বিচারের আশায় সন্তান নিয়ে আদালতের দ্বারে ধর্ষিত কিশোরী মিজানুর রহমান টিপু, বামনা
বরগুনার বামনা উপজেলার জাফ্রাখালী গ্রামের ১২ বছরের ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে একই গ্রামের মো. খালেক কারীর ছেলে মো. মান্নান (৪৫) ধর্ষণ করে। এতে কিশোরী গর্ভবর্তী হয়ে পড়ে। গত ৩০ এপ্রিল ঢাকার একটি হাসপাতালে তিন মাস মৃত্যুর সাথে লড়াই করে কিশোরী একটি পুত্র সন্তান প্রসব করে।
ভুক্তভোগী ওই কিশোরী গত ২৩ মার্চ ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এ ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা করে। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ধর্ষককে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এতে ধর্ষিতা পরিবার এখন আতংকে রয়েছে। যৌণ নির্যাতনের শিকার কিশোরী মা শিশুটিকে নিয়ে ন্যায় বিচারের আশায় ঘুরছে আদালত পাড়ায়।
মামলার আইনজীবী মো. সামিউল কবির আলমগীর বলেন, ধর্ষিতা কিশোরী বাদী হয়ে গত ২৩ মার্চ ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এ ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা করে। আদালতে বিচারক কিশোরীর জবানবন্দি শুনে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের জন্য ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে পাঠান।
পরে শিশুটি ঢাকার মহানগর হাকিম মো. আমিরুল হায়দার চৌধুরীর আদালতে সাক্ষী দিলে বিচারক নারী ও শিশু আদালতে একটি তদন্ত প্রতিবেদন পাঠান। তদন্তে প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়।
আইনজীবী আরো জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মো. রেজানুল হক তদন্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে আসামির বিরুদ্ধে মামলাটি আমলে নেন এবং গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেন।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, বাদী কিশোরী বামনা উপজেলার জাফ্রাখালী সরকারি বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করা অবস্থায় বাসায় যাওয়ার পথে আসামি আ. মান্নান তাঁকে প্রায়ই কু-প্রস্তাব দিত। বাদীর মা ওই স্কুলের বাচ্চাদের খিচুড়ি রান্নার কাজ করেতেন। সে সুবাদে তার মাকে সারাদিন ওই স্কুলেই থাকতে হতো। ফলে বাদী বাসায় একা একা থাকত।
আসামির কৃষি জমি কিশোরীর বাড়ির পাশে থাকায় আসামি জমিতে কাজ করার সময় পানি খাওয়ার অজুহাতে তাদের বাসায় প্রবেশ করে তার সাথে অনৈতিক আচরণ করেন। সে ২০১৪ সালের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ছোট ছোনবুনিয়া ডৌয়াতলা আর রহমান আলিম মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শেণিতে ভর্তি হয়।
মাদ্রাসাটি দূরে হওয়ার আসামি কিশোরিকে মাদ্রাসায় আসা যাওয়ার পথে মানসিক ও যৌণ নির্যাতন করত। এ বিষয়ে কাউকে জানালে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিত। ধর্ষকের এসব অত্যাচার থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কিশোরী ঢাকার বাড্ডায় তার ফুফুর বাসায় চলে এসে বসবাস শুরু করে। ফুফু খাদিজা একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।
আসামি ওই ঠিকানা জানতে পেরে বাড্ডার ফুফুর বাসা খুঁজে সেখানেও এসে উপস্থিত হয়। একইভাবে ফুফুর অনুপস্থিতিতে অনৈতিক কাজ করতে শুরু করে। গত বছরের ২৮ জুন কিশোরী ফুফুর বাসায় একা থাকা-কালীন মন্নান ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করেন এবং যাওয়ার সময় হুমকি দিয়ে যান।
পরে একই ভাবে কিশোরীকে গত বছরের ৮ জুলাই, ১৮ জুলাই ও ২৮ জুলাই ধর্ষণ করেন। এ বিষয়ে কিশোরী প্রাণ ভয়ে কাউকে কিছু জানায়নি। কিশোরী কিছু দিন পর ধর্ষণের ফলে গর্ভবর্তী হয়ে পড়ে। গত ৩০ এপ্রিল কিশোরী একটি পুত্র সন্তান প্রসব করে।
নির্যাতনের শিকার কিশোরীর আকুতি ‘আমি আবার স্কুলে যেতে চাই, লেখাপড়া করতে চাই। সেই সাথে লম্পট মান্নানের ফাঁসি চাই।’
কিশোরীর মা আনোয়ারা বেগম জানায়, নবাগত শিশুটি কি পরিচয়ে বড় হবে? আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যে কোন সময়ে মন্নান আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মান্নানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি বাড়িতেই আছি। যেহেতু মামলা হয়েছে সেহেতু আইনগত ভাবেই বিষয়টি আমি মোকাবেলা করব।
বামনা থানার ওসি মো. শাহাবুদ্দিন সোমবার (১ আগস্ট) জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তির ব্যাপারে আমাদের কাছে এখনো গ্রেপ্তারী পরোয়ানা এসে পৌছায়নি, কাগজ হাতে পেলে আমরা আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করব।
সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ |