Home » কলাপাড়া » পটুয়াখালী » নিষেধাজ্ঞার শেষ রাতেই এলো ইলিশবোঝাই ট্রলার, আইন মানা নিয়ে প্রশ্ন
৩০ October ২০২৬ Friday ২:৫৩:৪৫ PM
নিষেধাজ্ঞার শেষ রাতেই এলো ইলিশবোঝাই ট্রলার, আইন মানা নিয়ে প্রশ্ন
প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন
মহিপুর (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে সরকারের দেওয়া ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে ২৯ অক্টোবর রাত ১২টায়। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পরপরই গভীর রাত থেকে ইলিশবোঝাই ট্রলার নিয়ে আলিপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দরে ফিরতে দেখা গেছে জেলেদের। এতে নিষেধাজ্ঞার শেষ রাতেই মাছ শিকারের অভিযোগ তুলে ২২ দিন মাছ ধরা বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা কতটা কার্যকর হয়েছে; তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় নদী ও সাগরে মাছ ধরা বন্ধ রাখার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবে কিছু অসাধু জেলে ও ট্রলার মালিক তা উপেক্ষা করেছেন। বিশেষ করে অবৈধ ট্রলিংয়ের মাধ্যমে কিছু ট্রলার সাগরে মাছ শিকার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার শেষ রাতের কর্মকাণ্ড এবং ভোররাতে ইলিশ নিয়ে বন্দরে ফেরা ট্রলারগুলোর বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে সরেজমিন দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর আলিপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দরে জেলেদের কর্মব্যস্ততা বেড়েছে। মাছবোঝাই ট্রলার বন্দরে আসতে শুরু করে। আড়তগুলোতেও শুরু হয় ইলিশের বেচাকেনা। দীর্ঘ ২২ দিনের বিরতি শেষে মাছের আমদানি ঘিরে বন্দর এলাকায় ফিরে আসে প্রাণচাঞ্চল্য।
তবে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই বিপুলসংখ্যক ট্রলারের মাছ নিয়ে বন্দরে ফেরার বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সেফ দ্য বে অব বেঙ্গলের সেক্রেটারি জেনারেল মো. কাওসার মনির বলেন, ‘আমাদের উপকূলের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য আহরণের সঙ্গে জড়িত। সমুদ্রের মাছ আহরণ করেই তারা জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু কিছু অসাধু জেলে ও অবৈধ ট্রলিং ব্যবসায়ী সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সাগরে মাছ শিকার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই মধ্যরাতে মাছ নিয়ে ট্রলার বন্দরে ফিরেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রতিবছরই নিষেধাজ্ঞার মধ্যে মাছ শিকারের অভিযোগ ওঠে। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়বে। অবৈধ ট্রলিং বন্ধ এবং নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।’
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মা ইলিশ রক্ষায় শুধু ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করলেই হবে না, এর যথাযথ বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। নিষেধাজ্ঞার শেষ রাতসহ পুরো সময়ে সাগরে নজরদারি বাড়ানো, অবৈধ ট্রলিং বন্ধ এবং নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগে মাছ শিকারের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, ‘২৯ অক্টোবর রাত ১২টায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর সকালে মাছ ধরে বন্দরে এনে বিক্রি করলে সেটি বৈধ। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। নিষেধাজ্ঞার সময় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। জেলেদের সতর্ক ও সচেতন করার পাশাপাশি অভিযান পরিচালনা করেছি।’
উল্লেখ্য, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সাগর ও নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাত ও ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা আবারও সাগরে মাছ আহরণে ফিরেছেন।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
সমাজে মাদক সেবনের মাত্রা প্রকটভাবে দেখা দিয়েছে: মনজুর মোর্শেদ
বিএম কলেজের ছাত্রাবাসে গভীর রাতে উত্তেজনা, মুখোমুখি ছাত্রদল ও শিক্ষার্থীরা
বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে পৌর টোলের নামে অর্থ আদায়