“দাদু, আমার নাম ফরিদ গাজী, বাবার নাম শামসুল হক গাজী। বিলবিলাস বাজারের কাছে আমার বাড়ি। আমার একটা শখ জাগছে—আমি একটা জ্যাতা নোমো পুড়মু। সেক্ষেত্রে আপনাকে বাইছা নিছি, এক্ষেত্রে আপনার মন্তব্য কী? আপনি চাইলে কথা রেকর্ড করে রাখতে পারেন, আপনার সুবিধা হবে। সকালে আপনারে খুঁজে আসছি। কী জন্য, ওইডা সাক্ষাতে বলমু। আপনি এলাকায় আসতেছেন কবে?”
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার সদর ইউনিয়নের আসন্ন ইউপি নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডলকে মুঠোফোনে এভাবেই হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সদর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরিদ গাজীর বিরুদ্ধে। হুমকি দেওয়ার ওই কল রেকর্ড যমুনা টেলিভিশনের হাতে এসেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ভুক্তভোগী ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডল জানান, আসন্ন ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কারণে তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন ফরিদ গাজীসহ তার কয়েকজন সহযোগী। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে তাঁর কিছু সমর্থক শুভেচ্ছা ব্যানার ও ফেস্টুন টানিয়েছেন। কয়েকদিন ধরে ব্যানার-ফেস্টুন টানানোর কাজে নিয়োজিত লোকজনকে হুমকি দিয়ে আসছেন অভিযুক্ত ফরিদ। একই ঘটনার ধারাবাহিকতায় নিজের নম্বর থেকে কল করে তাকে হুমকি দেন ফরিদ গাজী। ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বাউফল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে ফরিদ গাজীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে কয়েকটি গণমাধ্যমকে অভিযুক্ত ফরিদ গাজী বলেছেন, এ বিষয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য নেই। গোবিন্দ চন্দ্র মন্ডলের লোকজন তাঁকে আগে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, “হুমকি দেওয়ার একটি কল রেকর্ড শুনেছি। ভুক্তভোগী একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আদালতের নির্দেশনা পেলে জিডির তদন্ত কাজ শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ফরিদ গাজী বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত দুই বছরে তাঁর বিরুদ্ধে মারধর, লুটপাট ও দখলসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ থানায় জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা হয়েছে এবং তাঁকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)