Current Bangladesh Time
Monday October ২৬, ২০২৬ ৬:১৭ PM
Barisal News
Latest News
Home » বরিশাল » বাবুগঞ্জ » চার সন্তান প্রতিষ্ঠিত,বাবুগঞ্জে ভাড়া বাসায় মায়ের পচনধরা মরদেহ
২৬ October ২০২৬ Monday ৪:৪৭:৩৮ PM
Print this E-mail this

চার সন্তান প্রতিষ্ঠিত,বাবুগঞ্জে ভাড়া বাসায় মায়ের পচনধরা মরদেহ


নিজস্ব প্রতিনিধি:

বড় ছেলে সুমনের রাজধানীর উত্তরায় রয়েছে ছয়তলা ভবন। আছে বৈদ্যুতিক বোর্ড তৈরির কারখানা।ছোট ছেলে আওলাদও ঢাকায় কাজ করেন। দুই মেয়ে হিরা ও মুক্তাকেও বিয়ে দিয়েছেন ভালো পাত্রের সঙ্গে।সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে জীবনের বড় একটি সময় কাটিয়েছেন সৌদি আরবে। স্বামীর মৃত্যুর পর চার সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করতে করেছেন কঠোর পরিশ্রম।অথচ জীবনের শেষ সময়ে সেই তাহমিনা বেগমের (৬৫) ঠাঁই হয়েছিল বরিশালের বাবুগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায়। সেখানে একাই থাকতেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার নতুন হাট এলাকার ওই ভাড়া বাসা থেকে তাহমিনা বেগমের পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে দীর্ঘদিন পরিশ্রম করা এই মায়ের জীবনের শেষ দিনগুলো কেটেছে নিঃসঙ্গতায়। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, এক থেকে দুই দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত তাহমিনা বেগম উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের মৃত কদম আলী হাওলাদারের স্ত্রী। প্রায় তিন মাস ধরে তিনি নতুন হাট এলাকার ওই ভাড়া বাসায় একা বসবাস করছিলেন বলে জানিয়েছেন বাসার মালিক আব্দুর বারেক।

বাড়ির মালিক আব্দুর বারেক জানান, প্রায় তিন মাস আগে তাহমিনা বেগমকে তার বড় ভাই ওই বাসায় ভাড়া রাখেন। তিনি প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন। মাঝেমধ্যে বাজারের বিভিন্ন দোকানে ঘোরাফেরা করতেন। তবে গত দুই দিন তাকে বাইরে দেখা যায়নি। রোববার সকালে কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ বের হলে খোঁজ নিয়ে তার মরদেহের বিষয়টি জানা যায়। গত তিন মাসে তার ছেলে-মেয়েরা একবারের জন্যও তাকে দেখতে আসেননি বলে জানান তিনি।

স্থানীয় ও নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে স্বামী কদম আলী হাওলাদারকে হারান তাহমিনা বেগম। তখন তার চার সন্তান ছিল। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে স্বামীর বসতঘর বিক্রি করে সৌদি আরবে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে প্রায় ১০ বছর কাজ করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সন্তানদের লালন-পালন ও প্রতিষ্ঠিত করেন।

বড় ছেলে সুমন ঢাকার উত্তরায় বসবাস করেন। সেখানে তার ছয়তলা ভবন ও বৈদ্যুতিক বোর্ড তৈরির কারখানা রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। ছোট ছেলে আওলাদও ঢাকায় কাজ করেন। দুই মেয়ে হিরা ও মুক্তাকে ভালো জায়গায় বিয়ে দিয়েছেন। সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে দীর্ঘদিন পরিশ্রম করা তাহমিনা বেগম জীবনের শেষ দিকে বাবুগঞ্জের নতুন হাট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় একা থাকতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে তাহমিনা বেগমকে নতুন হাট এলাকার ওই বাসায় ভাড়া রাখেন তার বড় ভাই রমিজ। এরপর থেকে তিনি সেখানে একাই থাকতেন। অসুস্থতার কারণে মাঝেমধ্যে বাইরে বের হয়ে বাজারের বিভিন্ন দোকানে ঘোরাফেরা করতেন।

গত দুই দিন তাকে বাইরে দেখা যায়নি। শনিবার বিকেল থেকে বাসাটির আশপাশে দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। তবে প্রথমে বাড়ির মালিক আব্দুর বারেক ধারণা করেছিলেন, পাশের কোনো কক্ষে ইঁদুর মারা যাওয়ায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

রোববার সকালে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে তিনি তাহমিনা বেগমের কক্ষ থেকে গন্ধ আসার বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে তার বড় ভাইকে খবর দেওয়া হয়। তিনি বাসায় এসে কক্ষের দরজা কিছুটা খোলা দেখতে পান। ভেতরে প্রবেশ করে বোনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে বলে জানা গেছে।

প্রতিবেশী শাহানা বেগম বলেন, প্রায় তিন মাস আগে তাহমিনা বেগম ওই বাসায় আসেন। এর আগে কয়েকবার স্ট্রোক করেছিলেন বলেও শুনেছেন তারা। তার পা প্রায়ই ফুলে থাকত। হৃদ্‌রোগ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। ঠিকমতো খাওয়াদাওয়াও করতেন না। দিনের বেশির ভাগ সময় বাজারের বিভিন্ন দোকানে ঘোরাফেরা করতেন।

প্রতিবেশী আব্দুর রহিম হাওলাদার জানান, রাতে তাহমিনা বেগমের ছেলে মায়ের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে ছোট মামার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনিও বোনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। রোববার সকালে বড় ভাই ওই বাসায় এসে বোনের মরদেহ দেখতে পান।

বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, নিহতের বড় ভাই সকালে মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এক থেকে দুই দিন আগে ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাহমিনা আক্তারের ছেলে ও মেয়েরা কেউ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তাহমিনার স্বজন ও ছেলে-মেয়েরা প্রথমে পুলিশকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যেতে বাধা দেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেন বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

সম্পাদনা: আমাদের বরিশাল ডেস্ক

শেয়ার করতে ক্লিক করুন:

আমাদের বরিশাল ডটকম -এ প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
(মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। amaderbarisal.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের মিল আছেই এমন হবার কোনো কারণ নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে amaderbarisal.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নেবে না।)
বরিশাল মহানগরে বাড়ছে থানার সংখ্যা, হচ্ছে আরও চারটি
চাঁদাবাজি বন্ধে শিগগিরই নতুন আইন আসছে : আইজিপি
বরিশাল শিশু হাসপাতাল: নির্মাণের নয় বছর পরও তালাবদ্ধ
ডেঙ্গু রোগীর আলাদা ওয়ার্ড নেই শেবাচিমে
বরিশাল নগরীতে জলাশয় ভরাট থামছেই না, উদ্বেগ
Recent: Mayor Hiron Barisal
Recent: Barisal B M College
Recent: Tender Terror
Kuakata News

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
আমাদের বরিশাল ২০০৬-২০২০

প্রকাশক ও নির্বাহী সম্পাদক: মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, সম্পাদক: রাহাত খান
৪৬১ আগরপুর রোড (নীচ তলা), বরিশাল-৮২০০।
ফোন : ০৪৩১-৬৪৫৪৪, ই-মেইল: hello@amaderbarisal.com