Current Bangladesh Time
Wednesday October ৭, ২০২৬ ১০:৩৮ PM
Barisal News
Latest News
Home » বরিশাল » বরিশাল সদর » বরিশাল বিএম কলেজ: কার্যক্রম নেই, তবু ফির বোঝা
৪ May ২০২৬ Monday ২:০৩:৪১ PM
Print this E-mail this

বরিশাল বিএম কলেজ: কার্যক্রম নেই, তবু ফির বোঝা


নিজস্ব প্রতিনিধি:

ঐতিহ্যবাহী বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে কার্যক্রম না থাকা খাতের সেশন ফি আদায় বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের ১৯টি খাতে সেশন ফি বাবদ ২ হাজার ৬২০ টাকা আদায়ের নোটিশ দেওয়ার পর তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। শিক্ষার্থীদের দাবি, এসব খাতের মধ্যে ১০টিরই কোনো কার্যক্রম নেই। তবু শিক্ষার্থীদের ঘাড়ে অযৌক্তিক ফির বোঝা চাপানো হচ্ছে।

কার্যক্রম না থাকা এসব খাতের ফি আদায় বন্ধের দাবিতে গতকাল রোববার কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাঁরা সেশন ফি বাবদ আদায় করা অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনারও দাবি জানান। এদিকে সেশন ফির অযৌক্তিক চাপ নিরসনের দাবিতে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে অধ্যক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। বিক্ষোভ করেছে ছাত্র ইউনিয়নও।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, গত ২২ এপ্রিল বিএম কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের সেশন চার্জ বাবদ ২ হাজার ৬২০ টাকা ধার্য করে অধ্যক্ষ ড. শেখ মো. তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নোটিশ জারি করা হয়। এতে ১৯টি খাতের কথা উল্লেখ করা হয়। কলেজটিতে দ্বিতীয় বর্ষে বিভিন্ন বিভাগে প্রায় ৪ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, যেসব শিক্ষার্থী সেশন ফি দিতে ব্যর্থ হবেন, শ্রেণিকক্ষে তাঁদের হাজিরা ডাকা হবে না। এ ছাড়া তাঁরা ইনকোর্স পরীক্ষায়ও অংশ নিতে পারবেন না। ইনকোর্স পরীক্ষায় নির্ধারিত নম্বর দেওয়া হবে না।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলেন, কলেজ প্রশাসন নোটিশ জারি করে শিক্ষার্থীদের এ ধরনের হুমকি দিতে পারে না। কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্র বলেন, ‘সেশন চার্জের নামে অর্থ নিলেও প্রতিটি খাতে আমাদের পর্যাপ্ত সুবিধা বুঝিয়ে দেওয়া না।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রী বলেন, ‘আমরা প্রথম বর্ষে ভর্তির সময়ে সব ফি পরিশোধ করেছি। এখন অনেকে কলেজ পরিবর্তন করবে; কিংবা কেউ কেউ উত্তীর্ণ হবে না। তাহলে আগেভাগে কেন আমরা সেশন চার্জ দেব। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অযৌক্তিক খাতে অর্থ নেওয়া বন্ধ করতে হবে।’

কলেজের প্রশাসনিক শাখা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সেশন ফি আদায়ের নোটিশে ১৯টি খাতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি খাতের কোনো কার্যক্রম নেই, কয়েকটি থাকলেও তা খুবই সামান্য। এসব খাতের মধ্যে রয়েছে খেলাধুলা (বহিরাঙ্গন) বাবদ ৫০ টাকা, অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া ও কমনরুম ৪০ টাকা, ম্যাগাজিন ৩০ টাকা, গ্রন্থাগার ৫০ টাকা, পরিবহন ৫৬০ টাকা, তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) ২০ টাকা, অত্যাবশ্যকীয় খরচ ৬৮০ টাকা, চিকিৎসাসেবা ২০ টাকা, ব্যবস্থাপনা ফি ৫০ টাকা এবং বিবিধ ১০০ টাকা। সব মিলিয়ে ২ হাজার ৬২০ টাকার মধ্যে ১ হাজার ৬০০ টাকাই অযৌক্তিকভাবে আদায় করা হয়।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসে কোনো খেলাধুলা হচ্ছে না অনেক বছর ধরে। ১০ বছর ধরে ম্যাগাজিনও বের হয় না। গ্রন্থাগারে পর্যাপ্ত সেবা পাওয়া যায় না। চাপিয়ে দেওয়া সবচেয়ে অযৌক্তিক ফি নেওয়া হয় পরিবহন খাতে—৫৬০ টাকা। কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, কলেজের ২০ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১০ ভাগ শিক্ষার্থী পরিবহন সেবা পান।

শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, আইসিটি সুবিধা নেই বললেই চলে। ৬৮০ টাকা অত্যাবশ্যকীয় খরচের নামে কলেজের শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন তোলা হয় ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে। প্রতিবছর চিকিৎসা খাতের ফি আদায় করা হলেও সেবা পাওয়া যায় না। একজন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনি নিয়মিত আসেন না। এ ছাড়া ব্যবস্থাপনা ফি এবং বিবিধ খাতের নামে প্রায় ২০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে।

এদিকে সেশন ফি আদায় ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিরসনের দাবিতে ক্যাম্পাসে ছাত্র সমাবেশ করেছে ছাত্র ইউনিয়ন। দুপুরে ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্টে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বিএম কলেজ শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সহসাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক সুজয় সরকার ও সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ণব রায়। এ ছাড়া ছাত্রদলের পক্ষ থেকে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে। কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, সেশন ফির নামে অযৌক্তিক চাপ এবং প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা নিরসন করতে হবে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে বরিশাল বিএম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ তাজুল ইসলাম বলেন, সরকারের পরিপত্র অনুযায়ী সেশন ফি নেওয়া হয়ে থাকে। ছাত্র সংসদসহ যেসব খাতে কার্যক্রম নেই, ২৫ সালের পর থেকে সেসব খাতে কোনো ফি নেওয়া হচ্ছে না।

বিভিন্ন খাতের কোনো কার্যক্রম না থাকার অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক শেখ তাজুল ইসলাম বলেন, সারা বছরই শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা চলছে। তবে এটা ঠিক, পরিবহন সুবিধা সবাই পান না। তারপরও দিতে হয়। এ ছাড়া অত্যাবশ্যকীয় খাতে আদায় করা অর্থ দিয়ে কর্মচারীদের সম্মানী দেওয়া এবং কলেজের সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণে আইনি মোকাবিলা করতে হয়।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশালে সবজির বাজার চড়া, বেড়েছে মাছের দামও
শেবাচিম হাসপাতাল: পাঁচ হাজার রোগীর জন্য মাত্র ১৩টি ট্রলি
বরিশালে পঞ্চম দিনের মতো এলপি গ্যাসশূন্য
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক মাত্র ১৮ ফুট, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি
বরিশালে বিসিসি’র মার্কেট বাণিজ‍্যে বিএনপি নেত্রীর বাধা, মানববন্ধন
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com