১০ টাকায় চাল পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় হতদরিদ্ররা মিজানুর রহমান টিপু, বামনা
বরগুনার বামনা উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায় হতদরিদ্রদের জন্য সুলভ মূল্যে কার্ডের মাধ্যমে চাল বিতরন কর্মসূচি কবে নাগাদ শুরু হবে তা এখনো অনিশ্চিত।
গত এক মাস পূর্বে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে হতদরিদ্রদের নামের তালিকা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পৌছলেও এখনো তা অনুমোদন হয়নি। সেপ্টেম্বর মাস থেকে প্রতিজন হতদরিদ্রকে নির্ধরিত মূল্যে ৩০ কেজি চাল দেয়ার কথা থাকলেও কবে নাগাদ তারা এ সুবিধা পাবেন তা এখনো অনিশ্চিত।
এ ছাড়া যোগ্যতা যাচাই না করে নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উদাসীনতায় হতদরিদ্রদের জন্য সুলভ মূল্যে কার্ডের মাধ্যমে চাল বিতরন কর্মসূচি কতটা সফল হবে তা এখন প্রশ্ন বিদ্ধ।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রন অফিস সুত্রে জানা যায়, সরকার পল্লী অঞ্চলের কর্মাভাবকালীন হতদরিদ্র পরিবারের জন্য সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর এবং ২০১৭ সালের মার্চ ও এপ্রিল মোট পাঁচ মাস ১০টাকা কেজি দরে জনপ্রতি প্রতি মাসে ৩০ কেজি সুলভ মূল্যে কার্ডের মাধ্যমে চাল বিতরন কার্যক্রম চালু করা হয়।
এ লক্ষ্যে বামনা উপজেলার ডৌয়াতলা ইউনিয়নের ৯৫৫ জন, রামনা ইউনিয়নের ৮০৩ জন, বামনা সদর ইউনিয়নের ৯২৭ জন এবং বুকাবুনিয়া ইউনিয়নের ৯৮৮ জন হতদরিদ্রের নামের তালিকা স্ব-স্ব ইউনিয়ন পরিষদ থেকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রন কার্যালয় জমা দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমোদনের অপেক্ষা রয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ও যোগ্যতা যাচাই করে ডিলার নিয়োগের কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারনে কর্তৃপক্ষের ইচ্ছে মতো ৫০০ জন সুবিধাভোগী পরিবারের জন্য একজন করে মোট আটজন ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
নিয়োগ কৃত ডিলারদের বেশী ভাগই ভূয়া কাগজ পত্র অফিসে জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া ডিলারের দোকানে এক সংঙ্গে ১৫ মেট্রিক টন খাদ্র সামগ্রী সংরক্ষনের সুব্যবস্থার নির্দেশনা থাকলেও তা উপেক্ষা করা হয়েছে। অর্থাৎ সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে অযোগ্য লোকজনদের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে বামনা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো.এনায়েত হোসেন মোল্লার কাছে ভুয়া কাগজ পত্র জমা দানের বিষয়টি এবং বিজ্ঞতি ছাড়া অযোগ্য লোকদের ডিলার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করার বিষয় জানতে চাইলে তিনি জানান, কাগজ পত্র সহকর্মীদের যাচাই-বাচাই করে দেখার কথা, আমি সুবিধা নেওয়ার জন্য এ কাজ করিনি, বর্তমানে তিনটি উপজেলার দায়িত্বে থাকায় ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়। ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক জমা কৃত নামের তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তদন্ত সাপেক্ষে অনুমোদন পেলেই চাল বিতরন শুরু হবে।
বামনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন হাওলাদার জানান, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে হতদরিদ্রদের নামের তালিকা এখনো আমার হাতে এসে পৌছায়নি। তালিকা পেলে তদন্ত সাপেক্ষে শীঘ্রই তালিকা চূড়ান্ত করে কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ |