আমার আপন সহোদর সাংবাদিক রাহাদ সুমন। বরিশালের সাংবাদিক।
ও নিশ্চয়ই অবগত যে, ভীত-সন্ত্রস্ততা সাংবাদিকতার অভিধানে নেই। এ
পেশায় স্থান নেই নতজানু মনোবৃত্তির।
সাংবাদিকতা সুমহান এক পেশা। নিজস্ব গতিতে তার পথ পরিক্রমা। আপন
অস্তিত্বে সঞ্চারিত হয় মনুষ্যত্ববোধ। যে বোধ জাগ্রত-আত্মার সন্ধান করে। সেখানে সে
খুঁজে পায় মানুষে মানুষের মধ্যকার বিবাদ, বিগ্রহ শোষকের আগ্রাসী শোষণ। কর্ণগোচরিত
হয় শোষিতের বিষাদ বেদনার করুণ চিৎকার।
আর তখনই প্রথম ইসলাম ধর্মগ্রহণকারী মহাবীর হযরত আলী (রাঃ) এর ভাষায়,
“কলমের
কালি হয়ে ওঠে শহীদের রক্তের অপেক্ষাও পবিত্র।”
পৃথিবীর সৃষ্টি শুধু নয়, আল্লাহর সকল সৃষ্টির সর্বপ্রথম সৃষ্টিটিও
কলম। যে কলম আরশের ময়দানে লিখে দিয়েছে,” লা ইলাহ ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর
রাসুলুল্লাহ”।
রাহাদ সুমন তোমাকে বলছি, তুমি যখন
আমার পথ ধরে কলম হাতে তুলে নিয়েছো, তখন পবিত্র কুরআনের প্রথম শব্দ
“ইকরা”
মানে
“পড়ো”
এটা আত্মস্থ
করার চেষ্টা করো। আমি চাই তুমি লিখো মৃত্যু পর্যন্ত।
ঝড়-ঝঞ্ঝা, ক্ষোভ-বিক্ষোভ, ঘাত-প্রতিঘাত আসতেই পারে। তাকে রুখে দিয়ে
তোমাকে অগ্রসরমান হতে হবে।
মহান আল্লাহর নাম যব করে অবতীর্ণ হও দুঃসাহসিক, দুর্দমনীয় শপথ
বুকে ধারণ করে। তবেই সাংবাদিকতার সুমহান মর্যাদা সমুন্নত রাখতে পারবে। নিজেকে
শামিল করতে পারবে বিদগ্ধজনের কাতারে।
তোমার প্রতি বর্ষিত আল্লাহপ্রদত্ত প্রতিভা আর অর্জিত শিক্ষার মিশেলে
সাংবাদিকতায় যে প্রজ্ঞার প্রকাশ ঘটিয়েছো, তা শুভার্থীদের কাছে যেমন প্রশংসনীয়,
তদ্রূপ স্বার্থান্বেষীদের জন্য কখনো কখনো ঈর্ষনীয়। ১৫ বছর ধরে বানারীপাড়া
প্রেসক্লাবের সভাপতি পদে বারবার নির্বাচিত হওয়ায় যেমন তুমি সুশীলদের অবস্থানে
পৌঁছেছো, তেমনি নিন্দুকদের বিরাগভাজনে পরিণত হয়েছো। ওসব নষ্ট, ভ্রষ্ট, কীট ও দষ্ট
প্রাণীদের যোগসাজশে তোমার পেছনে একটা মিথ্যা প্রাচীরও দাঁড়িয়ে গেছে। তার তোমাকে
পিষিয়ে মাড়তে চায়। যে কারণে পুরস্কৃত হওয়ার বদলে হুমকির শিকার হয়েছো। এখন থেকে
চোখকান খোলা রেখেই পথ চলতে হবে।
তুমি বীরদর্পে পথ চলো। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অশেষ কৃপা আমাদের
সঙ্গে আছে। ছোট্ট বেলায় আমরা বাবা হারিয়েছি। আর আমি তো আছিই। আমার আছে
বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। শেখ হাসিনার অকৃত্রিম স্নেহাশিস অনুকম্পা। শত শীর্ষ নেতার
অকৃপণ ভালোবাসা। আর আছে গুণমুগ্ধ সম্পাদকের সঙ্গে অসীম বন্ধন, শতসহস্র
