Home » চরফ্যাশন » ভোলা » ৪২ চিকিৎসকের বিপরীতে আছেন ১৬ জন, সংকটে চরফ্যাশনের ৬ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা
২৭ June ২০২৬ Saturday ৪:২৮:৪৭ PM
৪২ চিকিৎসকের বিপরীতে আছেন ১৬ জন, সংকটে চরফ্যাশনের ৬ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা
চরফ্যাশন ((ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার প্রায় ছয় লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে চিকিৎসক সংকটের কারণে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ৪২ মেডিকেল অফিসারের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১৬ চিকিৎসক। ফলে সীমিত জনবল নিয়েই বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
চরফ্যাশন শহর থেকে ভোলা জেলা সদর হাসপাতালের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। গুরুতর রোগীদের অনেক সময় সেখানে পাঠানো হলেও স্বজনদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে অধিকাংশ রোগীকেই পরে বরিশাল বা ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালে রেফার করা হয়। দীর্ঘ যাত্রাপথে অনেক রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে, এমনকি কেউ কেউ পথেই মারা যান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৪০০ থেকে ৫০০ জনের বেশি রোগী চিকিৎসাসেবা নেন। এ ছাড়া নিয়মিত শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন। ২৪ ঘণ্টা চালু জরুরি বিভাগেও প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী আসেন। শুধু চরফ্যাশন নয়, পার্শ্ববর্তী দ্বীপ উপজেলা মনপুরা থেকেও অনেক রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন।
হাসপাতালে ভর্তি চার মাস বয়সী এক শিশুর বাবা সবুজ খান বলেন, তাঁর সন্তান হামে আক্রান্ত হয়ে কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিন্তু পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় কাঙ্ক্ষিত পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতালের টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির সংকটও রয়েছে। সন্তানের অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি না হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।
প্যাথলজি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হাসপাতালের বাইরে করাতে হচ্ছে। এতে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে। বিভাগটিতে সেল কাউন্টার (ব্লাড কাউন্ট) মেশিন, ল্যাব রোটেটর, আধুনিক মাইক্রোস্কোপ, রেফ্রিজারেটর, সেন্ট্রিফিউজ মেশিন ও বায়োকেমিস্ট্রি অ্যানালাইজারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির ঘাটতি রয়েছে। ফলে অনেক পরীক্ষা এখনো পুরোনো মাইক্রোস্কোপিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাকলুকুর রহমান বলেন, ৫০ শয্যার জনবল কাঠামো অনুযায়ী ৪২ মেডিকেল অফিসার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ১৬ জন। এ ছাড়া ১০ কনসালট্যান্ট থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র দুজন—অ্যানেসথেসিয়া ও অর্থোপেডিক বিভাগের। জনবল সংকটের কারণে প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন বসাক বলেন, জনবল সংকট থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে মানুষের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, চরফ্যাশনের বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা জরুরি।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বিসিসি’র সাবেক প্যানেল মেয়র বাহারকে না পেয়ে কিশোর ছেলেকে ধরে নিয়ে গেল ডিবি
বরিশালে সবজির দর অপরিবর্তিত, চড়া মাছের বাজার
বরিশালের নদ-নদীতে ইলিশের দেখা, মা মাছ নিয়ে শঙ্কা