Home » পটুয়াখালী » বাউফল » অধ্যক্ষের আবেদনের পর তদন্ত ছাড়াই সভাপতি পরিবর্তনের অভিযোগ; অনিয়মের বিচার দাবি স্থানীয়দের
২২ July ২০২৬ Wednesday ১১:৫৯:২৯ PM
অধ্যক্ষের আবেদনের পর তদন্ত ছাড়াই সভাপতি পরিবর্তনের অভিযোগ; অনিয়মের বিচার দাবি স্থানীয়দের
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার একটি ফাজিল মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে নিয়ম অনুসরণ না করে অপসারণের অভিযোগ উঠেছে। অধ্যক্ষের আবেদনের পর তদন্ত বা কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়েই সভাপতিকে পরিবর্তন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা। ঘটনাটি উপজেলার আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের মোহসেনুদ্দীন নূরিয়া ফাজিল মাদ্রাসায়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সুজন মৃধা, মো. নূরউদ্দিন, মো. ইমরান মৃধা ও মো. মারুফসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা। বক্তারা সভাপতিকে পুনর্বহাল এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। স্থানীয় সূত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় তিন বছরের জন্য মুহাম্মদ আবদুর রশিদকে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি হিসেবে মনোনীত করে। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিল-ভাউচার ও বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে স্বাক্ষরের নীতি অনুসরণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, পরে একজন তৃতীয় শ্রেণি ও তিনজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি সভাপতিকে না জানিয়েই প্রকাশ করা হয়। সংশ্লিষ্ট রেজুলেশনে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান সভাপতি। এর পর থেকেই অধ্যক্ষ আবদুর রহিমের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, অধ্যক্ষ গোপনে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে সভাপতিকে অপসারণের আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত ১৫ জুলাইয়ের এক চিঠিতে ভাইস-চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে আবদুর রশিদকে অপসারণ করে অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য অন্য উপজেলার মো. রুহুল আমিনকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়। এদিকে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি গঠনের নীতিমালায় বলা হয়েছে, সভাপতির বিরুদ্ধে অদক্ষতা, আর্থিক অনিয়ম বা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে হবে। সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তবেই ভাইস-চ্যান্সেলর সভাপতির পদ বাতিল করতে পারবেন। কিন্তু আবদুর রশিদকে এমন কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির মাধ্যমে এক প্রার্থীর কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা এবং আরেক প্রার্থীর কাছ থেকে চার লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষ আবদুর রহিমের বিরুদ্ধে। অতীতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তার এমপিওও স্থগিত হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ আবদুর রহিম। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে। সভাপতিকে অপসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তিনি সৎ মানুষ হলেও বয়সের কারণে শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতেন। এ কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে পরিবর্তন করেছে।” ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ফাহাদ আহমদ মোমতাজী বলেন, “অধ্যক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সভাপতি পরিবর্তন করা হয়েছে। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগগুলো আমাদের জানা ছিল না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৪১ হাজার কৃষক, সবচেয়ে বেশি ক্ষতি আমন বীজতলায়
বরিশাল বিদ্যুৎ সংযোগ ছাড়াই নভোথিয়েটারের ১৩ কোটি টাকা উধাও