| `সাগর কন্যা কুয়কাটা সৈকতে, দু’জনে একসাথে’

সাগর কন্যা কুয়কাটা সৈকতে, দু’জনে একসাথে
—— অন্বেষী
ওগো, সুহৃদ- সুজন!
তোমায় জানাই নিমন্ত্রন।
তুমি একটু এসে দেখে যাও,
আমার পটুয়াখালী জেলাধীন,
কলাপাড়া উপজেলার সাগরকন্যা কুয়াকাটা পর্যটন।
দেখবে সাগরকন্যা তোমার জন্য রেখেছে কতো কী আয়োজন।
***********
এসেছো তুমি?
চলোনা, যাই সৈকতে।
পাশাপাশি বেলাভূমে হাটি দুজনে।
তাকিয়ে দেখতো নীল গগণে,,
কী অপূর্ব নীলের বিস্তার!
কী শোভা মনোহর!
সাগর কন্যা যেনো সেঁজে আছে নীল বসনে।
বসে আছে সাগরের ঘোমটা খুলে।
সাগরের হিল্লোল যেনো সাদা সাদা ফুল হয়ে,
আল্লাদে লুটিয়ে পড়ছে কন্যার কোলে।
ঝিনুক গুলো কেমন নাচছে হিল্লোলের তালে তালে।
মাছেরাও লুকোচুরি খেলছে জলের তলে।
নৌকা নিয়ে জেলেরা জলেতে জাল ফেলে,
কেমন আদর করে,মাছগুলো নিচ্ছে কোলে তুলে।
কী ভুবন মোহিনী কন্যা! তাইনা?
যাবে নাকি গঙ্গামতীর চরে?
যেখান থেকে সূর্য উদয়,সূর্যঅস্ত দুটোই ভালো দেখা যাবে।
যাবে নাকি? সুটকী পল্লী,লেবুর চর কিংবা কাকড়ার চরে?
দেখোতো, লাল লাল কাকড়াগুলোকে,
যেনো লাল কৃষ্ণচূড়া ফুল হয়ে আছে ছড়িয়ে।
লেবুর চরে,লেবুর শরবত খেয়ে,
যাবো ইলিশ পার্কে।
বসে মুখোমুখি চায়ের আড্ডাতে,
গল্প করবো দুজনে।
এরপর যাবো রাখাইন পল্লীতে।
দেখবো কুয়াকাটা নামকরনের সেই বিখ্যাত কুয়াটাকে।
রাখাইনদের কতো কী ইতিহাস লুকিয়ে আছে,
সেই কুয়ার তলের জলে।
ওরা পূজা দেয় খোদা-খুদি নামের মূর্তিকে।
চলো দেখে আসি সেই মূর্তিকে।
দেখোতো,,,রাখাইন মেয়েরা বসে আছে কতো রং বাহারী পোশাকে।
বসে আছে ঝিনুক,শামুকের কতো পশরা সাঁজিয়ে।
ওরা কথা বলে ভালো বাংলাতে।
এখানে হিন্দু- মুসলিম-রাখাইন।
যেনো এক আত্মার বন্ধন।
মধ্য লগ্ন হলো,,খুব খিদে পেয়েছে?
চলোনা যাই, রেস্তোরাতে।
খাবে কী?
সুটকী, কাকড়া, ইলিশ,রূপচাদা,
শাপলাপাতা,আরো কতো মাছ নাম না জানা,
আরো কতো কী?
চলো যাই ফিরে সৈকতে।
দেখবো দিনান্তে,সাগর কন্যার বিদায়ের আয়োজন।
দেখো তাকিয়ে ঐ দূর দিগন্তে।
গোধুলীর আবির মেখে,
লাল সিঁদুরের টিপ পড়ে,
সাগর কন্যা যাচ্ছে শ্বশুর বাড়ির ঘরে।
গাংচিল গুলো সেই শোকে কেঁদে কেঁদে যাচ্ছে ফিরে নীড়ে।
কন্যার বিদায়ে, রাত্রি যেনো প্রকৃতিকে স্বান্তনা জানাচ্ছে,আঁধার আলিঙ্গনে।
আর একটু বসবে তুমি?
আচ্ছা চলো,,,
আর একটু বসি সৈকতে,,দুজনে।
একটা গান হলে কেমন হয়?
এমনো মধুরও লগন যদি শেষ না হয়,,,,,,,,,,,
| |