Current Bangladesh Time
Friday June ১৯, ২০২৬ ৫:১৯ PM
Barisal News
Latest News
Home » ভোলা » ভোলা সদর » ভোলা সদর হাসপাতাল: বাড়তি খরচে নাকাল রোগী
২৬ March ২০২৬ Thursday ৪:১১:২৪ PM
Print this E-mail this

ভোলা সদর হাসপাতাল: বাড়তি খরচে নাকাল রোগী


ভোলা প্রতিনিধি:

‘এক্স-রে ফিল্ম না থাকার কারণে এক্স-রে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ’—এমন লেখা সেঁটে দেওয়া হয়েছে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের এক্স-রে কক্ষের সামনে। কক্ষটি তালাবদ্ধ। রোগীরা জানিয়েছেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে হাসপাতালের এক্স-রে কক্ষটি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। সেখানে এক্স-রে করা হচ্ছে না। আর দালালেরা সেই সুযোগে তাঁদের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়ে যাচ্ছেন হাসপাতালের রোগীদের।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফিল্ম না থাকায় হাসপাতালটিতে এক্স-রে সেবা বন্ধ রয়েছে।

জেলার ১৭ লক্ষাধিক মানুষের জন্য এই হাসপাতাল। সরকারি হাসপাতালটিতে এক্স-রে সেবা বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে রোগীর স্বজনদের বেসরকারি ক্লিনিক থেকে কয়েক গুণ বেশি টাকা দিয়ে এক্স-রে করাতে হচ্ছে। ফলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হয় হাত ভাঙা রোগীদের। হাসপাতালটির অর্থোপেডিক বিভাগে আসা রোগীদের এক্স-রের জন্য বাইরের ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হয়।

গতকাল বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নিচতলায় এক্স-রে কক্ষে তালা ঝুলছে। দরজায় সাদা কাগজে টানানো হয়েছে নোটিশ। তাতে লেখা ‘এক্স-রে ফিল্ম না থাকার কারণে এক্স-রে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ।’ হাসপাতালের ছয়তলায় অর্থোপেডিক চিকিৎসক শুভ প্রসাদের কক্ষের সামনে বেশ কয়েকজন রোগীকে দেখা যায় অপেক্ষা করতে। তাঁদের কারও হাত ভাঙা, আবার কারও পা।

কথা হয় শহরের গাজীপুর রোডের ব্যবসায়ী বাবুলের সঙ্গে। বাবুল জানান, আড়াই মাস আগে অটোরিকশা থেকে পড়ে তাঁর ডান হাত ভেঙে যায়। এরপর অর্থোপেডিক চিকিৎসকের কাছে এলে তাঁকে এক্স-রে করাতে পরামর্শ দেন। বাবুল জানান, হাসপাতালে এক্স-রে না হওয়ায় বাধ্য হয়ে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকেই অন্তত পাঁচবার এক্স-রে করাতে হয়েছে। এতে তাঁর তিন হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। এ ছাড়া ভোগান্তিতেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। অথচ হাসপাতালে এক্স-রে করাতে সরকারি খরচ ছোট ফিল্ম ১০০ টাকা এবং বড় ফিল্ম ২০০ টাকা।

সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নের দিনমজুর মো. রহিজল বলেন, রোজার মধ্যে সিঁড়ি থেকে পড়ে তাঁর বাম হাতটি ভেঙে যায়। অর্থোপেডিক চিকিৎসক শুভ প্রসাদকে দেখালে তিনি তাঁকে এক্স-রে করাতে বলেন। হাসপাতালে এক্স-রে করাতে না পেরে বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে তিনবার এক্স-রে করাতে দেড় হাজার টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান রহিজল।

জানতে চাইলে হাসপাতালের অর্থোপেডিক চিকিৎসক ডা. শুভ প্রসাদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, এখানে প্রায় প্রত্যেক রোগীরই এক্স-রে লাগে। কিন্তু হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনের ফিল্ম না থাকায় এক্স-রে হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে রোগীরা ভোগান্তির শিকার হয়ে বেশি টাকা দিয়ে বাইরে থেকে এক্স-রে করান। এ চিকিৎসক জানান, শুধু অর্থোপেডিক বিভাগে তিনি একাই প্রতিদিন প্রায় ১০০ রোগী দেখেন। এদের মধ্যে বেশির ভাগই হাত-পা ভেঙে যাওয়া রোগী।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় এক বছরের বেশি সময় পার হলেও সংশ্লিষ্ট খাতে অর্থ বরাদ্দ না দেওয়ায় এবং অনুদান বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ নানা কারণে এক্স-রে ফিল্ম কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ও বাইরে থেকে এক্স-রে করতে আসা রোগী ও স্বজনদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

হাসপাতালটির আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সামছুল আলম বলেন, হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন বেশ ভালো মানের। কিন্তু ফিল্মের অভাবে এক বছরের অধিক সময় ধরে এ সেবা বন্ধ রয়েছে। তিনি বলেন, মাঝখানে কিছুদিন ৫২৫ জন হজযাত্রীর জন্য ৫০০ ফিল্ম এসেছিল। এর মধ্যে ২৫ জন হজযাত্রী বাইরে থেকে এক্স-রে করিয়েছেন। কবে নাগাদ ফিল্ম হাতে পাওয়া যাবে সেটি নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. তৈয়বুর রহমান বলেন, ফিল্মের প্রয়োজন থাকলেও হয়তো দাম বাড়ার কারণে সেটি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি। বরাদ্দ হলে ফিল্ম পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের ভোগান্তি কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশা করি দ্রুত এর সমাধান করা হবে।’

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
জিয়াউর রহমানের খনন করা সেই স্বনির্ভর খাল পুন:খননে ‘অনিয়ম’
লোডশেডিংয়ের কবলে বরিশালের শেবাচিম হাসপাতাল, অন্ধকারে আইসিইউ ওয়ার্ড
বরিশালে বেড়েছে লোডশেডিং, তীব্র গরমে জনজীবনে চরম দুর্ভোগ
বরিশালজুড়ে হাম পরিস্থিতির মধ্যেই চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু
আটকে আছে ভাঙা-বরিশাল-কুয়াকাটা রেলপথ প্রকল্প, অবরুদ্ধ হাজারো জীবন
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com