কক্ষে পাঠদান আর মাঠে পশু হাট! মিজানুর রহমান টিপু, বামনা
বরগুনার বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়নের দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষাঙ্গনে প্রবেশ করে অলি-গলি আর ফাঁক-ফোকর দিয়ে। প্রধান গেট দিয়ে প্রবেশের সুযোগ নেই তাদের। প্রধান গেট দিয়ে প্রবেশ করে গরু-ছাগল আর ক্রেতা-বিক্রেতা।
যে দু-চারজন শিক্ষার্থী এই গেট দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে তাদের সবাইকেই পড়তে হয় গরু-ছাগলের দালালসহ ক্রেতা-বিক্রেতাদের ইভটিজিংয়ের বিড়ম্বনায়। বিগত ২০ বছর ধরেই চলছে গরু-ছাগলের হাটের নামে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিড়ম্বনার এ চিত্র। থানার ওসি, এইউএনও এমনকী জেলা প্রশাসকের কাছে ধরনা দিয়েও কোনো প্রতিকার হয়নি।
আজ রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বামানার ডৌয়াতলা ইউনিয়নের এ শিক্ষাকেন্দ্রে সরেজমিন দেখা যায়, সম্মিলিত এ শিক্ষা কেন্দ্রের প্রধান ফটক দিয়ে দলে দলে গরু-ছাগল নিয়ে প্রবেশ করছে বিক্রেতারা। প্রবেশ করছে বিভিন্ন বয়সের শত শত ক্রেতাও। একই সাথে গরু-ছাগল আর মানুষের ভিড় ঠেলে প্রবেশ করছে শিক্ষার্থীরাও।
একই গেটে দাঁড়িয়ে ছাত্রীদের দিকে শিষ দিয়ে ইভটিজিংয়ের চেষ্টা করতে থাকা উঠতি বয়সের দুই যুবককেও দেখা যায় সেখানে। ওই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী জয়িতা রাণী মিত্র জানান, একই গেট দিয়ে গরু-ছাগল আর শতশত লোকের ভিড় ঠেলে তাদের স্কুলে ঢুকতে কষ্ট হয়। প্রায়ই নানারকম বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাদের।
হলতা ডৌয়াতলা সমবায় বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নূরুল হক খান জানান, একই প্রাঙ্গনে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে জেএসসি, এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষার মূল কেন্দ্র চলে আসছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী কুচক্রী মহল নানাভাবে এই শিক্ষাকেন্দ্রটির ক্ষতিসাধনে উঠে পড়ে লেগেছে। বারবার স্থানীয় প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েও কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থীর জন্য পর্যাপ্ত মাঠ থাকা সত্ত্বেও খেলার জন্য মাঠ ব্যবহার করা যাচ্ছে না। মুক্তিযুদ্ধ আর সাংস্কৃতিক চেতনা জাগাতে এখানে গড়ে তোলা হয়েছে শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ। এই স্তম্ভের ওপরও গরুর হাট বসছে যা মেনে নেওয়া যায় না।
সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ |