Home » বরিশাল » সংবাদ শিরোনাম » জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে আছে ঢাকা-বরিশাল চার লেন মহাসড়ক প্রকল্প
২২ June ২০২৬ Monday ৯:১৫:৫৬ PM
জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে আছে ঢাকা-বরিশাল চার লেন মহাসড়ক প্রকল্প
এম,এইচ,চুন্নু।। বিশেষ প্রতিনিধি:
পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে গেছে বহুল প্রতীক্ষিত ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার মেগা প্রকল্প।
ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙা পর্যন্ত চোখজুড়ানো এক্সপ্রেসওয়ে থাকলেও, এরপর থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কটি অত্যন্ত সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ রয়ে গেছে।
চাহিদার তুলনায় অর্ধেক জমিও বুঝে না পাওয়ায় শুরুই করা যাচ্ছে না প্রকল্পের মূল নির্মাণকাজ। ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে এবং অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এ অঞ্চলের লাখো মানুষের স্বপ্নের এই মহাসড়ক প্রকল্প।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্যমতে, পদ্মা সেতু চালুর পর ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ২০৫ কিলোমিটারের এই সরু সড়কটিতে যানবাহনের চাপ বহুগুণ বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন এই রুটে প্রায় ৩০ থেকে ৩২ হাজার যানবাহন চলাচল করছে। দুর্ঘটনা কমাতে এবং যানবাহনের নিরবচ্ছিন্ন চলাচল নিশ্চিত করতে ২০১৮ সালে ভাঙা-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়। তবে জমি অধিগ্রহণ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মূল নকশা, ব্যয় নির্ধারণ এবং অর্থায়নের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতায় থমকে আছে দৃশ্যমান কাজ।
জানা গেছে, মহাসড়কের বরিশাল অংশে ৪৭ একর জমির চাহিদা থাকলেও, সওজ এখন পর্যন্ত অধিগ্রহণ করতে পেরেছে মাত্র ২৬ একর।
এই মহাসড়কে নিয়মিত যাতায়াত করা বাস চালক সত্তার হোসেন বলেন, ‘এক্সপ্রেসওয়ে পার হওয়ার পর এই সরু সড়কে ঢুকলেই বুকটা দুরুদুরু করে। গাড়ির চাপ এত বেশি যে ওভারটেক করার জায়গা পাওয়া যায় না। প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। চার লেনের কাজ দ্রুত শেষ না হলে এই সড়কে গাড়ি চালানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।’
সড়কটির বেহাল দশা ও ধীরগতির প্রভাব পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও। রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি বরিশাল মহানগরের সভাপতি বিশ্বজিৎ ঘোষ বিশু বলেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থা মসৃণ না হওয়ায় পর্যটক ও সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্যে। মহাসড়কটি দ্রুত চার লেনে উন্নীত করা এখন সময়ের দাবি।’
দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশ স্থবির হয়ে থাকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহ বলেন, ‘বিগত সরকারের ভুল পরিকল্পনা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণেই এই জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি ঝুলে আছে। জমি অধিগ্রহণের মতো প্রাথমিক কাজ বছরের পর বছর আটকে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ তাদের ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।’
দি বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক এ্যাড এইচ এম তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘পদ্মা সেতুর সুফল আমরা পুরোপুরি পাচ্ছি না এই সরু সড়কের কারণে। সড়কটি প্রশস্ত না হওয়ায় পণ্য পরিবহনের সময় যেমন দীর্ঘ হচ্ছে, তেমনি পরিবহন খরচও অনেক বেড়ে যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে এই মহাসড়ক চার লেনে রূপান্তর করার কোনো বিকল্প নেই।’
প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ বরিশাল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘বরিশাল অংশে ৪৭ একর জমির প্রয়োজন হলেও মাত্র ২৬ একর জমি আমরা হাতে পেয়েছি। বাকি জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। জমি পাওয়ার সাথে সাথেই মূল নকশা ও অর্থায়নের চূড়ান্ত কাজ সম্পন্ন করে দৃশ্যমান কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।’
তবে জটিলতা কাটিয়ে দ্রুতই কাজ শুরু করার কথা জানিয়ে বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান বলেন, ‘আশা করছি খুব দ্রুতই জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শেষ করে ভাঙা থেকে বরিশাল পর্যন্ত চার লেনের মূল কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। পর্যায়ক্রমে কুয়াকাটা পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণের কাজ হাতে নেবে সরকার।’
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় থমকে আছে ঢাকা-বরিশাল চার লেন মহাসড়ক প্রকল্প