Current Bangladesh Time
Thursday June ১৮, ২০২৬ ২:২০ PM
Barisal News
Latest News
Home » রিপোর্টারের ডায়েরি » সংবাদ শিরোনাম » রাজনীতির লীলা-লাস্য বড়ই মধুর বড়ই নিষ্ঠুর
৮ November ২০২০ Sunday ২:৪০:০৯ PM
Print this E-mail this

রাজনীতির লীলা-লাস্য বড়ই মধুর বড়ই নিষ্ঠুর


সোহেল সানিঃ

“আওয়ামী লীগ আবার কি, আমিই আওয়ামী লীগ -আমিই গঠনতন্ত্র এবং আমিই আওয়ামী লীগের মেনিফেস্টো।”এরকম দম্ভোক্তি করা হয়েছিল ১৯৫৪ সালে।আর তা ওই সময়ে প্রকাশ্যে কেই-বা করতে পারেন- একমাত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছাড়া? 

হ্যাঁ, তিনিই ১৯৫৪ সালে দলের সর্ব সম্মত সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগ সরকারের আইন মন্ত্রী হিসাবে যোগদানের পর দম্ভোক্তিটি করেন।

‘আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে আইনমন্ত্রী হওয়াকে দলীয় গঠনতন্ত্র পরিপন্থী বলে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ওঠে।গণতন্ত্রের মানসপুত্র বলে খ্যাত শহীদ সোহরাওয়ার্দী তখন উপর্যুক্ত দম্ভোক্তি প্রকাশ করেন। এতে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মী হতভম্ব হয়ে যান।বাংলার প্রধানমন্ত্রী থাকা কালীন সোহরাওয়ার্দীর ব্যক্তিগত সচিব ছিলেন মোহাম্মদ আলী।তাকে প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়ে আইন মন্ত্রী হওয়াকে মানতে পারছিলেন না সহকর্মীরা।

সোহরাওয়ার্দী পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হলেও ষড়যন্ত্রের মুখে ক্ষমতা চলে যায় সেনা ছাউনিতে। ‘৬৩ সালের ৫ ডিসেম্বর তাঁর রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। ফলে রাজনীতিতে আর ফেরা সম্ভব হয়নি।সোহরাওয়ার্দী মন্ত্রিসভার সদস্য আবুল মনসুর আহমদ তাঁর রাজনীতির ৫০ বছর গ্রন্থে এবং বঙ্গবন্ধু তাঁর আত্মজীবনী ও বিভিন্ন ভাষণে সোহরাওয়ার্দীকেই আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা রূপে তুলে ধরেছেন। কিন্তু নেতার বক্তব্যে তাঁরাও হতভম্ব হন।

প্রকৃত পক্ষে সহকর্মীরা ততক্ষণ ক্ষমতা পছন্দ করে যতক্ষণ তারা বিশ্বাস করে যে, দল পরিচালনা করবার যোগ্যতা তাদের নেতার আছে। অনেক সময় সাধারণ শান্ত কর্মীরা ভীতি-আক্রান্ত হয়েও নেতার অধীন হয়। কিন্তু এ অধীনতার স্থায়ীত্ব নেই। দলের ভেতরে যখন নেতার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সম্ভাব্য বিদ্রোহীদের মধ্যেও নেতা ভীতি জাগিয়ে তুলতে পারেন। নেতার মধ্যে  আত্মবিশ্বাস, দ্রুত সিদ্ধান্তগ্রহণ ও বাস্তবায়নের গুণাবলী থাকতে হয়। অবশ্য এটা নেতৃত্ব সাপেক্ষ বিষয়।।

যেমন ক্যান্টনি যাতে মান্য করে সেজন্য সিজার তাঁকে বাধ্য করতে পারতেন। যেমন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সহকর্মীদের বাধ্য করতেন। তিনি এক অনন্য উচ্চতায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। মুসলিম লীগে তার কর্তৃত্ব এমন ছিলো যে, তার মুখের ওপর কথা বলার সাহস কারো ছিলনা। বললে তা হতো ঔদ্ধত্যের। যে কারণে শেরে বাংলা মুসলিম লীগ থেকেই বিতাড়িত হন। সোহরাওয়ার্দীও জিন্নাহর নির্দেশ অমান্য করার স্পর্ধা দেখাননি।বরং তাকে স্বাধীন বাংলার দাবি বাদ দিয়ে মুসলিম লীগের দিল্লি কনভেনশনে ‘পাকিস্তান প্রস্তাব’ উত্থাপন করতে হয়। মুসলিম লীগের নাম ‘জাতীয়তাবাদী লীগ’ রাখার দাবি করে সোহরাওয়ার্দীকে গণপরিষদ সদস্য পদ হারাতে হয়।সেই জিন্নাহ যক্ষ্মায় আক্রান্ত হলে প্রধানমন্ত্রী নওয়াবজাদা লিয়াকত আলী খানের করুণা লাভেও ব্যর্থ হন। ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মারা যান। পাকিস্তানের জাতির পিতা লাশ করাচী এয়ারপোর্টের বারান্দায় ছয়ঘন্টা পড়ে ছিল। বাংলাভাষার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোয় তাঁর প্রতি বাঙালিপ্রীতির অবসান ঘটেছিল। অথচ, বাংলাই ছিল জিন্নাহ বিজয় ঘাঁটি।

