও সোহেল মাতুব্বরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সরেজমিনে বালিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারটির সদস্যরা উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন। পরিবারের প্রবীণ সদস্য মুকুন্দ চন্দ্র ঢালী বলেন, “বিতর্কিত জমির পক্ষে আমাদের বৈধ রেকর্ড, খতিয়ান এবং ডিগ্রি আদালতের রায় রয়েছে। এরপরও বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষা করতে চাই।” স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ ১ একর ২৬ শতাংশ জমির মূল মালিক ছিলেন ভগবতী দাসী, যিনি মুকুন্দ ঢালীর ফুপু। প্রায় ছয় দশক আগে তার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে জমিটির মালিকানা মুকুন্দ ঢালীর বাবা ও চাচাদের কাছে আসে। এরপর থেকে তাদের পরিবার জমিটি ভোগদখল করে আসছে বলে দাবি করা হয়। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে খোরশেদ মাতুব্বর বলেন, “বিতর্কিত ১ একর ২৬ শতাংশ জমি আমার নিজস্ব সম্পত্তি। প্রায় ১১ বছর আগে আমি সুধীর মিস্ত্রীর কাছ থেকে জমিটি কিনেছি। মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা দেশত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী পক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে। জিডির তদন্তের অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি পাওয়া গেলে তদন্ত শেষে প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হবে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
নকল আর হচ্ছে না, এখন লক্ষ্য শিক্ষার মানোন্নয়ন: বরিশালে শিক্ষামন্ত্রী