তীব্র গরমের মধ্যে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঝালকাঠির বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। দিনের পাশাপাশি রাতেও একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালতের কার্যক্রম ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।বিশেষ করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন।
ঝালকাঠি শহরের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী সায়মা সিদ্দিকা মোমবাতির আলোয় পড়াশোনা করছেন। পাশে বসে তার বাবা হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন। গত দুই মাস ধরে দিনে ও রাতে কয়েক দফা লোডশেডিংয়ের কারণে তার মতো শত শত শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে।এতে পরীক্ষার ফলাফল নিয়েও উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নন, জেলার সাধারণ গ্রাহকরাও তীব্র গরমে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি (ওজোপাডিকো) এবং পল্লী বিদ্যুতের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা। লোডশেডিং বন্ধ, গ্রাহক হয়রানি ও বিদ্যুৎ অফিসের নানা অনিয়মের প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হচ্ছে।তবে এতে কোনো প্রতিকার মিলছে না বলে অভিযোগ তাদের।
লোডশেডিংয়ের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যও ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী রাতে মোমবাতি বা চার্জার লাইট জ্বালিয়ে দোকান পরিচালনা করছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় অফিস-আদালত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাজেও বিঘ্ন ঘটছে। উৎপাদন কমে যাচ্ছে কলকারখানায়।গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা খাবারও নষ্ট হচ্ছে। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ চলে গেলে ছোট জেলা শহরটি প্রায় অন্ধকারে ডুবে যায়।
গ্রাহকদের অভিযোগ, ঝালকাঠি জেলাজুড়ে দিন-রাত ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন। বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক হয়রানি এবং ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগও রয়েছে দীর্ঘদিনের। এসব কারণে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।
বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝালকাঠি জেলায় ওজোপাডিকোর আওতায় বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ১১ মেগাওয়াট। কিন্তু বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৬ মেগাওয়াট। এ কারণে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত এবং অনিয়ম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহকরা।
ঝালকাঠি শহরের কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, “দিন ও রাতে মিলিয়ে ছয় থেকে সাতবার লোডশেডিং হচ্ছে। প্রতিবার প্রায় এক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকে না। তীব্র গরমে আমরা দিশাহারা হয়ে পড়েছি।”
নলছিটি শহরের বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে ছেলে-মেয়েরা পড়াশোনা করতে পারে না। ঘুমের মধ্যেও বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘুম ভেঙে যায়। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের ভোগান্তি আরো বাড়বে।”
নলছিটি ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সায়মা সিদ্দিকা বলেন, ‘পরীক্ষার সময় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে খুব সমস্যায় পড়ছি। মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়তে হচ্ছে। গরমে ঠিকমতো পড়াশোনা করা যায় না। এতে পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
ঝালকাঠি ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি (ওজোপাডিকো)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মতিউর রহমান বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় কিছুটা ঘাটতি হচ্ছে। আমাদের জেলায় চাহিদা ১১ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাচ্ছি মাত্র ৬ মেগাওয়াট। বেশি বিদ্যুৎ বরাদ্দ পেলে গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।’
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশাল স্কাউটের অনিয়ম নতুন করে খতিয়ে দেখা হবে: শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান
বরিশালে মারজুকের মামলা বাণিজ্যে হয়রান মানুষ
১৩ জুলাই বরিশালে আসছেন তারেক রহমান, গৌরনদীতে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন ও সাংগঠনিক সভা
দক্ষিণাঞ্চলে বেহাল ১১ শতাধিক কমিউনিটি ক্লিনিক, কোনোটাতে বাস করে সাপ