Home » ঝালকাঠি » ঝালকাঠি সদর » ঝালকাঠি জেলা পরিষদ: এমপি-প্রশাসকের দ্বন্দ্বে বন্ধ ৪০০ উন্নয়ন প্রকল্প
১৮ July ২০২৬ Saturday ২:১৯:১২ PM
ঝালকাঠি জেলা পরিষদ: এমপি-প্রশাসকের দ্বন্দ্বে বন্ধ ৪০০ উন্নয়ন প্রকল্প
বিশেষ প্রতিনিধি:
oppo_2
স্থানীয় দুই এমপির সঙ্গে জেলা পরিষদ প্রশাসকের দ্বন্দ্বে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ৪শ’র বেশি উন্নয়ন প্রকল্পের ভাগ্য। ঝালকাঠী জেলার চার উপজেলার জন্য নেওয়া হয়েছিল এসব প্রকল্প। সবগুলো প্রকল্পের অনুমোদন আটকে দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। জেলার দুই সংসদ-সদস্য বলছেন, প্রকল্প নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা কিংবা পরামর্শ করেননি প্রশাসক। বিষয়টি তাই লিখিতভাবে জানানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ে। এদিকে প্রশাসক বলছেন, আমার কাছে সংসদ-সদস্যদের পাঠানো প্রকল্পও রয়েছে তালিকায়। তারপরও তারা কেন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিলেন সেটা তারাই ভালো বলতে পারবেন। দুই এমপির দেওয়া ডিও (ডিমান্ড অব অর্ডার) লেটারের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ প্রশ্নে স্থানীয় সংসদ-সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে নিতে বলা হয়েছে জেলা পরিষদ প্রশাসককে। ইতোমধ্যে সেই চিঠি পৌঁছেছে প্রশাসকের হাতে। তবে চিঠির প্রেক্ষিতে এমপিদের সঙ্গে বৈঠক কিংবা তাদের পরামর্শ নেওয়ার কোনো উদ্যোগ এখনো নেওয়া হয়নি বলে নিশ্চিত করেছে একাধিক সূত্র।
সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে ঝালকাঠী জেলার দুটি আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল এবং দলের জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। পরবর্তীতে চলতি বছরের ১৫ মার্চ জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে নিয়োগ পান জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসাইন। স্থানীয় রাজনীতিতে সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি জীবা আমিনা খানের ঘনিষ্ঠ শাহাদাতের আগে থেকেই বিরোধ ছিল এমপি ইলেন ভুট্টোর সঙ্গে। ইলেনের বিরুদ্ধে জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নও চেয়েছিলেন তিনি। প্রশাসক হওয়ার পর সেই বিরোধের তালিকায় যুক্ত হয় জেলার আরেক এমপি রফিকুল ইসলাম জামালের নাম। পরিস্থিতি এমন যে ঝালকাঠীতে বর্তমানে দুই ভাগে বিভক্ত বিএনপি। একদিকে জেলা পরিষদ প্রশাসক শাহাদাত আর অন্যদিকে নির্বাচিত দুই এমপি জামাল এবং ইলেন। এমন পরিস্থিতিতে জেলা পরিষদের আওতাধীন নানা উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকা করতে শুরু করেন শাহাদাত। প্রথম থেকেই অভিযোগ ওঠে, উন্নয়ন প্রকল্প প্রশ্নে সংসদ-সদস্যদের মতামতের কোনো তোয়াক্কা করছেন না তিনি। তাদের দেওয়া তালিকাগুলোও বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এরইমধ্যে ৭ কোটি ৫০ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়সাপেক্ষ ৪শ’র বেশি উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠান প্রশাসক শাহাদাত। এই তালিকা পাঠানোর পরপরই প্রকাশ্যে আসে দুই এমপির সঙ্গে জেলা পরিষদ প্রশাসকের দ্বন্দ্বের বিষয়টি।
গত ২৮ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে একটি যৌথ চিঠি দেন ঝালকাঠীর দুই সংসদ-সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল এবং ইলেন ভুট্টো। চিঠিতে তারা বলেন, ‘জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী পরিষদ পরিচালনা এবং উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে স্থানীয় সংসদ-সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ ও আলোচনা করার বিধান থাকলেও ঝালকাঠী জেলা পরিষদের ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। বর্তমান প্রশাসক তার একক সিদ্ধান্তে কোনোরকম সমন্বয় ছাড়াই প্রকল্প গ্রহণ করছেন।’ চিঠিতে সংসদ-সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া নেওয়া যে কোনো কর্মকাণ্ড স্থগিত রাখার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রীকে অনুরোধ জানান দুই এমপি।
রফিকুল ইসলাম জামাল এমপি বলেন, জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ প্রশ্নে নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়ার আইন রয়েছে। পদাধিকার বলে এমপিরা জেলা পরিষদের উপদেষ্টা। তিনি যখন এই আইন মানছেন না তখন বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো জরুরি মনে করেছি। এমপি ইলেন ভুট্টো বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকার দুই উপজেলার বেশ কিছু উন্নয়ন প্রস্তাবনা জেলা পরিষদে দেওয়া হয়েছিল। তার একটিও তালিকায় রাখেননি প্রশাসক। সব বাতিল করে নিজের একক ইচ্ছায় প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করেছেন।
আলোচ্য দুই এমপির একাধিক অনুসারী অভিযোগ করে বলেন, ভবিষ্যতে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পদ পাকাপোক্ত করতে অনুসারী সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান আর মেম্বার প্রার্থীদের পছন্দমতো প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন প্রশাসক। যে কারণে এমন বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া দুই এমপির অনুসারীদের কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করেননি তিনি।
জেলা পরিষদ প্রশাসক শাহাদাত হোসাইন বলেন, সংসদ-সদস্যদের পাঠানো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তা ঠিক নয়। ঝালকাঠী-২ আসনের এমপি ইলেন ভুট্টো নলছিটি পৌরসভাকেন্দ্রিক দুটি প্রকল্প পাঠিয়েছিলেন। জেলা পরিষদের আওতায় পৌর এলাকায় প্রকল্প গ্রহণ কিংবা বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ নেই। যে কারণে সেই প্রকল্প দুটি বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া উনাদের বেশ কিছু প্রকল্প উন্নয়ন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেই মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। তারপরও উনারা কেন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিলেন তা তারাই ভালো বলতে পারবেন। উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেই ৪ শতাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনা অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। এখন প্রকল্পগুলো যদি অনুমোদন না হয় তাহলে তো পুরো জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আটকে যাবে। আমি বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করব। দেখি তারা কী বলেন।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
গণভোট ব্যর্থ হলে সরকারকে ব্যর্থ করে দেওয়া হবে : বরিশালে বিরোধীদলীয় নেতা
কীর্তনখোলা নদীর পাড় দখল করে চাঁদাবাজি: মুক্তি চান ভোগান্তির শিকার ব্যক্তিরা
দক্ষিণাঞ্চলের ৯ নদীর পানি বিপদসীমা ছাড়াল
ভাঙ্গা–কুয়াকাটা ৬ লেনের ঘোষণা না আসায় দক্ষিণাঞ্চলে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া