সাংবাদিকের সঙ্গে আছে প্রীতিমুগ্ধ ভালোবাসা। সঙ্গে আছে তোমার বসুন্ধরার গ্রুপের
কালের কন্ঠ।
তোমার কলম চলবে,অন্যায়,অসত্যের বিরুদ্ধে আমার দুর্দমনীয় কলম যে গতিতে
চলে। অবশ্য, নীতি নৈতিকতার পরিপন্থী কোনো কর্মে জড়াবে না।
জনপ্রতিনিধিদের ভালো কাজের প্রশংসা আর খারাপ করলে তার বিরুদ্ধেও রুখে
দাঁড়াবে। কোন ছাড় নয়। হুঙ্কারের শির নত করো না।
সয়ং বঙ্গবন্ধু কন্যাই সাংবাদিকদের পাশে আছেন। আর আমার প্রতি মাননীয়
প্রধানমন্ত্রীর স্নেহাতুর ভালোবাসার কথা তো তুমি জানোই। শেখ হাসিনার সততা
নিষ্ঠা, দেশপ্রেম এবং দেশ গড়ার শতসহস্র কীর্তিই বাংলাদেশের বড় শক্তি, বড় অর্জন।
তিনি কাউকে অসৎ পথে চলতে দেবেন না। অন্যায়কারী যে হোক তার রাশ টেনে ধরবেন। বড় বড়
নেতাদের পরিণতি তারই নির্মম প্রতিচ্ছবি। জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা বিশ্ব
রাষ্ট্রনায়কদের কাছে আদর্শ। বাঙালী জাতির অফুরান অহংকার।
আমার ভ্রাতৃপ্রেমী আপন অস্তিত্বে তুমি লালিত। উত্তরাধিকারের
রক্তবীজ হতে আমরা উৎসারিত। আমার উদ্ভূত চেতনা ও সুমহান মূল্যবোধের
জাগ্রতচিত্ত থেকে তোমার উদ্দেশ্যে আমার সুপরামর্শ।
ধরে নিতে পারো ভাইয়ার মনে উদ্ভূত এক দার্শনিক বানী। যা হতে পারে,
তোমার চলার পাথেয়।
বানীর মর্মরমূর্তিরূপ-এমনটাই…..
“বেঁচে আছো এটা অস্বাভাবিক, মরে যাবে এটাই স্বাভাবিক। তাই যতক্ষণ
বেঁচে আছো, বীরের মতো লড়াই করে বাঁচো। মৃত্যু যেহেতু অবধারিত, তখন মৃত্যুকে করে
তোলো মৃত্যুঞ্জয়ী। আর তা কেবলই সম্ভব নিজেকে অপ্রকৃতস্থদের রাশ টেনে ধরো,
আর্ত-মানবতার সেবায়, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশের মুখ প্রোজ্জ্বল করতে। তবে তোমার জন্ম
হবে সার্থক। যা আমার তোমার কাছে আপন সহোদর হিসাবে চিরন্তন কামনা।
পাদটীকাঃ
কি কারণে আকষ্মিক এ লেখা? এ প্রশ্নের উদ্রেক করতে পারে ফেইসবুক
বন্ধুদের মাঝে। কিন্তু এমন কিছু কথার অবতারণা ঘটে, যা প্রকাশযোগ্য হয়ে ওঠে না।
সম্পর্কের প্রাচীর দাঁড়িয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করে। আমার একজন অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন ও
অসাধারণ ব্যক্তিত্বের সঙ্গেই সেই সীমাহীন বন্ধন। এক আত্মার সুতোয় বুনা বন্ধন। তা
কখনও ছিন্ন হবার নয়।
তাই উহ্যই রাখতে হলো, আমার দু চোখে বয়ে যাওয়া কান্নার সাঁতারকে রুখে
দিয়ে। ভালো থাকিস রাহাদ সুমন। তোর কান্নাটা আমি কেঁদে নিলাম।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে আছে ঢাকা-বরিশাল চার লেন মহাসড়ক প্রকল্প