বিএম কলেজে মেয়রপন্থী ছাত্রলীগ ক্যাডার মঈন তুষারের তান্ডবঃ অধ্যক্ষের কক্ষ ভাংচুর, আহত ছাত্রনেতা রফিক
 ছবিতে লাল বৃত্ত চিহ্নিত মেয়রপন্থী ছাত্রলীগ ক্যাডার মঈন তুষার – ফাইল ফটো
বরিশাল, ২৯ এপ্রিল (আহমেদ জালাল/আমাদের বরিশাল ডটকম): বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মেয়র শওকত হোসেন হিরনপন্থী ছাত্রলীগ ক্যাডার মঈন তুষারের হামলায় আহত হয়েছেন বিএম কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক রফিক সেরনিয়াবাত। আজ শুক্রবার দুপুরে বিএম কলেজ অধ্যক্ষ ননী গোপাল দাসের কার্যালয়ে শিক্ষকদের সামনে এই ঘটনা ঘটেছে। এমনকি এসময় অধ্যক্ষের কক্ষের টেলিফোন সেট ও চেয়ার বাহিরে ফেলে দেন মঈন তুষার ও নাহিদ সেরনিয়াবাত। এ হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেছেন রফিক সেরনিয়াবাত।
প্রত্যাক্ষদর্শী সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, আজ দুপুরে হিরনপন্থী ছাত্রলীগ ক্যাডার মঈন তুষার, ফাতেমা মমতাজ মলি, নাহিদ সেরনিয়াবাতসহ অন্যান্য ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ অধ্যক্ষের কাছে গিয়ে বাকসু নির্বাচন বিষয়ে জানতে চায়। তারা বলেন, বাকসু নির্বাচন বিষয়ে কোন তালবাহানা নয় নির্দিষ্ট তারিখ জানাতে হবে। এসময় মঈন তুষার অধ্যক্ষকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন ও বলেন নির্বাচন না হলে লাশ ফেলে দেয়া হবে। এই নিয়ে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে অধ্যক্ষ বাকসু নির্বাচন বিষয়ে এই মুহুর্তে তার অপারগতা প্রকাশ করে কার্যালয় ত্যাগ করেন। অধ্যক্ষ কার্যালয় ত্যাগ করে চলে গেলে মঈন তুষার ও নাহিদ সেরনিয়াবাত ক্ষিপ্ত হয়ে অধ্যক্ষের কক্ষের টেলিফোন সেট ও চেয়ার বাহিরে ফেলে দেন। এরমধ্যে হট্টগোলের খবর শুনে চলমান ল’ পরীক্ষা দিয়ে সেখানে আসেন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক রফিক সেরনিয়াবাত। এসময় রফিক সেরনিয়াবাত তাদের নিবৃত্ত করতে গেলে মঈন তুষার ও অপর যুগ্ন আহবায়ক নাহিদ সেরনিয়াবাত ক্ষিপ্ত হয়ে রফিক সেরনিয়াবাতের শার্টের কলার ধরে এলোপাথারি মারধর শুরু করে। পরে অন্য ছাত্র নেতারা সেরনিয়াবাতকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় কলেজ ক্যাম্পাসে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক পরিষদের সাধারন সম্পাদক এসএম কাউয়ুম উদ্দিন আহম্মেদ আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, তুষারের আচার আচরন অত্যন্ত আপত্তিকর ছিলো। তার এই ধরনের কর্মকান্ড মোটেই ঠিক হয়নি।
কলেজ অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাস আমাদের বরিশাল ডটকমকে জানান, তার কাছে শিক্ষার্থীরা বাকসু নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চেয়েছিল। কিন্তু তার ব্যক্তিগত কাজ থাকায় তিনি এই বিষয়ে কিছু বলতে না পেরে কলেজ ত্যাগ করেছেন। তবে তার আসার পরে চেয়ার-টেবিল ভাংচুর করা হয়েছে এবং ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ সেখানে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি করেছে বলে শুনেছেন।
ছাত্রলীগ নেতা রফিক সেরনিয়াবাতি বলেন, মঈন তুষার ও নাহিদ সেরনিয়াবাতসহ কিছু উশৃঙ্খল ছাত্র অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে তান্ডব চালায়। তারা অধ্যক্ষকে লাঞ্চিত করে তার কক্ষ ভাংচুর করে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করলে তারা আমার উপর হামলা চালায়।
মেয়র পন্থী ছাত্রনেতা যুগ্ম আহবায়ক মঈন তুষার এই ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, বাকসু নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি ঘটেছে।
বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন থানায় মামলা দায়েরের সত্যতা স্বীকার করেছেন। সূত্র জানায়, কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক রফিক সেরনিয়াবাত বাদি হয়ে মঈন তুষারকে প্রধান করে ৬জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার অপর আসামীদের মধ্যে রয়েছে নাহিদ সেরনিয়াবাত, সাঈদী, হাবিব, শোভন, উজ্জল। এর বাইরে এ মামলায় ৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করা হয়েছে।
–
(আমাদের বরিশাল ডটকম/বরিশাল/আজা/তাপা)
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |