মাদক ব্যবসায়ী দাবি করে সেনা সদস্যকে নির্যাতন বামনা প্রতিবেদক
বরগুনার বামনা থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. খোকনের বিরুদ্ধে সাবেক এক সেনা সদস্যকে মাদক ব্যবসায়ী দাবি করে নির্যাতন ও তিন লক্ষ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল সোমবার (১ মে) বিকালে সাবেক সেনা সদস্য মো. ওহিদুল ইসলাম (২৬) এ নির্যাতনের শিকার হন।
অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা তাকে নির্দয় ভাবে মারধর করে এবং ছয় হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এ অভিযোগের বিচার দাবি করে নির্যাতনের শিকার ওহিদুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার (০২ মে) সকালে বরগুনা পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এছাড়া ঘটনার দিন সোমবার রাতে বামনা প্রেসক্লাবে একটি সংবাদ সমে¥লন করে তিনি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ দেন। মো. ওহিদুল ইসলাম বামনা উপজেলার জাফ্রাখালী গ্রামের মো. আবুল কালামের ছেলে।
অভিযোগে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেলে ওহীদুল বামনা উপজেলার বলইবুনিয়া গ্রামের মো. দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন শেষে বাড়ি ফেরার সময় বামনা-ডৌয়াতলা মহাসড়কের জয়নগর বাজারের পহলান বাড়ির সামনে এলে বামনা থানার এসআই মো. খোকন ও তার সাথে থাকা ৪-৫ জন সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্য তার গতিরোধ করে।
তার কাছে মাদকদ্রব্য আছে দাবি করে পুলিশ তার দেহ তল্লাশী করে এবং বেধরক মারধর করে। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। পরে তাকে হ্যান্ডকাপ লাগিয়ে টেনে হিচরে তাদের সাথে থাকা মোটর সাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। আনসারের পুল নামক স্থানে এলে ওই পুলিশ সদস্যরা তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তিন লক্ষ টাকা দাবি করে।
এসময় ওহীদুল তার বড় ভাইকে ফোন দিয়ে পুলিশের সাথে কথা বলায়। পুলিশ তখন তার পকেট হাতিয়ে ছয় হাজার টাকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়। পরে পুলিশী নির্যাতনে আহত ওহীদুল বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করে।
পুলিশী নির্যাতনের সময় ঘটনা স্থলে উপস্থিত থাকা বিজিবি সদস্য (ছুটিতে থাকা) মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, বিয়ের অনুষ্ঠানে খাওয়া দাওয়া করে ওহীদুলসহ আমরা ৭-৮ জন লোক জয়নগর বাজারের উদ্দেশে রওনা হলে দুইটি মোটরসাইকেলে ৪-৫জন পুলিশ এসে ওহীদুলকে আটক করে শারিরীক নির্যাতন চালায়। এ ঘটনায় সে প্রতিবাদ করলে এসআই খোকন বলে ওহিদুল মাদকসেবী। কিন্তু তার কাছে কোন মাদক পাওয়া গেছে কিনা জানতে চাইলে সে বলে এখন না পেলেও থানায় অনেক মাদক আছে তা দিয়ে তাকে চালান দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই খোকন জানায়, আমার জানামতে ওহীদুল একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী। তাকে ধরার জন্য সোর্স পাঠানো হয়েছিলো। সেই সোর্সের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওহীদুলকে আটক করা হয়েছিল। তার কাছে মাদকদ্রব্য না পাওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তাকে ধরতে গিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে হাতে হ্যান্ডকাপ লাগানোর সময় একটু আঘাত পেতে পারে।
বরগুনা জেলার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক বলেন, এ ঘটনায় ওহীদুল নামের এক ব্যক্তি বামনা থানার এসআই খোকনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। বরগুনার সহকারী পুলিশ সুপার মো. নাজমুল হোসেনকে ঘটনাটির তদন্তের দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে এসআই খোকন দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সম্পাদনা: বরি/প্রেস/মপ |