বাজেটে বরিশাল অঞ্চলের উন্নয়নে আলাদা কোনো বরাদ্দ না থাকায় এবার সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ক্ষোভ ঝাড়লেন দক্ষিণাঞ্চলের এমপিরা। বুধবারের আগের দুদিন এই ক্ষোভের কথা জানান তারা। যেখানে অন্য বিভাগগুলোর জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, সেখানে বরাদ্দ থেকে কেন বাদ পড়ল বরিশাল বিভাগ-সেই প্রশ্নও তারা করেন অর্থমন্ত্রীকে। এ সময় সংসদেই ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এলাকার উন্নয়ন প্রশ্নে একাট্টা হয়ে সংসদে দক্ষিণের এমপিদের এভাবে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম ঘটল। কেবল সংসদে বক্তব্য দেওয়াই নয়, বিষয়টি নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলের সব এমপি মিলে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের এমপি নূরুল ইসলাম মনি। সব সরকারের আমলে উন্নয়নবঞ্চিত হিসাবে চিহ্নিত বরিশাল অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই জানিয়ে আসছিল তাদের জরুরি ৪টি দাবি। যে দাবিগুলো পূরণ হলে উন্নয়ন আর অর্থনীতি প্রশ্নে সমৃদ্ধ হবে অবহেলিত এই এলাকা।
বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন বলেন, ‘মাত্র ৪টি বিষয়কে সামনে এনেছি আমরা। ভাঙ্গা-কুয়াকাটা সড়কটি ছয় লেনে উন্নীত, ভাঙন প্রতিরোধ করে সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটাকে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত করা, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ এবং বরিশালে বিশেষায়িত একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা। আমাদের এখানে কিন্তু দাবির শেষ নেই। তারপরও সরকারকে বিব্রত না করতে এই ৪টি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনের বিচারেও এগুলো জরুরি। রাজধানীর খুব কাছে হওয়া সত্ত্বেও অপ্রশস্ত ভাঙ্গা-কুয়াকাটা সড়কের কারণে বরিশাল অঞ্চলে গড়ে উঠছে না কোনো ভারী শিল্প। কুয়াকাটায় আসতে মরণফাঁদের মহাসড়ক পার হতে হচ্ছে পর্যটকদের। সেই সঙ্গে পিছিয়ে পড়ছে পায়রা সমুদ্র বন্দর। এই একটি সড়ক ৬ লেন হলে অর্থনীতির চেহারা পালটে যাবে দক্ষিণের। এটিসহ বাকি ৩টি দাবি প্রশ্নে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ থাকবে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু তা না থাকায় হতাশ হয়েছে এই অঞ্চলের মানুষ। কেবল সাধারণ মানুষ নয়, হতাশ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও। যার প্রথম প্রকাশ ঘটে খোদ স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিনের মুখে। যিনি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ভোলা-৩ আসন থেকে। রোববার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন চলাকালে প্রস্তাবিত বাজেটে ভোলা-বরিশাল সেতু তথা বরিশাল অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ না থাকায় প্রকাশ্যেই হতাশা ব্যক্ত করেন তিনি। এর পরপরই বিষয়টি নিয়ে সংসদে বক্তব্যের বিস্ফোরণ ঘটান বরিশাল অঞ্চলের অন্য এমপিরা।
বরিশাল সদর আসনের ৬ বারের এমপি, সাবেক হুইপ ও সিটি মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘বাজেটে বরিশাল অঞ্চলের জন্য বিশেষ কোনো বরাদ্দ না থাকা সত্যিই দুঃখজনক। অথচ ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়ক ৬ লেন করা, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ আর কুয়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের উন্নয়ন আমাদের প্রাণের দাবি।’ পটুয়াখালী-৪ আসনের এমপি বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা তো এই বাংলাদেশ চাইনি স্পিকার। চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহীসহ অন্যান্য বিভাগের উন্নয়ন হবে আর বাদ পড়বে শুধু বরিশাল, এটাই কি আমরা চেয়েছি!’ অর্থমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আপনার দিলে (হৃদয়ে) একটু দয়া আনুন। বরিশালের কথাও একটু ভাবুন। ৬ লেন মহাসড়ক না থাকায় পিছিয়ে পড়ছে পায়রা বন্দর আর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত। অথচ প্রস্তাবিত বাজেটে এসব প্রকল্পের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই।’ ৬ লেন সড়ক, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণসহ গোপালগঞ্জ থেকে পিরোজপুর-বরগুনা হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের দাবি জানিয়ে পিরোজপুর-৩ আসনের বিএনপিদলীয় এমপি রুহুল আমিন দুলাল বলেন, ‘বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সময়েও কি আমাদের পিছিয়ে রাখা হবে!’ এছাড়া বরিশাল অঞ্চলের আরও কয়েকজন এমপি তাদের বক্তব্যে জানান এসব উন্নয়নের দাবি।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে বলার পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার প্রস্তুতিও চলছে বলে জানা গেছে। বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া ও চীন সফরের আগেই তার সঙ্গে দেখা করার একটা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে সেটা হয়ে ওঠেনি।’ এ বি এম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ওইদিন আমরা বরিশাল অঞ্চলের ১২-১৩ জন এমপি একত্রিত হয়েছিলাম। চিফ হুইপ ছাড়াও আমাদের সঙ্গে ছিলেন মজিবর রহমান সরোয়ার, রফিকুল ইসলাম জামাল, আবুল হোসেন খান, নুরুল ইসলাম নয়ন এবং সরফুদ্দিন সান্টুসহ অন্যরা। সরকারে থাকা আমাদের অঞ্চলের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী যথাক্রমে জহির উদ্দিন স্বপন, রাজিব আহসান ও আহম্মেদ সোহেল সুমন মঞ্জুরও এসব দাবিতে একমত।’ পিরোজপুর-৩ আসনের এমপি রুহুল আমিন দুলাল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে এসব দাবির বিষয়ে আমরা একসঙ্গে দেখা করব তার সঙ্গে। বহু বছর ধরে পিছিয়ে রাখা হয়েছে আমাদের। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিতে প্রধানমন্ত্রী নিজে বলেছেন বরিশাল অঞ্চলের এসব উন্নয়ন দাবি পূরণ করার কথা। সেখানে বাজেটে কেন কোনো বরাদ্দ রাখা হলো না প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে তার সঙ্গে দেখা করে আমাদের এই গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলোর কথা তাকে জানাব। তিনি নিশ্চয়ই দাবি পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
নকল আর হচ্ছে না, এখন লক্ষ্য শিক্ষার মানোন্নয়ন: বরিশালে শিক্ষামন্ত্রী