পটুয়াখালীর বাউফল পৌরশহর পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সরবরাহ করা হয়েছিল ডাস্টবিন। উদ্দেশ্য ছিল নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার অভ্যাস তৈরি করা এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা।
কিন্তু বাস্তবে সে উদ্যোগের সুফল মিলছে না। কোথাও ডাস্টবিন পড়ে আছে ময়লার ভাগাড়ে, কোথাও আবার ডাস্টবিন থাকলেও নিয়মিত ময়লা অপসারণ না করায় তা ব্যবহার করছেন না স্থানীয়রা। ফলে ডাস্টবিনে ময়লা ফেলার পরিবর্তে রাস্তাঘাটেই ফেলা হচ্ছে বর্জ্য। এতে ডাস্টবিন সরবরাহে ব্যয় করা ২৫ লাখ টাকা নিয়ে উঠেছে অপচয়ের প্রশ্ন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (আরবান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট- ইউআইআইপি) আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এসব ডাস্টবিন সরবরাহের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এবং ২০২৫ সালে ডাস্টবিনগুলো বাউফল পৌরসভায় সরবরাহ করা হয়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে বাউফল পৌরসভার জন্য ৭৬৫টি ডাস্টবিন সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬০০টি বিতরণ করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী এসব ডাস্টবিনের মোট মূল্য ২৫ লাখ ২৬ হাজার ২৫০ টাকা ৭৫ পয়সা। প্রতিটি ডাস্টবিনের মূল্য ৩ হাজার ৩০২ টাকা ২৯ পয়সা। পৌরশহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, স্কুল, কলেজ, অফিস, মাদ্রাসা ও খাবার হোটেলের সামনে ডাস্টবিনগুলো দেওয়া হয়।
তবে ডাস্টবিনগুলোর ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেকে ডাস্টবিন ব্যবহার করলেও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত সেখান থেকে ময়লা সংগ্রহ করেন না। ফলে ডাস্টবিন পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর আশপাশে বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ে। এতে ডাস্টবিন ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিতরণ করা ডাস্টবিনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এখন কার্যত ব্যবহার হচ্ছে না। কোনো কোনো ডাস্টবিন সরিয়ে অন্যত্র রাখা হয়েছে। আবার কোথাও ডাস্টবিন পড়ে আছে ময়লার ভাগাড়ে। ফলে যে ডাস্টবিনে ময়লা ফেলার কথা, সেটিই এখন ময়লার স্তূপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।
সরেজমিনে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, নির্দিষ্ট ডাস্টবিনের পরিবর্তে রাস্তার পাশে, ফুটপাতের ওপর এবং বিভিন্ন খোলা জায়গায় ময়লা ফেলা হচ্ছে। কোথাও ডাস্টবিন থাকলেও তার আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পচা-আবর্জনা। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্গন্ধে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুস ছালাম বলেন, ‘শুধু ডাস্টবিন সরবরাহ করলেই পৌরশহর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। ডাস্টবিন সঠিক স্থানে স্থাপন, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং এগুলোর যথাযথ ব্যবহারে নজরদারি প্রয়োজন। তা না হলে সরকারি অর্থ ব্যয় করে কেনা এসব ডাস্টবিন কোনো কাজে আসবে না।’
৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আরিফ বলেন, ‘ডাস্টবিনে ময়লা ফেললেও যদি নিয়মিত পরিষ্কার করা না হয়, তাহলে মানুষ সেখানে ময়লা ফেলতে চাইবে না। এখন অনেক জায়গায় ডাস্টবিনের বদলে রাস্তায় ময়লা পড়ে থাকতে দেখা যায়।’
৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘লাখ লাখ টাকা খরচ করে ডাস্টবিন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর অনেকগুলো এখন ব্যবহার হয় না। কোথাও আবার ডাস্টবিনই পড়ে আছে ময়লার ভাগাড়ে। তাহলে এত টাকা খরচ করে লাভ কী হলো?’
পৌরবাসীর প্রশ্ন, ২৫ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে সরবরাহ করা ডাস্টবিনের একটি বড় অংশ যদি ব্যবহার না হয় এবং রাস্তায় ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধ না হয়, তাহলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে?
তাদের দাবি, বিতরণ করা ডাস্টবিনগুলোর বর্তমান অবস্থা যাচাই করে যেগুলো ব্যবহার হচ্ছে না সেগুলো পুনরায় নির্ধারিত স্থানে স্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ ও ডাস্টবিন ব্যবহারে পৌরসভার কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।
এ বিষয়ে বাউফল পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈনুল হক বলেন, ‘স্কুল, কলেজ, অফিস, মাদ্রাসা ও খাবার হোটেলের সামনে ডাস্টবিনগুলো দেওয়া হয়েছে। আমরা তো দিয়েছি ভালো উদ্দেশ্যে। এখন কেউ যদি ডাস্টবিন নিয়ে খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে, সেটা দুঃখজনক বিষয়।’
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)