Home » বরিশাল » নাজিরপুরে ধান বিক্রি করলেন বিএনপি-জামায়াতের নেতারা, নষ্ট হচ্ছে কৃষকের ধান
১৩ July ২০২৬ Monday ৭:০৭:৩৪ PM
নাজিরপুরে ধান বিক্রি করলেন বিএনপি-জামায়াতের নেতারা, নষ্ট হচ্ছে কৃষকের ধান
নাজিরপুর ((পিরোজপুর) প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের নাজিরপুরে সরকারের উদ্যোগে ধান ক্রয় কর্মসূচিতে কৃষকের পরিবর্তে গোডাউনে ধান বিক্রি করেছেন স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের নেতারা। আর পাশাপাশি গোডাউনে বিক্রির উদ্দেশ্যে এনে স্তূপ করে রাখা কৃষকের হাজার মণ ধান নষ্ট হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, ওই সব ধান বিক্রয়ে গুদামরক্ষক কর্মকর্তাকে (ওসিএলএসডি) কার্ড প্রতি দিতে হয়েছে ৫ হাজার টাকা করে। কৃষকরা ওই টাকা না দেওয়ায় বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তাদের ধান গ্রহণ করা হয়নি।
উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, ঘুস গ্রহণ ও অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় ওই কর্মকর্তার বদলি আদেশ হয়েছে। এ পর্যন্ত ধান ক্রয় কর্মসূচির অর্ধেক ক্রয় করা হলেও তা বন্ধ করে দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
তবে গুদামরক্ষক কর্মকর্তা মহিমা আক্তার এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গুদামে ধান বিক্রি করতে আসা কোনো প্রকৃত কৃষকের কাছে ঘুস দাবি করা হয়নি।
সরেজমিন উপজেলার শ্রীরামকাঠী খাদ্যগুদামে গিয়ে দেখা গেছে, গুদামের পেছনের রাস্তার দুপাশে এবং গোডাউনের সামনের খালপাড়ে বস্তায় করে স্তূপ করে রাখা হয়েছে হাজার হাজার মণ ধান। ওই সব ধান পলিথিনে করে ঢেকে রাখা হলেও নিচ থেকে বৃষ্টির পানিতে ভিজছে।
জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে ধানের দাম কম থাকায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারা দেশের ন্যায় নাজিরপুরের কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্য মূল্যে ১ হাজার ৩০৬ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়। প্রতি মণ ধানের বাজার মূল্য ৮-৯শ টাকা হলেও সরকার ওই ধান ক্রয় করছেন ১ হাজার ৪৪০ টাকায়। সেই সুযোগে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের নেতারা আর্থিকভাবে লাভবান হতে তালিকা করে কৃষকের পরিবর্তে নিজেরাই দিয়েছেন সেই ধান।
উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু হাসান খানের হাতের লেখা ধান বরাদ্দের নামের একটি তালিকা যুগান্তরের কাছে পৌঁছেছে। ওই তালিকায় দেখা গেছে উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ ৬ নেতার প্রত্যেকে নিয়েছেন ৮টি করে কার্ড। এছাড়া যুব ও ছাত্রদলসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাদেরও নাম রয়েছে ওই তালিকায়। আর প্রতিটি কার্ডে বরাদ্দ রয়েছে ৩ টন করে ধান।
অভিযোগ রয়েছে, এসব বিএনপি-জামায়াতের নেতারা কৃষি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন। এমনকি তাদের নামে নেই কোনো কৃষি কার্ড।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, অধিকাংশ নেতার নামে বরাদ্দকৃত কার্ড ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন স্থানীয় ধান ব্যবসায়ীদের কাছে। আর তারা কৌশলে প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে ওই কৃষি কার্ড সংগ্রহ করেছেন। এজন্য কোনো কোনো কৃষককে ১ হাজার টাকা আবার কাউকে হুমকি দিয়েও নিয়ে আসা হয়েছে তার কৃষি কার্ড।
উপজেলা সদরের কৃষক জাকির হোসেন খান অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে নিজ নামের একটি কৃষি কার্ডে বরাদ্দ হিসাবে ৩ টন ধান বিক্রির জন্য তা নিয়ে গোডাউনে যান। গোডাউন কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) ওই ধান ঢুকাতে তার কাছে ৫ হাজার টাকা ঘুস দাবি করেন। আর ওই টাকা দিতে হবে তার স্বামী বেল্লাল হোসেনের কাছে; কিন্তু টাকা না দেওয়ার বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তার ধান ফেরত দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার সদর ইউনিয়নের দীঘিরজান গ্রামের কৃষক তুজম্বর ভূঁইয়া অভিযোগ করে বলেন, গোডাউন কর্মকর্তাকে তার চাহিদামতো টাকা দিতে না পারায় তাদের ধান এখনো বস্তায় করে রাস্তার উপরে স্তূপ করে রাখা রয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজে ধান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমনকি ওই সব ধান অঙ্কুরোদগমেরও সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সেখানে ধান রাখা কৃষকরা চরমভাবে ভোগান্তিতে পড়বেন।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান দুলাল বলেন, তিনি ধানের কোনো কার্ড বণ্টনের সঙ্গে জড়িত নন। এ সময় তিনি ঢাকায় ছিলেন। উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিবসহ অন্যরা এ বণ্টনের তালিকা করেছেন বলে শুনেছি।
তবে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু হাসান খান বলেন, কোনো বণ্টনের ঘটনা ঘটেনি। প্রকৃত কৃষকরাই ধান দিয়েছেন।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
নিজেদের পরিবেশ নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে: বরিশালে তারেক রহমান