বরিশালের উজিরপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে একটি পরিবারের ওপর সশস্ত্র হামলা, বসতঘর ভাঙচুর ও বাবা-ছেলেকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় বাদীর বাবা গুরুতর আহত হয়ে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একই ঘটনায় এক নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে।
ঘটনার প্রতিকার চেয়ে উপজেলার মুংগাকাঠী গ্রামের আব্দুল খালেক হাওলাদারের ছেলে মো. মিলন হাওলাদার (৩৮) গত ১৬ সেপ্টেম্বর বরিশালের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা করেন। মামলায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৫-৬ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদীপক্ষের সঙ্গে আসামিদের দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। সীমানা নিয়ে বিরোধের জেরে এর আগে আদালতে মামলাও করা হয়েছে। এরপর থেকেই বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার আশঙ্কা তৈরি হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১২ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টার দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধভাবে বাদীর বাড়ির সামনে হাজির হন। তারা গালিগালাজ শুরু করলে বাদী ও তার বাবা আব্দুল খালেক হাওলাদার প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা সীমানার বেড়া ভাঙচুর শুরু করেন এবং বসতঘরের বিভিন্ন অংশে দা দিয়ে কোপাতে থাকেন। এতে প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে জসিম হাওলাদার দা দিয়ে বাদীর বাবা আব্দুল খালেক হাওলাদারের মাথা লক্ষ্য করে কোপ দেন বলে অভিযোগ। এতে তার মাথায় গুরুতর জখম হয়। পরে ছিদ্দিক হাওলাদারও দা দিয়ে মাথায় কোপ দিলে তা ঠেকাতে গিয়ে তার বাম হাতের পাতায় গুরুতর জখম হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে বাদী মিলন হাওলাদারের মাথা লক্ষ্য করেও দা দিয়ে কোপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এতে তার বাম কপালে গুরুতর জখম হয়। এছাড়া শাহ আলমের দা’র কোপে বাদীর বাবার ডান চোখের ওপরও জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলার সময় বাদীর মা নুরজাহান বেগমকেও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে তার কাপড় টানা-হেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদেরও মারধর করেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার পর আসামিরা ঘটনাস্থল ত্যাগের সময় বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে আব্দুল খালেকের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বাদী মিলন হাওলাদার বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের পরিবারের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)