ছাত্রলীগ ক্যাডারদের তান্ডব কলেজ অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে কক্ষ ভাংচুর, শিক্ষক লাঞ্চিত
 ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হামলা থেকে অধ্যক্ষ ড. ননী গোপাল দাসকে বের করার চেষ্টা করছেন উপস্থিত শিক্ষকরা। এসময় এক শিক্ষক লাঞ্চিত হন (ছবিঃ মিজানুর রহমান/আমাদের বরিশাল ডটকম)
বরিশাল :: ছাত্র সংসদ (বাকসু) নির্বাচনের দাবীতে আজ মঙ্গলবার বরিশালের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে খ্যাত ব্রজমোহন বিশ্ববিদ্যালয় (বিএম) কলেজের অধ্যক্ষ ড. ননী গোপাল দাসকে অবরুদ্ধ করে তার কক্ষ ভাংচুর করেছে ছাত্রলীগ নামধারী ক্যাডাররা। এসময় তাদের বাধা দিতে গিয়ে এক শিক্ষক শারীরিকভাবে লাঞ্চিত হন। একপর্যায়ে অবরুদ্ধকারীরা জোর করে অধ্যক্ষের কাছ থেকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার লিখিত আশ্বাস নিয়ে চলে যায়। ২৪ মে বৃহষ্পতিবার সকাল সাড়ে ১১ টায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ননী গোপাল দাস কতিপয় শিক্ষার্থী নামধারী ক্যাডার ও পুলিশের আচরনে ক্ষোভ প্রকাশ করে তাৎক্ষনিক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বাকসু নির্বাচন আমিও চাই। এ কারনে যেখানে আমার যাওয়ার কথা নয় সেখানেও গিয়েছি। তারপরেও কাজ হয়নি। আজ কিছু অছাত্র আমাকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল দিয়েছে। নির্বাচনের আশ্বাস দিলেও তারা আমার কাছ থেকে জোর করে লিখিত নিয়ে গেছে। এমনকি পুলিশকে অনুরোধ করেছিলাম, বিশৃঙ্খলা করলে কাউকে ভিতরে প্রবেশ করতে যেন না দেওয়া হয়। তারপরও এ ঘটনা ঘটল।’
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ২৪ মে বৃহষ্পতিবার সকাল ১১ টায় বাকসু নির্বাচনের দাবীতে মেয়র হিরন সমর্থিত ছাত্রলীগ ক্যাডাররা প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি ক্যাম্পাসের সড়ক প্রদক্ষিন করে মসজিদ গেটের সামনে প্রধান সড়কে টায়ার জ্বালায়। আন্দোলনকারীরা কলেজের সামনের সড়কের উপর টেবিল ফেলে প্রায় আধাঘন্টা সড়কটি অবরোধ করে। এসময় নথুল্লাবাথ এলাকার সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় ও ক্যাম্পাসের সাধারন শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।
 বিএম কলেজের অধ্যক্ষ ড. ননী গোপাল দাসকে অবরুদ্ধ করে তার কক্ষ ভাংচুর করছে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা (ছবিঃ মিজানুর রহমান/আমাদের বরিশাল ডটকম)
অবরোধ শেষে তারা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যাওয়ার চেস্টা করলে পুলিশ প্রশাসনিক ভবনের সামনে তাদের বাধা দেয়। পুলিশের বাধা উপেক্ষা করতে চাইলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লাঠিপেটা করে। এসময় বিক্ষোভকারীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়কে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। লাঠিপেটার সময় ইটের আঘাতে উপ-পরিদর্শক কুদ্দুস ও কনস্টেবল রহিম নামের দুই পুলিশ আহত হয়। পুলিশের বাঁধা পেরিয়ে কয়েকজন ক্যাডার অধ্যক্ষকে প্রায় দশ মিনিট অবরুদ্ধ করে তার কক্ষের জানালা ভাংচুর চালায়। তাদের বাধা দিলে মো. ইউনুস নামের এক শিক্ষককে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করে ছাত্রলীগ নামধারী ক্যাডাররা। এসময় মেয়রপন্থী কয়েকজন উশৃঙ্খল ছাত্রলীগ ক্যাডার অধ্যক্ষকে অশ্লীল ভাষায় গালাগালাজ করে তার কাছ থেকে জোর করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার লিখিত আশ্বাস নেয়। এরপর আন্দোলনকারীরা কলেজের জিরো পয়েন্টে গিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সমাবেশে অধ্যক্ষের লিখিত আশ্বাসের পড়েও নির্বাচনের তফসিল ঘোষনা না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে তারা জানান।
জোর করে লিখিত নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ন-আহ্বায়ক মঈন তুষার আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, অধ্যক্ষ এর আগের মৌখিকভাবে দুই বার নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কথা না রাখতে পারলে পদত্যাগ করবেন বলেও শিক্ষার্থীদের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু তিনি কোন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। তাই সেচ্ছায় তার কাছ থেকে লিখিত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কেউ কোন অশ্লীল কথা বলেনি বলে তিনি দাবী করেন।
এদিকে বিএম কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুল বারী চয়ন জানান, এ মুহূর্তে বাকসু নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। এ পরিস্খিতিতে তফসিল ঘোষণা হলে তাদের অংশ গ্রহণ না করার সম্ভাবনা বেশি।
কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর হোসেন আমাদের বরিশাল ডটকমকে বলেন, আন্দোলনকারীদের বাঁধা দেওয়ার সময় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এছাড়া ক্যাম্পাসে অপ্রিতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সম্পাদনা: সেন্ট্রাল ডেস্ক |