Current Bangladesh Time
Tuesday June ১৬, ২০২৬ ১:০৪ PM
Barisal News
Latest News
Home » বরিশাল » বরিশাল সদর » সংবাদ শিরোনাম » বরিশাল বিসিক যেন মিজানের ‘বাপ-দাদার’ সম্পত্তি
২২ September ২০২৪ Sunday ৪:২৮:২০ PM
Print this E-mail this

বরিশাল বিসিক যেন মিজানের ‘বাপ-দাদার’ সম্পত্তি


বিশেষ প্রতিনিধি:

এক যুগ আগে বরিশাল বিসিক শিল্পনগরীর টিনশেড কারখানায় যাত্রা শুরু হয় জুতা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফরচুন শুজের। সেই কারখানার মালিক মিজানুর রহমান ওরফে ফরচুন মিজান এখন সশস্ত্র আনসার প্রহরায় গাড়িবহর নিয়ে চলেন।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ আমলে প্রভাব দেখিয়ে বিসিকের প্লটের বড় অংশ দখল, নামে-বেনামে প্লট হাতিয়ে নেওয়া, কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বঞ্চনাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বরপুত্র মিজান। বলতে গেলে গোটা বিসিক যেন ফরচুন মিজানের নিজস্ব সম্পত্তি। তাঁর হাতেই বিসিকের চাবি। 

জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং ছাগল-কাণ্ডের আলোচিত কর কর্মকর্তা মতিউর রহমানের সঙ্গে যোগসাজশ রেখে অল্প সময়ে ফুলে-ফেঁপে উঠেছেন এই ব্যবসায়ী।

যেভাবে উত্থান
২০১২ সালে বরিশাল বিসিকে ১ একর জমির টিনশেড ঘরে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল রপ্তানিমুখী জুতা উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান ফরচুন শুজ। বর্তমানে বিসিকেই ফরচুন গ্রুপের ৬টি শিল্পকারখানা রয়েছে। গ্রুপটি আয়ত্তে নিয়েছে ২৮টি প্লটের মোট ৬ একর ৮০ শতাংশ জমি। তাঁর পরিবারে এমন কোনো সদস্য পাওয়া যাবে না, যাঁদের নামে প্লট নেই। নানা কৌশলে অন্য মালিকদের প্লট কিনছেন তিনি। মিজান নিজে যেমন বিসিকের আইনকানুন মানেন না, ঘনিষ্ঠজনেরাও তাঁর ক্ষমতায় ক্ষমতাবান। বাবুল হোসেন ওরফে ঝুট বাবুল নামক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে পুরো বিসিক নিয়ন্ত্রণ করেন মিজান। চার ভাই যথাক্রমে আমানুর রহমান, সফিকুর রহমান, রবিউল ও রেজাউল কারখানা দেখভালের পাশাপাশি পুরো বিসিক খবরদারি করেন। 

শ্রমিক শোষণ
বরিশাল বিসিকে মিজানের ফরচুন শুজ কারখানায় শ্রমিকের সংখ্যা ৫ সহস্রাধিক; যাঁদের ৭০ ভাগই নারী। একাধিক নারী জানান, তাঁদের বাধ্যতামূলক সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ৪ ঘণ্টা ধরা হয় ওভারটাইম। এ জন্য প্রত্যেক শ্রমিককে ওভারটাইম মজুরি দেওয়া হয় মাসে ৪০০ টাকা। সে হিসাবে প্রতি ঘণ্টায় ওভারটাইম মজুরি পান সাড়ে ৩ টাকার মতো। বাসে ফ্রি শ্রমিক পরিবহন প্রচার করা হলেও মাসে প্রতিজনের কাছ থেকে নেওয়া হয় ৮০০ টাকা। প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা নেওয়া হলেও চাকরি ছাড়লে টাকা ফেরত দেওয়া হয় না।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, মিজানের ঘনিষ্ঠজনদের কাছে বিসিক কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরাও পাত্তা পান না। তাঁর প্রধান আস্থাভাজন বাবুল হোসেন বিসিক কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ১৪ শতাংশের একটি প্লটে ঝুট ব্যবসা করছেন। শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম খান নীতিমালা ভঙ্গ করে বরাদ্দ প্লটে আইসক্রিমকোম্পানির গোডাউন করেছেন। 

