আসামির মৃত্যুর গুজবে বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও পুলিশ সদস্যদের আহত করার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় হয়রানির উদ্দেশ্যে দৈনিক যুগান্তরের আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামসহ দুই সাংবাদিককে জড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ষড়যন্ত্র করে হয়রানির উদ্দেশ্যে ওই দুইজন সাংবাদিককে মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
জানা গেছে, আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও পুলিশ সদস্যদের আহত করার ঘটনায় ৪৩ জনের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও তিনশত জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা টিভির প্রতিনিধি এফ.এম নাজমুল রিপনকে ২১ নাম্বার এবং প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তরের আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামকে ২৩ নাম্বার আসামি করা হয়েছে। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে হামলাকারীদের প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
হয়রানির উদ্দেশ্যে ওই ২ সাংবাদিককে মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদে শনিবার দুপুরে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব কার্যালয়ে প্রেসক্লাবের সভাপতি মো, শামীমুল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সরদার হারুন রানা, কে.এম আজাদ রহমান, সহ-সভাপতি এইচ.এম মাসুম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীর বিশ্বাস ননী, সদস্য বরুন বাড়ৈ, মানিক হাওলাদার, স্বপন দাস প্রমুখ। বক্তারা বলেন, ষড়যন্ত্র করে হয়রানির উদ্দেশ্যে ওই ২ সাংবাদিককে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
থানায় হামলার ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক প্রথমে হাসপাতালে ও পরবর্তীতে থানায় গিয়ে ভাংচুরের দৃশ্য ও আহত পুলিমদের ও ওসির বক্তব্য ভিডিও করেন। ২ সাংবাদিককে মামলায় জড়ানোর ঘটনায় সকল সাংবাদিকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের হয়রানি না করার আহ্বান জানান। ওই দুই সাংবাদিক কেবল সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে হামলার ঘটনার পর ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। আশা করি নিরপেক্ষ তদন্ত করলে ওই ২ সাংবাদিককের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে না। তারা পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ওই ২ সাংবাদিককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।
আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তরের আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি মাদকসহ ৪ জনকে আটক করে পুলিশ টাকার বিনিময়ে ৩ জনকে ছেড়ে দিয়ে ১ জনকে আদালতে সোপর্দ করেন। এ সংবাদ যুগান্তরসহ ৪/৫টি দৈনিক প্রত্রিকায় ও নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত হলে থানা পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে এক মাদক বিক্রেতাকে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে থানায় ডিজি দায়ের করানো হয়। ষড়যন্ত্র করে হয়রানির উদ্দেশ্যে আমাকে ওই মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ ব্যাপারে আমি তথ্যমন্ত্রীসহ উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক এফ.এম নাজমুল রিপন বলেন, সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদের জের ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র আমার বিরুদ্ধে থানায় ৬টি জিডি করেছে। থানায় হামলার ঘটনায় আমরা প্রশাসনের পাশে থেকে নিউজ দিয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি। তারপরও আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।
আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. মাসুদ খান বলেন, ভিডিও ফুটেজ, প্রাথমিক তদন্ত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হামলাকারী ও হামলায় উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একাধিক তদন্ত দল কাজ করছে। তদন্তে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে হয়রানি করা হবে না এবং প্রয়োজন হলে আইনানুগভাবে মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই রাতে একটি মামলার সন্দীগ্ধ আসামি হিসেবে রিয়াজ ফকিরকে গ্রেফতার করে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ। থানা হাজতে দেয়ালের সাথে রিয়াজ নিজেই মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন রিয়াজ ফকির পুলিশের নির্যাতনে মারা গেছেন এমন গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আত্মীয় স্বজনসহ স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে মিছিল নিয়ে থানায় প্রবেশ করেন। এ সময় হামলা, ভাঙচুর এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মারধরের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর দায়ের করা মামলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে নারী-পুরুষসহ ১৮ জনকে গ্রেফতার করে বরিশাল আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের বিচারক তাদেরকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
স্বাস্থ্যের পরিচালককে নিয়ে বরিশাল ড্যাবের প্রকাশ্যে গ্রুপিং, স্বাস্থ্য বিভাগে অস্থিরতা