দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দীর্ঘদিন পুলিশে দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে যান মতিউর রহমান ঢালী। তার মৃত্যুর পর তাদের বসতভিটা ও মায়ের কবরের জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী ও রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যের বিরুদ্ধে।
সাবেক মতিউর রহমান ঢালীর স্ত্রী সফুরা বেগম (সবুর বেগম)। তিনি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের রামপট্টি গ্রামের বাসিন্দা।
সফুরা বেগমের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে পারিবারিক প্রয়োজনে প্রতিবেশী ও রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাদেক হোসেনের কাছ থেকে সুদে ১৪ হাজার টাকা নেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ধার করা টাকার অনেকটা পরিশোধ করলেও সুদের হিসাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।ওই ঋণের বিপরীতে তার স্বামী মরহুম মতিউর রহমান ঢালীর মালিকানাধীন ৯ শতাংশ জমি বন্ধক হিসেবে দখলে নেন ইউপি সদস্য সাদেক হোসেন। পরবর্তী সময়ে বকেয়া টাকা পরিশোধ করে জমি ফেরত নেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি টাকা গ্রহণ করেননি। এর পর থেকে ওই ৯ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে ইউপি সদস্যের দখলে রয়েছে।
তিনি জানান, বাড়ির সামনে থাকা আরো ৪ শতাংশ জমিতে তার মায়ের কবর রয়েছে।একই জমি তিনি নিজের মৃত্যুর পর দাফনের জন্যও নির্ধারণ করে রেখেছেন। কিন্তু ইউপি সদস্য সাদেক হোসেন ওই ৪ শতাংশ জমিও নিজের কেনা সম্পত্তি বলে দাবি করে দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় ইউপি সদস্যের পক্ষ থেকে তিনি বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এতে তিনি নিরাপত্তাহীনতা ও চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সফুরা বেগম বলেন, ‘সুদের টাকার অজুহাতে আমার সবকিছু শেষ করে দিতে চান সাদেক হোসেন।কয়েক বছর আগে বাকি টাকা ফেরত দিতে চাইলেও টাকা নেননি। জোর করে ৯ শতাংশ জমি রেখে দিয়েছেন। এখন আমার মায়ের কবর দেওয়া ৪ শতাংশ জমিও নাকি তিনি কিনেছেন। আমি মারা গেলে আমাকে কোথায় দাফন করা হবে?’
স্থানীয় কয়েক জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৯ শতাংশ জমি এবং কবর থাকা ৪ শতাংশ জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। তবে জমির প্রকৃত মালিকানা, বন্ধক, ঋণের লেনদেন এবং ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, খতিয়ান, নামজারি ও ভূমি রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাদেক হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশালের যেসব নদীতে বড় লঞ্চ চলত সেগুলো এখন ‘মরা খাল’
বরিশালে নাশকতার বৈঠকের অভিযোগে আ.লীগের ১২ নেতাকর্মী আটক