বেপরোয়া মিজানের সহযোগীরাও
মিজানের অপকর্মের সহযোগী হিসেবে আছেন তাঁর ভাই শফিকুর রহমান, মালিক সমিতির নেতা ইব্রাহিম খান এবং ব্যবসায়ী রিনা বেগম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিজানের ঘনিষ্ঠ সহচর রিনা। তিনি তাঁর কারখানার অনুমতি নেন ঝুট দিয়ে তুলা প্রস্তুত করার জন্য। কিন্তু তিনি বিসিকে অবৈধ প্লাস্টিকের কারখানা গড়ে তুলেছেন। আরেক সহযোগী বাবুল কেবল ঝুট প্যাকেট করার জন্য ২০ শতাংশ জমি দখল করে আছেন। অপর সহযোগী ইব্রাহিম অবৈধ জুস কারখানার অংশীদার। ‘ইনটেক বেভারেজে’ নিম্নমানের জুস, চকলেট উৎপাদন করা হয়। এ ছাড়া অপর কারখানা জেআইবি অ্যাগ্রোতে ভেজাল চানাচুর ও নকল চিপস তৈরি করা হয়।

সালমান-মতিউরের সঙ্গে সখ্য
ছাগল-কাণ্ডের মূল হোতা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরিচালকের পদ হারানো মতিউর রহমানের অন্যতম ঘনিষ্ঠজন মিজান। অভিযোগ উঠেছে, শেয়ারবাজার থেকে অর্থ হাতানো মতিউরের প্রধান সহযোগী ছিলেন তিনি। এমনকি অবৈধ আয়ের একটি অংশ মতিউর ফরচুন গ্রুপে বিনিয়োগ করেছেন। আলোচিত ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানের সঙ্গেও তাঁর গভীর সখ্য রয়েছে, এমনটাই জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীদের ক্ষোভ
বিসিক মালিক সমিতির প্রস্তাবিত সভাপতি সুন্দর আলম বলেন, ‘ফরচুনের সব শ্রমিক ৮ ঘণ্টার বদলে ১২ ঘণ্টা কাজ করেন। তারপরও শ্রমের মূল্য পান না। এগুলো নিয়ে মারামারিও হয়েছে মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে। আসলে মিজানের কারখানায় যা হয়, অন্য স্থানে তা হয় না।’ 

ফরচুন গ্রুপের বক্তব্য
এসব বিষয়ে জানতে ফরচুন গ্রুপের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপেও যোগাযোগ করে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মিজানের ভাই ফরচুন গ্রুপের পরিচালক শফিকুর রহমান বলেন, ‘১২ ঘণ্টা শ্রমিকেরা কাজ করেন, এমন অভিযোগ সঠিক নয়। এ ছাড়া যেসব প্লট কেনা হয়েছে, সেগুলোর অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে।’ সালমান এফ রহমান এবং মতিউর রহমানের সঙ্গে তাঁদের ব্যবসায়িক কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি শফিকের।

বিসিকের ভাষ্য: বরিশাল বিসিকের একাধিক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘বিসিকের সবকিছু চলে মিজানের কথায়। আমাদের দাপ্তরিক কোনো আদেশ-নির্দেশকে তিনি পাত্তা দেন না।’ 

বিসিকের এস্টেট কর্মকর্তা গোলাম রসুল রাসেল বলেন, ‘বাস না রাখার জন্য সর্বশেষ গত বছর ২২ নভেম্বর ফরচুন গ্রুপের চেয়ারম্যানকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি কোনো নোটিশেরই তোয়াক্কা করেন না। সড়কে বর্জ্য ফেলায় অস্বস্তিতে আছেন তাঁরা।’

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
আটকে আছে ভাঙা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেলপথ প্রকল্প, অবরুদ্ধ হাজারো জীবন
বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল: ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী
বাজেটে বরিশালে বাণিজ্যিক উন্নয়নের দাবি
দখল আর অপরিকল্পিত নগরায়ণে হারিয়ে যাচ্ছে বরিশাল নগরীর ১৭ খাল
বন্ধ হয়ে গেল অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা, বিপাকে শ্রমিকেরা
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com