ভারতবর্ষে প্রথম স্টুডিও থিয়েটার চর্চার দাবিদার বরিশাল অনলাইন ডেস্ক
 সংগ্রহীত
‘আমরা পুবে পশ্চিমে, আকাশে বিদ্যুতে, নদীর কলতানে আমরা, সাগরের গর্জনে চলি অবিরাম, অগ্নি আখরে লেখি মোদেরই নাম’—শহীদুল্লা কায়সারের এই লাইন কটি বরিশালের জন্য একান্তই প্রাসঙ্গিক।
রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ কবিতা দিয়ে বিশ্বে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে বরিশালকে। বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক আবৃত্তি চর্চার গৌরব বরিশালের দখলে। আর বাংলাদেশ ছাড়িয়ে ভারতবর্ষে প্রথম স্টুডিও থিয়েটার চর্চার দাবিদারও বরিশাল।
নাট্য সংগঠন শব্দাবলী ২৫ বছর আগে বরিশালে স্টুডিও থিয়েটারের চর্চার মাধ্যমে নাটকে দৃঢ় অবস্থান তৈরি করে। স্টুডিও থিয়েটার প্রতিষ্ঠাই নয়, বছরের প্রতি শুক্রবার নিজেদের গড়ে তোলা স্টুডিও থিয়েটার মঞ্চে দর্শনীর বিনিময়ে নাটক করছে তারা। ২৫ বছরের পথচলাকে সমৃদ্ধ করতে বছরব্যাপী নানা আয়োজনও মানুষকে আকৃষ্ট করেছে। ছিল ঢাকা ও ভারতে নাট্য উৎসব।
২০১৬ সালের ১৫ জানুয়ারি থেকে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালার সমাপনী আয়োজন হয় চার দিনের নাট্য উৎসব দিয়ে।
গত ৩০ ডিসেম্বর নাট্য উৎসবের উদ্বোধন করেন, পশ্চিমবঙ্গের খ্যাতিমান নাট্যাভিনেতা নাট্যজন প্রবীর গুহ। উদ্বোধনের পর সন্ধ্যায় শব্দাবলীর পরিবেশনায় মঞ্চস্থ হয় নাটক সাহেব চান্দের ঈদ ভোজন।
৩১ ডিসেম্বর নাট্যবিষয়ক সেমিনারের প্রতিপাদ্য ছিল। সন্ধ্যায় স্টুডিও থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত নাট্যকর্মীদের আনন্দ বৈঠক প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। দেওয়া হয় গিয়াস-মিলন নাট্য পদক।
১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় স্টুডিও থিয়েটার মঞ্চে পদাতিক নাট্য সংসদ মঞ্চস্থ করে নাটক পোড়ামাটি। ২ জানুয়ারি আলোচনা ও নাটক এলাদিদি মঞ্চায়নের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলার নাট্য ব্যক্তিত্বসহ ভারতের নাট্য অভিনেতারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নাট্যজন প্রবীর গুহ বলেন, ‘এই ভারতবর্ষ এবং বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নেপাল এই কটা দেশের মধ্যে প্রথম স্টুডিও থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেছে শব্দাবলী। কিন্তু কেন স্টুডিও থিয়েটার? থিয়েটারকে অতি খরচের জায়গা থেকে বাঁচানোর জন্যই স্টুডিও থিয়েটারের ধারণা। থিয়েটারের জোর থাকতে হবে। শব্দাবলীর থিয়েটারে সেই জোর আছে বলেই শব্দাবলী টিকে আছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি কেন থিয়েটার করছি, কার জন্য করছি, সেটা পরিষ্কার থাকতে হবে। আমার একটা দায়িত্ব আছে সময় ও সমাজের প্রতি। সেটা পালন করছি। এই জায়গাগুলো বিশেষভাবে আলোচনা হওয়া দরকার। আমরা যেন মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারি।’
স্টুডিও থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা শব্দাবলীর কর্ণধার নাট্যজন সৈয়দ দুলাল বলেন, ‘আমরা স্টুডিও থিয়েটার প্রতিষ্ঠা করেছি। এটা যেমন গর্ব ও অহংকারের, তেমনি কষ্টেরও অনেক বিষয় আছে। স্টুডিও থিয়েটারকে আজকের অবস্থানে বয়ে আনতে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে। তারপরও আমাদের বড় অর্জন, ২৫ বছর নাটকের মাধ্যমে দর্শকের সঙ্গে থেকেছি। আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্ব যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকতে পারে না। যত বেশি সংস্কৃতির চর্চা হবে, তত বেশি আমরা সমৃদ্ধ হব। বর্তমানে যে জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের উত্থান হচ্ছে, সেখান থেকে মুক্তি পেতে সংস্কৃতি ও থিয়েটার চর্চার বিকল্প নেই।’ -প্রথম আলো
|