মহাত্মা গান্ধীরও শেষ জীবনে নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব খর্ব হয়। নেহেরু সরকারের কাছে দাবি আদায়ের জন্য অনশণ গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে জীবন দিতে হয়। সোহরাওয়ার্দী ও শরৎবসুর স্বাধীন বাংলার পক্ষে সমর্থন দিয়ে গান্ধীজীকে কংগ্রেস কর্তৃক তিরস্কৃত হতে হয়েছিল। দ্বিজাতি তত্ত্বের বলী হয়ে মওলানা আবুল কালাম আজাদকে কংগ্রেস সভাপতির পদ ছাড়তে হয়। বল্লভ ভাই প্যাটেল বিরাট  ব্যবধানে বিজয়ী হলেও গান্ধীজীর হুকুমে পন্ডিত জওহরলাল নেহেরুই হন কংগ্রেস সভাপতি। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি।নথুরাম গডসের হাতে নিহত হলে মহাত্মা গান্ধীকে জাতির পিতা ঘোষণা করা হয়।

বঙ্গবন্ধুরও মুখের সামনে দাঁড়িয়ে কারো টু-টা শব্দ করার সুযোগ ছিলো না। এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছিলেন জাতির পিতারূপে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিহত হলে লাশ কবরস্থ করার আগেই বিশ্বাস ঘাতকরা মোশতাকের সরকারে যোগ দেন। যারা বঙ্গবন্ধুরই মন্ত্রীপ্রতিমন্ত্রী। রাজনীতির লীলা-লাস্য বড়ই মধুর,বড়ই নিষ্ঠুর। “মুজিবের মানসিক ও নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, গুণাবলী,পরিমাণে কিছুটা কম হলেও,তাঁর কন্যা শেখ হাসিনার ব্যক্তিত্বে প্রতিভাত হয় (“For the spirit of Mujib is there, though diminished, in the personality of his daughter, Sheikh Hasina, who leads the party (Awami League) now”- The Gurardian, London, 11 July 1981) ১৯৮১ সালের ১১ জুলাই গার্ডিয়ান এ মন্তব্য করে।

রাজনীতি ও রাজনীতির নানা বিষয়কে শেখ হাসিনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার ক্ষেত্রে পিতা শেখ মুজিবের প্রত্যক্ষ ভুমিকা ছিলো না।কিন্তু প্রচ্ছন্ন ভাবে তাঁর কন্যার চোখে স্বাধীনতা ও সক্রিয়তাবাদের একটা আদর্শ হিসেবে নিজেকে দাঁড় করিয়েছিলেন। পিতার স্নেহাবেশে সমকালীন রাজনৈতিক ধারা, আওয়ামী লীগের গৌরবোজ্জ্বল যৌবনের সংগ্রাম মুখর কর্মকাণ্ড এবং পূর্বাপর জাতীয় নেতাদের রণনীতি ও রণকৌশল স্বচক্ষে দেখেছেন, হাতে-কলমে শিখেছেন এবং গড়ে উঠেছেন সেভাবেই। জাতির পিতার সর্বাধিক কাছে থাকার সুবাদে স্নেহধন্য হয়ে একধরনের “প্রচ্ছন্ন বড়ত্ব” অর্জন করেন।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর শেখ হাসিনার মাঝে থাকা সেই “প্রচ্ছন্ন বড়ত্ব” তাঁকে ১৯৮১ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সমাসীন করে।যে পর্দার আড়ালে ঢেকে দেয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগের সুনাম ও ঐতিহ্যের একেকটি ধারা, সেই পর্দার একেকটি স্তর নিজের তীক্ষ্ণবুদ্ধির ছুরি দিয়ে একটা একটা করে কেটে ফেলে আওয়ামী লীগকে আবার “জনগণের দল” হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠার পুরো কৃতিত্ব শেখ হাসিনার। 

১৯৮১ সালে শেখ হাসিনার আগমন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করে। এরশাদের সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন, সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনে তাঁর অবদান তরঙ্গশীর্ষে। 

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন এবং দেশে মূলধারার রাজনীতি ফিরিয়ে আনতে তাঁর ভুমিকা অবিস্মরণীয়।কিন্তু চক্রান্ত ষড়যন্ত্র তার পিছু ছাড়েনি। ২১ বার মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেছেন। শেখ হাসিনার অধীন  নেতাদেরও অন্ধ আনুগত্য কতটা স্থায়ী কতটা নিরাপদ? 

লেখকঃ সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট।


শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
লোডশেডিংয়ের কবলে বরিশালের শেবাচিম হাসপাতাল, অন্ধকারে আইসিইউ ওয়ার্ড
বরিশালে বেড়েছে লোডশেডিং, তীব্র গরমে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ
বরিশালজুড়ে হাম পরিস্থিতির মধ্যেই চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু
আটকে আছে ভাঙা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেলপথ প্রকল্প, অবরুদ্ধ হাজারো জীবন
বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল: ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com