বামনায় ইউএনও’র মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ বামনা প্রতিনিধি
বরগুনার বামনায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বামনা উপজেলার সর্বাাস্তরের সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।
আজ শনিবার (০৭ জানুয়ারী) সকাল ১১ টায় বামনা উপজেলার সৃত্মিসৌধ চত্বরে ও ডৌয়াতলা বাজারে পৃথক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
মানববন্ধনে বামনা উপজেলার বর্তমান ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সুশীল সমাজের ব্যক্তি-বর্গরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে ও সমাবেশে বামনা-পাথরঘাটা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
মানববন্ধন শেষে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বামনা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. সাইতুল ইনসলাম লিটু মৃধা, নাজমুন্নাহার নাজু, নব-নির্বাচিত জেলা পরিষদ সদস্য মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মোল্লা, ডৌয়াতলা বাজার বনিক সমিতির সভাপতি মো. আফজান হোসেন খান সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।
একই সময় বামনা প্রেসক্লাবের সামনে স্কুল, কলেজ এর শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাধারণ জনতা ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধণ করেন। মানববন্ধন চলাকালীন সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ সৈয়দ মানজুরুর রব মুর্তুযা আহসান, অধক্ষ্য সফিকুল ইসলাম, প্রভাষক সামছুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, সুপার নজরুল ইসলাম
বক্তারা বলেন, ইউএনও সাহেব ২৯ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে রিলিজ হওয়ার পরে ৩০ ডিসেম্বর কিভাবে বেআইনি ভাবে বামনা উপজেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন? গত ২ জানুয়ারী উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে চেয়ারম্যান সহ ১১ জনের নামে মিথ্যা বানোয়াট মামলা দায়ের করেন।
বক্তারা বিদায়ী ইউএনওর করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যথায় ভবিষ্যতে কঠোর কর্মসূিেচর ঘোষণা দেন। পরে আলাদা আলাদা ভাবে মানববন্ধনকারীরা বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বাচ্চুর নিকট স্মারক লিপি প্রদান করেন।
আন্দোলন কারীরা জানান, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের সুদীর্ঘ বছর ধরে বমনা উপজেলার ডৌয়াতলায় গড়ে তোলা হলতা ডৌয়াতলা বহুমূখী সমবায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডৌয়াতলা ওয়াজেদ আলী খাঁন ডিগ্রী কলেজ, দক্ষিণ বঙ্গের সব চেয়ে বড় শহিদ স্মৃতিসৌধ এবং কর্মজীবী নারী ও অসহায় শিশু-কিশোরী ছাত্রীনিবাস।
ডৌয়াতলা বহুমূখী সমবায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে ৮২৪ জন নিয়মিত শিক্ষার্থী। কর্মজীবী নারী ও অসহায় শিশু-কিশোরী ছাত্রীনিবাসেও রয়েছে অর্ধশত শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী নারী। অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলতা ডৌয়াতলা ওয়াজেদ আলী খান ডিগ্রি কলেজও বয়েছে সহস্রাধিক শিক্ষার্থী।
সম্মিলিত এ শিক্ষা কেন্দ্রের মাঠে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত বসত গুরুর বাজার। আর এতে সায় দিয়ে আসছিলেন বামনার সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন হাওলাদার। সম্প্রতি তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই গরুর বাজার অনত্র সরিয়ে নেয় বরগুনা জেলা প্রশাসন। এরপর এই স্কুল সংলগ্ন মাঠে সম্প্রতি দোকান নির্মানের জন্য ডিসিয়ার দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন হাওলাদার।
এতে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে সম্মিলিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিবেশ। এর প্রতিবাদে গত ৩১ ডিসেম্বর বামনা উপজেলার সর্বাস্তরের সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও থুথু নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেন।
এ কর্মসূচির সময় উপস্থিত হয়ে স্কুল প্রাঙ্গনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ডিসিয়ার দেয়া জমিতে নির্মিত দোকান সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাসানুর রহমান রিমন। এমপির এমন ঘোষণার পরে শত শত স্থানীয় অধিবাসী এমপির উপস্থিতিতে দোকানগুলো ভেঙ্গে ফেলেন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনির হোসেন হাওলাদার বামনায় তার শেষ কার্যদিবসে হলতা ডৌয়াতলা বহুমূখী সমবায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও বামনা উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. নুরুল হক খান, সংশ্লিষ্ট ডৌয়াতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান মিজানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে সরকারী কাজে বাধা দানের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
আরো পড়ুন…
বামনায় ইউএনও’র গাড়ীতে হামলায় ১১ জনের নামে মামলা
বামনার ইউএনও’র বিরুব্ধে থুথু নিক্ষেপ ও মানববন্ধন!
সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ |